• Breaking News

    আইপিএল-ইতিহাসে সর্বনিম্ন রান! বিরাট হার কোহলিদের / কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    কেকেআর – ১৩১ (নারিন ৩৪, চাহল ৩/১৬, নেগি ২/১৫)


    আরসিবি – ৪৯ (কলিন ৩/৪, ওকস ৩/৬, নাইল ৩/২১)


    কেকেআর ৮২ রানে জয়ী


    ম্যাচের সেরা – কুল্টার-নাইল


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    ‘এল ক্লাসিকো’ দেখার তাড়া কোন দলের বেশি ছিল?

    অবশ্যই সেই দলের যাঁর অধিনায়ক আইএসএল-এ একটি ফুটবল দলের মালিক!

    রেড রোডে দাঁড়িয়ে রাজভবনের দিকে মুখ করে ব্যাট করতে গিয়ে মেট্রো সিনেমাহলের পাশ দিয়ে যাওয়া বলে ব্যাট ছুড়ে ক্যাচ দিয়ে গ্যালারিতে দর্শকদের কুকথা বলতে বলতে মাঠ ছাড়লেন বিরাট কোহলি! দর্শকের নড়াচড়া অপছন্দ সব ব্যাটসম্যানেরই, সন্দেহ নেই। কিন্তু, তার জন্য ভেতরে ঢুকে আসা বল খেলতে গিয়ে সসম্যা হতে পারে, দশম স্টাম্পের বল তাড়া করতে যাওয়ার কারণ কখনও দর্শকাসনে নড়াচড়া নয়। নেহাৎ অমার্জনীয় ভুল, ক্রিকেটের সব ধরনের খেলায়, যা ঢাকতে গিয়ে, নজর অন্যদিকে ঘোরাতেই হয়। হলও বিরাট কোহলিকে।

    চমক অবশ্য ছিল শুরু থেকেই। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর যে সরকারি দলের তালিকা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়েছিল, সবার ওপরে নাম অধিনায়কের, স্বাভাবিক। পাশে ‘ওভারসিজ’ তালিকায় ‘টিক’। মানে, ভারতের অধিনায়ক ‘বিদেশি’ ক্রিকেটারদের তালিকায় পড়ছেন! বিরাটের ঠিক তলায় নাম ক্রিস গেইলের। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানের নামের পাশে দিতে গিয়ে ‘টিক’-টা বিরাটের নামের পাশে পড়ে গিয়েছিল। থেকে গেল সেই ভুল, বেঙ্গালুরুর ইনিংসজুড়ে।

    ৭, ০, ১, ৮, ৯, ৮, ২, ০, ২, ৫, ০, অতিরিক্ত ৭। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ৯। মোট ৪৯। এগারজন ও অতিরিক্ত মিলিয়েও ৫০ পেরয়নি! ইনিংস টেকেনি দশ ওভারও। ৯.৪ ওভারে ইনিংস শেষ। ইডেনের গ্যালারি বিরাট-গেল-ডিভিলিয়ার্স ঝড় দেখতে এসে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রতিটি উইকেট পতনের সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার জুড়ছিল। গম্ভীরের কলকাতা তখন বিরাটের দখলে। দ্বিতীয় ইনিংসের সময় সেই চিৎকার ফিরে এল ‘আরসিবি’ থেকে আবার ‘কেকেআর’-এ।

    ১৩১ করে ৮২ রানে জেতা সম্ভব, আইপিএল দেখাল এমনও! আইপিএল-এর দশ বছরের ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বনিম্ন ৪৯ রানে আউট বেঙ্গালুরুর সবাই। আগে এই কুখ্যাত রেকর্ড ছিল রাজস্থান রয়্যালসের নামে। ২০০৯ সালের ১৮ এপ্রিল তাঁরা করেছিলেন ৫৮ রান। সেবার এই র‍য়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বোলাররাই অপ্রতিরোধ্য ছিলেন, কেপটাউনে। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের এক টুকরো উঠে এল এবার ইডেনেও।

    ইনিংসের বিচারে কলকাতার শুরুটা আবারও দুর্দান্ত, সেই সুনীল নারিনের কল্যাণেই। ১৭ বলে ৩৪, ছ’টা বাউন্ডারি, একটা ছয়। বদ্রীর প্রথম ওভারেই তিনটি চার একটি ছক্কায় ১৮ রান। ওপেনার হিসাবে চার ম্যাচে ব্যাট করতে নেমেছেন, ব্যর্থ একটি ম্যাচে। এতটাই তাঁর ব্যাটিংয়ে ভরসা এবং বেঙ্গালুরুর ব্যাটসম্যানদের এতটাই ভঙ্গুর দেখাল জোরে বোলারদের বিরুদ্ধে যে, চার পেসারই ইনিংস শেষ করে ফেললেন চোখের পলক পড়ার আগে। নারিনকে বলই করতে হল না!

    নারিনকে ছেড়ে দিলে নাইটদের ইনিংসে কোনও নায়ক নেই। দুই স্পিনারের গল্প সেখানে। যুজবেন্দ্র চাহল ও পবন নেগি। মুম্বইকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতাতে ফাইনালে ৩ ওভারে ৯ রানে ২ উইকেট নিয়ে উত্থান হলেও, চাহলকে চিনেছে ক্রিকেট-দুনিয়া কোহলির বেঙ্গালুরুতে আসার পর। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুতেই তাঁর ২৫ রানে ৬ উইকেট টি টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে এখনও তৃতীয় সেরা। সাত ম্যাচে এবার দশ উইকেট, শেষ দুটি ম্যাচেই তিনটি করে। মণীশ, পাঠান, কলিনের উইকেটের পাশাপাশি নারিনের ক্যাচও। কলকাতা ইনিংস ১৩১ রানে শেষ হয়ে যাওযার পর চাহল ছাড়া অন্য কেউ ম্যাচের সেরা হবেন, ভাবা যায়নি।

    যা ভাবা হয়, সবসময় মেলে না তো খেলায়! কোহলি, ডিভিলিয়ার্স আর কেদার যাদবের উইকেট তুলে নিয়ে বেঙ্গালুরুকে ৪/২৪ করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দারুণভাবে উঠে এলেন নাথান কুল্টার নাইল। তাঁর সেই ভিতের ওপর ওকস আর গ্র্যান্ডহোমেরও তিনটি করে উইকেট পরে। ম্যাচের সেরা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কাজে এল প্রাথমিক ধাক্কায় বেঙ্গালুরু ইনিংসে বেলাইন করে দেওয়াই। তাই নাইল সেরা।

    কলকাতা নাইট রাইডার্স সপ্তম ম্যাচে পঞ্চম জয় ও ১০ পযেন্ট নিয়ে থেকে গেল দ্বিতীয় স্থানে। কোহলির বেঙ্গালুরু ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় অষ্টম, সবার নিচে। মেজাজ কি আর এমনিই খারাপ ভারত-অধিনায়কের!

    No comments