• Breaking News

    মণিপুরের ফুটবলারের গোলে হার নর্থইস্টের!

     

    নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি ০   মুম্বই সিটি এফসি ১


                                           (জ্যাকিচাঁদ ৪৫)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2207" align="alignleft" width="300"]জ্যাকিচাঁদ সিং, গোলের পর। ছবি - আইএসএল জ্যাকিচাঁদ সিং, গোলের পর। ছবি - আইএসএল[/caption]

    চেন্নাইয়িন এফসি, আতলেতিকো দে কলকাতার পর মুম্বই সিটি এফসি। টানা তিনটি হার ঘরের মাঠ ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে। তৃতীয় ইন্ডিয়ান সুপার লিগে নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে লিগ তালিকায় শীর্ষে থেকে শুরু করলেও ক্রমশ নেমে আসছে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি। আর শনিবারের ম্যাচে তাঁদের হারানোর পেছনে সরাসরি ‘পা’ থেকে গেল নর্থইস্ট-এরই এক ফুটবলারের। মণিপুরের জ্যাকিচাঁদ সিংয়ের গোল গুয়াহাটিতে হারাল নর্থইস্টকে!

    গোলের জন্য অবশ্য জ্যাকিচাঁদের কৃতিত্ব কম, বরঞ্চ অনেক বেশি দায়ী নর্থইস্টের তৃতীয় গোলরক্ষকের ভুল। সুব্রত পাল আহত, রেহনেশও। নেলো ভিনগাদার আর কোনও উপায় ছিল না, ব্রাজিলীয় গোলরক্ষক লিমা গোমেসকে নামানো ছাড়া। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলীয় ফুটবলাররা বিখ্যাত পায়ের কাজের জন্য। কিন্তু গোমেস-এর পায়ের কাজ ডেকে আনল বিপদ! ব্যাকপাস থেকে বল পেয়েছিলেন পায়ে। মুম্বইয়ের সোনি নর্দে বল তাড়া করে এসেছিলেন। গোমেস সুন্দর কাটিয়ে নিয়েছিলেন। নির্ভাবনায় বল নিয়ে এগোতে চেয়েছিলেন। পেছন থেকে সুযোগসন্ধানী হাইতির ফরোয়ার্ড পা বাড়িয়ে বল এগিয়ে দেন সামনে থাকা জ্যাকিচাঁদের জন্য। গোল করতে কোনও ভুল করেননি জ্যাকিচাঁদ।

    ৬ মিনিটেই অবশ্য গোল পেতে পারতেন জ্যাকিচাঁদ। দিয়েগো ফোরলান দুর্দান্ত বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। জ্যাকিচাঁদ বলে বাঁ-পা লাগিয়েছিলেন। কিন্তু বল নর্থইস্টের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও তিনকাঠিতে থাকেনি। ২০ মিনিটে একইভাবে সুযোগ নষ্ট করেছিলেন হোলিচরণ নার্জারি, নর্থইস্টের পক্ষে। কাতসুমি ইউসার থ্রু পেয়ে গিয়েছিলেন একেবারে ফাঁকায়, বক্সের বাঁদিকে। কোণ থেকে দূরের পোস্টে রাখলে সমস্যায় পড়তেন মুম্বইয়ের গোলরক্ষক আলবিনো গোমস। কিন্তু নার্জারির শট তিনকাঠিতেই ছিল না।

    আলবিনো অবশ্য ৩০ মিনিটে দুর্দান্তভাবে বাঁচান আলফারোর শট। ইউসা-র কাছ থেকে বল পেয়েছিলেন আলফারো, বুকে। নিখুঁত রিসিভ করে পড়ন্ত বলে জোরালো ভলি নিয়েছিলেন। আলবিনো ছিলেন সতর্ক। গোল হতে দেননি। ৭৭ মিনিটে ইউসার কর্নার থেকে সরাসরি বল মাথায় পড়েছিল সেইত্যাসেনের। তাঁর হেড আলবিনোর হাতে সোজা। সেই কর্নারের আগে অন্তত তিনবার বক্সের মধ্যে থেকে শট নিয়েছিলেন নর্থইস্টের ফুটবলাররা, প্রতিবারই বক্সের মধ্যে ডিফেন্ডারদের ভিড়ে, গোইয়ান ও আলবিনোর কারণে, সমতা ফেরেনি। ঠিক তারপরই প্রতি আক্রমণে উঠে গিয়েছিলেন পরিবর্ত দেফেদেরিকো। একা পেয়েও গিয়েছিলেন গোমেসকে। কিন্তু বল রাখতে পারেননি তিনকাঠিতে। ২-০ হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন সোনির জায়গায় মাঠে-আসা দেফেদেরিকো।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গণ্ডগোল। ইউসা আর সেনা রালতের মধ্যে প্রথমার্ধ থেকেই চোরাগোপ্তা ধাক্কাধাক্কি চলছিল। ৪৯ মিনিটে ইউসাকে ফাউল করেছিলেন রালতে। ইউসা মাটি থেকে উঠেই ধাক্কা মারেন, বুক দিয়েই। সেখানেই শেষ নয়। জোকোরা এসে সরাসরি দুহাত দিয়ে ধাক্কা মারেন রালতে-কে, যে-কারণে রালতে পড়ে যান মাটিতে। মাঠে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি। রেফারি তিনজনকেই হলুদ কার্ড দেখান। তার ঠিক পড়েই আবার রালতের পাশ দিয়ে যাওযার সময় ইউসা আগের ঘটনা মাথায় রেখেই ধাক্কা দিয়ে চলে যান। রেফারি কড়া হলে অন্যরকম হতেই পারত!

    চতুর্থ জয় পেল মুম্বই। ৯ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট, আলেকজান্দ্রে গিমারায়েসের মুম্বই এখন শীর্ষে। ২ পয়েন্টের ব্যবধান, দ্বিতীয় স্থানে-থাকা দিল্লির সঙ্গে। কলকাতা তৃতীয়, কিন্তু রবিবার পুনেকে হারালে আবার পৌঁছে যাবে ১৫ পয়েন্টে। নর্থইস্ট ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে থেকে গেল পঞ্চম স্থানেই।

    No comments