• Breaking News

    জিতে আবাস কলকাতাকে ছিটকে দিলেন প্রথম চার থেকে

    এফসি পুনে সিটি ৪ দিল্লি ডায়নামোস ৩

    (আনিবাল ৫৫, ৬৩, সিসোকো ৬২, লেনি ৯৪)  (লুইস ৪৪, এদুয়ার্দো-আত্মঘাতী ৭৯, সনতেয়া ৯৫)

     

    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2545" align="alignleft" width="300"]গোলের উৎসব পুনের ফুটবলারদের। ছবি – আইএসএল গোলের উৎসব পুনের ফুটবলারদের। ছবি – আইএসএল[/caption]

    ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ। এফসি পুনে সিটি কাজে লাগাল দুর্দান্তভাবে। হারাল লিগ তালিকার শীর্ষে-থাকা দিল্লি ডায়নামোসকে, দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত খেলে। ম্যাচে সাত গোল, ইনজুরি টাইমে যার দুটি। গ্রুপ লিগ পর্যায় যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, জমে উঠছে তৃতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের সিঁড়ি-ভাঙা অঙ্ক!

    কলকাতা ছেড়ে পুনে-তে এসেছিলেন কোচ আন্তোনিও আবাস। এবারের আইএসএল-এ কলকাতাকে প্রথমবার ছিটকে দিলেন তালিকায় প্রথম চার থেকে। শীর্ষে থাকা দল দিল্লি ডায়নামোসকে পুনের শ্রী শিব ছত্রপতি স্পোর্টস কমপ্লেক্স স্টেডিয়ামে হারিয়ে। পুনে উঠে এল চতুর্থ স্থানে, ১১ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে।

    পুনের এই ব্যবধানও বাড়তেই পারত। ২৪ মিনিটে আনিবালকে আটকাতে গিয়ে বক্সে ফাউল করেছিলেন কিমা। রেফারি ফাউল দিতে দ্বিধা করেননি। পেনাল্টি নিতে এগিয়েছিলেন মার্কি ফুটবলার সিসোকো। কিন্তু তাঁর দুর্বল শট নিজের বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে সহজেই আটকে তখন নায়ক হয়ে গিয়েছিলেন দিল্লির গোলরক্ষক সোরাম পোইরেই।

    সাতের প্রথম গোল প্রথমার্ধের শেষপর্বে। দিল্লি ডায়নামোসই এগিয়ে গিয়েছিল, কিন লুইসের গোলে। মার্সেলিনহোর ব্যাক হিল থেকে বল পেয়েছিলেন এমেরসন গোমস, যিনি পেনাল্টি বক্সে বল পাঠিয়েছিলেন, অরক্ষিত লুইসের জন্য। বিনা বাধায় গোল করে গিয়েছিলেন লুইস!

    বিরতিতে আবাস কী বলেছিলেন, জানা কঠিন। কিন্তু ঘরের মাঠে পুনে এবার নেমেছিল সর্বস্ব পণ করেই। ৫৫ মিনিটে ১-১, আনিবালের। তাঁকে ফাউল করেছিলেন তেবার। জোনাথন লুক্কার ফ্রি কিক বক্সে পৌঁছল যখন, দিল্লির দুই ডিফেন্ডার আনাস ও আডির মাথা পেরিয়ে উঠলেন আনিবাল, হেড রাখলেন জালে।

    দ্বিতীয় গোলও একই দিক থেকে, ফাউলের পরবর্তী ফ্রি কিক থেকে। আবারও লুক্কার ফ্রি কিক বক্সে। এবার প্রথমে গৌরমাঙ্গি ও পরে আরও একজন দিল্লির ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল পেয়ে গিয়েছিলেন সিসোকো। পেনাল্টি মিস করার শোধ তুললেন যেন! জোরালো শট এবার, সোরামকে কোনও সুযোগ না দিয়ে।

    ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন আনিবাল তার পরের মিনিটেই। এবার গোলরক্ষক সোরামের পাস ধরতে ভুল করেন দিল্লির ডিফেন্ডার রুবেন, যিনি বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। আনিবাল ছিলেন পেছনেই। বল ধরে ডানপায়ের দুর্দান্ত শটে ৩-১ এগিয়ে দেন পুনেকে। প্রথমবার আইএসএল-এর ইতিহাসে দিল্লিকে হারানোর দিকে এগিয়ে গিয়েছিল আবাসের দল। দুটি গোল আনিবালকে এনে দেয় ম্যাচের নায়কের সম্মানও।

    কিন্তু, দিল্লি ফিরে আসার জন্য প্রসিদ্ধি অর্জন করে ফেলেছে জামব্রোতার প্রশিক্ষণে। ৬৮ মিনিটে মার্সেলিনহো পেরিয়ে গিয়েছিলেন এদুয়ার্দোকে। তাঁর শট অবশ্য দূরের পোস্টের ঠিক বাইরে দিয়ে যায়। ৭৯ মিনিটে ২-৩। মালুদার শট নিজের গোলে পাঠিয়ে দেন এদুয়ার্দো ফেরিরা। আগের ম্যাচেই দশজনে কলকাতার বিরুদ্ধে দুবার পিছিয়েও ফিরে আসার কথা মনে পড়া স্বাভাবিক তখন।

    দিল্লিকে অবশ্য আর ফিরে আসার সুযোগ দিতে রাজি ছিলেন না ৭৩ মিনিটে পরিবর্ত হিসাবে লিংদোর জায়গায় মাঠে-আসা লেনি রদরিগেজ। আরাতা থেকে লুক্কা হয়ে লেনির কাছে পৌঁছেছিল বল। দিল্লি রক্ষণ তখন তৃতীয় গোল করে সমতা ফেরানোর চেষ্টায় ফাঁকা। লেনি সহজেই গোলে রেখে ৪-২ এগিয়ে দিয়েছিলেন।

    চতুর্থ রেফারি তার আগেই জানিয়েছিলেন ৬ মিনিট ইনজুরি টাইম-এর কথা। ম্যাচে অবশ্য নাটক বাকি ছিল আরও। তারপরের মিনিটে মালুদার শট বাঁচিয়েছিলেন এদেল বেতে। কিন্তু বল সরাসরি সামনে এগিয়ে আসা সনতেয়ার কাছে, যাঁর ড্রপ ভলি আটকানো সম্ভব ছিল না বেতের পক্ষে। ম্যাচের সপ্তম গোল! এবারের আইএসএল-এ সবচেয়ে বেশি গোলের ম্যাচ।

    ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ ছিল আবাসের। শেষ চার ম্যাচে তৃতীয় জয় পেয়ে যাঁর দল ষষ্ঠ স্থান থেকে উঠে এসে এখন চতুর্থ। দিল্লি অবশ্য শীর্ষেই থাকল, মরশুমে দ্বিতীয় হারের পরও, ১৭ পয়েন্টে। কিন্তু এই ম্যাচ নিশ্চিতভাবেই বলে দিয়ে গেল, আইএসএল-এর শেষপর্বে সেমিফাইনালে জায়গা পাওয়ার লড়াই ঠিক কতটা তীব্র হতে চলেছে!

    No comments