• Breaking News

    গম্ভীর-উথাপ্পা আবার, কলকাতা প্রায় প্লেঅফে / কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    দিল্লি ডেয়ারডেভিলস – ১৬০/৬ (সঞ্জু ৬০, শ্রেয়স ৪৭, নাইল ৩/২৪)


    কলকাতা নাইট রাইডার্স – ১৬১/৩ (গম্ভীর অপরাজিত ৭১, উথাপ্পা ৫৯)


    কেকেআর ৭ উইকেটে জয়ী


    ম্যাচের সেরা – গৌতম গম্ভীর


     

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    ‘তুই ফ্যাল, আমি দেখি’! না, ‘আমি ফেলি, তুই দ্যাখ’! ফ্যালফ্যালে চোখে দাঁড়িয়ে অমিত মিশ্র ও সঞ্জু স্যামসন। ‘ফেলনা’ হয়ে গেল ম্যাচটাই!

    রবিন উথাপ্পার রান তখন ৯। খেলেছেনও ৯ বল। দশম বলটা কাগিসো রাবাদার। পুল করার চেষ্টা করেছিলেন উথাপ্পা। বলটা লোপ্পা হয়ে উঠল। শর্ট ফাইন লেগ আর স্কোয়ার লেগের মাঝে। দু’দিক থেকে এলেন মিশ্র আর স্যামসন। কাছাকাছি এসে দুজনেই ভাবলেন, ‘ও নেবে’। দাঁড়িয়ে পড়লেন দুজনেই। অবিশ্বাস্যভাবে বলটা পড়ল মাঝখানে, দু’জন এ-ও’র মুখের দিকে ফ্যালফ্যালে দৃষ্টি!

    ‘তুই-মুই’ করতে গিয়ে কেউই ‘কল’ না-করার এই দোলাচল উথাপ্পাকে দিয়ে গেল হাত খুলে খেলার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস। আউট হলেন যখন, ৩৩ বলে ৫৯। মানে ওই দশম বলে দশম রানের পর, ২২ বলে ৪৯ রান। পাঁচটা বাউন্ডারি, চারটে ছয়। ইনিংসের সপ্তম ওভারে মিশ্র দিলেন ১৪ রান, অষ্টম ওভারে মরিসের থেকে ১৮ ও নবম ওভারে কামিন্সের বলে ১৩। তিনটে ওভারে ৪৫ রান। ম্যাচটা নিশ্চিতভাবেই ঢলে পড়ল কলকাতা নাইট রাইডার্সের দিকে।

    সিংহভাগ কৃতিত্ব দাবি করবেন উথাপ্পা, নিশ্চিত। তাঁর চতুর্থ অর্ধশতরান, এবারের আইপিএলে। উইকেটকিপিং করার সময় ইনিংসের নবম ওভারে হাঁটুতে বল লেগেছিল, শেষ ১১ ওভার উইকেটের পেছনে ছিলেন জ্যাকসন। ব্যাট হাতে প্রারম্ভিক অনিশ্চয়তা ওই ক্যাচের পর কেটে যেতেই ছন্দে। সর্বোচ্চ ছয় এবং সেরা স্টাইলিশ ক্রিকেটারের পুরস্কারও পেলেন।

    কিন্তু, অস্বীকার করা যাবে না অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরের অবদান। এবারের আইপিএল-এ দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে গম্ভীরের তিনটি অর্ধশতরান ছিল, তিনবারই রান তাড়া করার সময়। অপরাজিত ৭৬ গুজরাতের বিরুদ্ধে, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৭২ এবং রাইজিং পুনে সুপারজায়েন্ট-এর বিরুদ্ধে ৬২। চতুর্থ অর্ধশতরানও এল সেই রান তাড়া করতে গিয়েই। সাধে কি আর টস জিতলেই অধিনায়ক প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন! ম্যাচের সেরা হয়ে পুরস্কার মূল্য দিয়ে দিলেন মাওবাদী আন্দোলনে হত ২৫ সিআরপিএফ জওয়ানের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য। তাদের পড়াশোনার সব দায়িত্বও নিয়েছেন গম্ভীর, নিশ্চিতভাবেই যা অভিনন্দনযোগ্য প্রচেষ্টা।

    ৬৬ বলে ১০৮ রানের ওই জুটি ভেঙেছিলেন করুন নায়ার। গম্ভীর একটি রান চুরি করতে চেয়েছিলেন। করুনের থ্রো সরাসরি উইকেট ভেঙে দেয়। কিন্তু, কলকাতার কাজটা তখন শুধু উইকেটে পড়ে থাকলেই হয়ে যায়। যা নিশ্চিত করার জন্য অধিনায়ক আবারও থাকলেন শেষ পর্যম্ত। এবার ৭১ রানে অপরাজিত। ৫২ বলের ইনিংসে ১১ বাউন্ডারি, একটাও ছয় নেই। মোট ৩৭৬ রান, আবারও কমলা টুপির মালিকানা তাঁরই। চার হাজার রানও করে ফেললেন আইপিএল-এ শুধু!

    দিল্লি ইনিংসের শুরুটা চমকপ্রদ। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে শেষে তাদের রান ১ উইকেট হারিয়ে ৫৩। কলকাতা ৬ ওভারে করেছিল ১ উইকেটে ৪৭। কিন্তু, রাহুল দ্রাবিড়ের দল খেই হারাল মাঝপথে। ৩.২ ওভারের পর বাউন্ডারি এল ৪৬ বল পর! টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে যা অমার্জনীয় অপরাধ, বলাই যায়। গোটা ইনিংসে বাউন্ডারি ১৪, গোটা চারেক ছয়। কিন্তু শেষ দিকেও ১৬তম ওভারের চতুর্থ বলের পর বাউন্ডারি এল শেষ ওভারের প্রথম বলে। হাতে উইকেট থাকা সত্ত্বেও সেভাবে কেউই যেতে পারলেন না বাউন্ডারি বা ওভার বাউন্ডারির ক্ষেত্রে। কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের প্রত্যক্ষ প্রভাবে?

    সঞ্জু ৬০ করেছিলেন ৩৮ বলে, শ্রেয়সের ৩৪ বলে ৪৭। দুজনে ভিত তৈরি করে দেওয়ার পরও কেউ পারলেন না ইনিংস টেনে নিয়ে যেতে। আবারও বল হাতে কোল্টার নাইল সবচেয়ে সফল। নারিন প্রথমে নায়ারকে ফিরিয়ে শুরু করার পর সঞ্জু, শ্রেয়স ও মরিসের উইকেট নাইলের। দিল্লির ইনিংসে ছ’জন আউট যার মধ্যে চারজন এলবিডব্লু।

    ৭ ম্যাচে পঞ্চম, টানা চতুর্থ হার দিল্লির। কলকাতার নবম ম্যাচে সপ্তম জয়। এবার সাত উইকেটে। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই থাকল, এগিয়ে গেল প্লে-অফের দিকে। হাতে আরও পাঁচ ম্যাচ, আরও একটি জয় পেলে প্লে অফ নিশ্চিত করে ফেলতে পারে, দুদিন পর ৩০ এপ্রিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন হায়দরাবাদকে হারাতে পারলেই!

    No comments