• Breaking News

    জীবনের সেরা সাফল্য, বললেন খালিদ / শান্তনু ব্যানার্জি



    • ‘বিরতিতে ফুটবলারদের বলেছিলাম, এই ৪৫ মিনিট তোমাদের জীবনে আর ফিরে আসবে না। সর্বস্ব দিয়ে এসো মাঠে।’




    শান্তনু ব্যানার্জি


    দরকার ছিল একটিই পয়েন্ট। পাহাড়ের ক্লাসিকো-য় যা তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত  আই লিগে চ্যাম্পিয়ন আইজল এফসি। শিলং লাজংয়ের বিরুদ্ধে তাদের মাঠে গিয়ে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল আইজল, আই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা দিপান্দা দিকার গোলে। পরে উইলিয়াম ফেলা সমতা ফেরান। সেই গোলেই এল খেতাব।

    ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যে ভারতসেরা ফুটবল ক্লাবের খেতাব গেল এই প্রথম। অথচ, গতবার এই আইজল এফসি-ই পড়েছিল অবনমনে। নেমেই যেতে হত, যদি না ডেম্পো, সালগাওকার এবার আই লিগ থেকে নাম তুলে না-নিত। সেই অবনমনে থাকা মিজোরামের দলই চ্যাম্পিয়ন। সঙ্গত কারণেই তাদের বলা হচ্ছে ভারতের লেস্টার সিটি। ইপিএল-এ গতবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল যারা।

    স্বভাবতই খুশি আইজলের কোচ খালিদ জামিল। খেলা শেষে বললেন, ‘খুব খুশি। কোচ হিসাবে আমার জীবনের সেরা সাফল্য নিঃসন্দেহে। প্রতি বছরই হিরো আই লিগ শুরুর সময় নিজেকে বলতাম, এবার জিততেই হবে। কিন্তু, হচ্ছিল না। এবার পারলাম। তাই আনন্দের সীমা নেই।’

    ফুটবলারদের কীভাবে উদ্দীপ্ত করেছিলেন, তা-ও জানিয়েছেন খালিদ। ‘বিরতিতে ফুটবলারদের বলেছিলাম, এই ৪৫ মিনিট তোমাদের জীবনে আর ফিরে আসবে না। তোমরা জানো, খেতাব থেকে মাত্র ৪৫ মিনিট দূরেই আছো। সর্বস্ব দিয়ে এসো মাঠে। দ্বিতীয়ার্ধে সবাইকেই বাড়তি উদ্বুদ্ধ হয়ে খেলতে হবে।’

    মুম্বই তাঁকে রাখেনি। সেই অপমান সঙ্গে নিয়েই এসেছিলেন মিজোরামে। আর মুম্বই তো এবার নেমেই গিয়েছে, যদিও, সবচেয়ে বেশি সুবিধা করে গিয়েছিল তাঁর আইজলেরই, মোহনবাগানের কাছ থেকে দু-পর্বেই পয়েন্ট কেড়ে নিয়ে। আইজলের সাফল্যের জন্য বারবারই উঠে আসছে তবু খালিদের নাম, যা নিয়ে সন্তুষ্ট নন কোচ।

    ‘একা আমার তো এই খেতাব নয়। কোনও ব্যাক্তিরও নয়, খেতাব দলগত। এটা সবার, সব ফুটবলারের, ক্লাবের সঙ্গে জড়িত সবার। টিমওয়ার্ক’, বলেছেন খালিদ।

    ‘সবার ওপরে এই খেতাব ফুটবলারদের। ওরাই তো মাঠে খেলেছে, ভাল খেলেছে, জিতেছে। ট্রফিটা ওদের।’

    কলকাতায় সঞ্জয় সেন যেমন রানার্স হয়ে প্রশংসা করেছেন আইজলের, শিলংয়ে তাদের শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ লাজংয়ের কোচ থংবই সিংটো-ও অভিনন্দন জানিয়েছেন নতুন চ্যাম্পিয়নদের। ‘গোটা প্রতিযোগিতা জুড়ে ভাল খেলে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ধারাবাহিক ছিল ওরাই। তাই এই খেতাব ওদের প্রাপ্য।’

    ম্যাচ শুরুর আগে অবশ্য আইজল থেকে প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছিল সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার কাছে। সেই চিঠিতে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ যে, লাজং-আইজল ম্যাচে চারজন রেফারিই বাংলার, এই ব্যাপারটা তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি।

    এআইএফএফ সচিবকে দেওয়া সেই চিঠির বক্তব্য ছিল, ‘মোহনবাগান আছে খেতাবি লড়াইতে। শেষ ম্যাচের ফলের ওপরই নির্ভর করবে, চ্যাম্পিয়ন হবে কারা। সেই পরিস্থিতিতে বাংলারই চারজন রেফারি আমাদের ম্যাচে দায়িত্বে থাকবেন, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হল কিনা এই সিদ্ধান্তে, মেনে নিতে পারছি না। আমরা কিন্তু চেয়েছিলাম, এআইএফএফ এই সিদ্ধান্ত বদল করুক।’

    প্রয়োজনীয় এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে নিজেদের দক্ষতার ভরসাতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অবশ্য এই ব্যাপারে আর কোনও প্রশ্ন উঠবে না, নিশ্চিত!

    No comments