• Breaking News

    পাহাড়ে আবার হেরে বিপাকে মোহনবাগান

    তীরে এসে কি ডুবল পালতোলা তরী? ‘লেস্টার সিটি’ হয়ে উঠতে আইজলের চাই আর একটিই পয়েন্ট


    আইজল – ১     মোহনবাগান – ০


    (জোতেয়া ৮৩)


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    তীরে এসে কি ডুবল পালতোলা তরী?

    পাহাড়ে পা পিছলে যাওয়ার ইতিহাস সঞ্জয় সেনের আমলে নতুন নয়। গত বছরও আইজল ও লাজংয়ের কাছে হেরে খেতাবি দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। এবারও হারলেন আইজলের কাছে। হেরে কাজটা কঠিন হয়ে গেল মোহনবাগানের। নিজেদের হাতে আর থাকল না খেতাব-জয়।

    wr8দু-দলেরই একটি করে ম্যাচ বাকি। মোহনবাগান ঘরের মাঠে খেলবে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে। একই সময় শিলংয়ে লাজংয়ের বিরুদ্ধে খেলবে আইজলও। পাহাড়ের দুই দল সমতলের দলকে ট্রফি না-জিততে দিতে বদ্ধপরিকর হয়ে আইজলকে জিতিয়ে দেবে, এমন একটা ‘নাগরিক’ ভাবনা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় ফুটবলের আকাশবাতাস বিদীর্ণ করবে, আগামী সপ্তাহখানেক। কিন্তু, রূঢ় বাস্তব হল, ওই ম্যাচ থেকে একটা পয়েন্ট পেলেই চ্যাম্পিয়ন খালিদ জামিলের আইজল এফসি! লেস্টার সিটি হয়ে উঠতে চাই আর একটিই পয়েন্ট।

    এই ম্যাচের গায়ে-গায়ে লেগে ছিল মেঘের মতোই সাহেব-গন্ধ। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল মেতে রয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। তাদের দেখে দেখে জার্সি পরে মাঠে আসা, গান গাওয়া, সমর্থনে উদ্বেল হওয়া। তুমল বৃষ্টি ঝেঁপে এলে ছাতা নিয়ে পাহাড়ের ঢালে দাঁড়ায় মানুষ। মাঠে মেঘ এসে ঢেকে দেয় দৃষ্টি। ঝাপসা চোখে আন্দাজনির্ভর ফুটবলও, কখনও কখনও। মিজোরামের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম এই সব দৃশ্যই দেখল, যা দেখাতে গিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরা হোঁচট খেল বারবার। মেঘের আড়াল থেকে যুদ্ধ করতে পারতেন ‘রামায়ণী’ মেঘনাদ, টিভি ক্যামেরার সেই শক্তি নেই যে!

    কলকাতার এক ক্লাবকে আই লিগের খেতাবি লড়াই থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে ফরেস্ট গেট-এ জন্মানো ইংরেজ কোচের কারণে। আর এক ক্লাবকেও কি ছিটকে দিলেন স্কটিশ ড্যারিল ডাফি?

    দ্বিতীয় মিনিটে ফাউল, তৃতীয় মিনিটে সোনার পাস। কী করে সোনি নর্দের ওই পাসটা থেকে গোল করত পারলেন না ড্যারিল ডাফি, সবুজমেরুন জনতা চিরকাল মনে রাখবেন, এবার আই লিগ না-পেলে। আইজলের তিন ফুটবলারের বাড়ানো পা এড়িয়ে ঠিক পৌঁছে গিয়েছিল স্কটিশ ডাফির পায়ে। ডাফি বল পেয়েও আগুয়ান গোলরক্ষক আলবিনো গোমসের পায়ে মারেন। রবীন্দ্র সরোবর হলে হয়ত নিশ্চিত গোল। এবার আই লিগে বাইরের মাঠে যে এখনও গোল নেই ডাফির‌! ওই সময়ে গোল মানে কিন্তু ট্রফি নিয়ে ফিরতেই পারত মোহনবাগান।

    পরিবর্তে ফিরে আসতে হল হার, একগাদা টেনশন আর আশঙ্কা নিয়ে। সিরিয়ার আল আমনার কর্নার গিয়েছিল দূরের পোস্টে। উঁচু বল ধরতে বেরিয়ে এসেছিলেন দেবজিৎ। কিন্তু তিনি বলে পৌঁছনোর আগেই জোমিনলিয়ানা রালতের হেড। এদু-আনাসরা অন্যত্র, রাজু গায়কোয়াড়ের সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিই হল গোলরক্ষক দেবজিৎ মজুমদারের। সে সব নিয়ে কেনই বা ভাবতে যাবেন জোতেয়া রালতে! তিনি তো তখন সাইডলাইনে সতীর্থদের অভিনন্দনে ভেসে যাচ্ছেন, মেঘের মতোই!

    খালিদ জামিলকে খুব খারাপভাবে তাড়ানো হয়েছিল মুম্বই থেকে। আইজলে এসে দলটা গড়েছেন। আগের কোচ জহর দাস কাজ এগিয়েই রেখেছিলেন, জামিল এনেছেন নিজস্বতা। প্রথমার্ধে মেঘের কারণে তো বটেই, কৌশল করেও ততটা আক্রমণে এলেন না। দ্বিতীয়ার্ধে খুলে দিলেন আগল। বুঝে নিয়েছিলেন, এক পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছেন সঞ্জয় সেন। না হলে সোনি নর্দে এত পিছিয়ে, অধিনায়ক কাতসুমি ইউসা রক্ষণে নামতে গিয়ে মাঠেই নেই প্রায়?

    বিরতির পরের পনের মিনিটে আইজল ত্রাহি ত্রাহি রব তুলে দিয়েছিল বাগান রক্ষণে। সোনির সেই থ্রু বলের মতোই সোনার থ্রু, দানমাউইয়ার, ৪৯ মিনিটে। শুধু, যাঁর উদ্দেশে বাড়িয়েছিলেন‌, আল আমনা, পৌঁছনোর ঠিক আগের মুহূর্তে দেবজিৎ পৌঁছে যান। আইজলের গ্যালারিজুড়ে হাহুতাশ।

    তারপরই দানমাউইয়ার নিজের মিস, ৫৭ মিনিটে। বাগান বক্সে উড়ে এসেছিল সেন্টার। আল আমনা ঠিক সময়ে ছেড়ে দেন দানমাউইয়ার জন্য। কিন্তু দানমাউইয়ার শট আটকে দেন প্রীতম কোটাল। ৫৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন আমনা। বল বক্সের মধ্যে হাতে লেগেছিল এদু-র। কিন্তু রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেননি। আইজলের ফুটবলারদের বারবার আবেদন সত্ত্বেও।

    তবে, আইজলও পারত আই লিগ জিতেই যেতে, শনিবারই। সবে ইনজুরি টাইমে গড়িয়েছে খেলা। সোনির কর্নার থেকে গোলশোধ করার জন্য গোটা মোহনবাগানই তখন বিপক্ষ বক্সে। কিন্তু, কর্নার বের করে দিলেন লালতানপুইয়া, পরিবর্ত হিসাবে যিনি মাঠে এসেছিলেন ঠিক এক মিনিট আগে। সেই বল নিয়ে আইজল গেল প্রতি আক্রমণে। আল আমনা, ম্যাচের সেরা বললে অত্যুক্তি হবে না যাঁকে, বল বের করে দিয়েছিলেন চুলোভার জন্য, বাঁদিক দিয়ে উঠে আসছিলেন যিনি। হাতে প্রচুর সময়, সামনে প্রচুর ফাঁকা জায়গা। কামো বা আমনার জন্য সাজিয়ে দেওয়ার। কিন্তু, চুলোভা কোথায় দিলেন, কাকে দিলেন, কেন দিলেন!

    মোহনবাগানের আশা টিকে থাকল ওই কারণেই, মিজো-মেঘে ঝাপসা হয়েও। আইজল এখন ৩৬, মোহনবাগান ৩৩। হাতে এক ম্যাচ। আগামী রবিবার জিতলে মোহনবাগানের ৩৬ পয়েন্ট হবে। কিন্তু, লাজংয়ের বিরুদ্ধে ড্র করলেই তো ভারতের লেস্টার আইজল এফসি!

    মোহনবাগান‌: দেবজিৎ, প্রীতম, এদু, আনাস, রাজু, আজহার (প্রবীর ৬৩), শেহনাজ, কাতসুমি, সোনি, জেজে (বলবন্ত ৮৫), ডাফি

    No comments