• Breaking News

    পুনে-মালিকের শহরের মাঠে দাদাগিরি রায়নার! - কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    কলকাতা নাইট রাইডার্স – ১৮৭/৫ (উথাপ্পা ৭২, নারিন ৪২, গম্ভীর ৩৩)


    গুজরাত লায়ন্স – ১৮৮/৬ (ফিঞ্চ ৩১, ম্যাকালাম ৩৩, রায়না ৮৪)


    গুজরাত ৪ উইকেটে জয়ী


    ম্যাচের সেরা – সুরেশ রায়না


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    ৪২ বছরে ৪২ আর দুই সুনীলের গল্প!

    ক্রিকেট কতটা পাল্টেছে বুঝতে এমন একটা গল্পের সন্ধান করা যেতেই পারে, কালবৈশাখী ঝড় আর আধঘন্টার বৃষ্টির ‘ব্রেক’-এ বসে!

    সুনীল গাভাসকার ছিলেন স্টুডিওতে। ১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপ শুরু হল যখন, মানিয়ে নিতে পারেননি। ৬০ ওভারে রান করেছিলেন অপরাজিত ৩৬। কিছু বছর পর তাঁর সঙ্গে ইনিংস শুরু করতে নামতেন যিনি, মারকুটে বলে খ্যাতি ছিল কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের। তামিল ব্রাহ্মণ একবার বলেছিলেন, গাভাসকারের ওই রেকর্ডটি ভাঙতে পারলে ‘বেশ হয়’!

    কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর হয়ে এখন মাঝেমাঝেই ইনিংস শুরু করতে আসছেন আর এক সুনীল  –  নারিন। আগের সুনীল যদি সিঙ্গলস নিতে দড় হয়েও ৪২ বছর আগের ওই ইনিংসে খুচরো রান খুঁজে পেতে ব্যর্থ, এই সুনীল ‘সিঙ্গল’ নেওয়ার চেষ্টাই করেন না। সেটাই তাঁর শক্তি আবার! ৪২ করলেন, ন’টা চার, একটা ছয়। এক রানও দৌড়ে নয়! নারিন থাকাকালীন নারায়ণন কার্তিকেয়নের গাড়ির গতিতে দৌড়চ্ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

    পুনে সুপারজায়েন্টস মালিকের শহরে এসে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নেতৃত্ব থেকে সরানো নিয়ে বিস্ফোরক হয়েছিলেন সুরেশ রায়না। ম্যাচে ‘নেতা’ রায়নাকে সামনে এগিয়ে এসে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেল ঠিক সেই সময়ই। চতুর্থ ওভারেই বল করতে চলে এলেন, তুলে নিলেন নারিনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট, সেই ওভারেই। ৪৫-এর মধ্যে ৪২ রানই করেছিলেন নারিন। সহজেই অনুমেয়, কীভাবে ঠ্যাঙাচ্ছিলেন গুজরাতের বোলারদের।

    সেই আত্মবিশ্বাসই ঠিকরে বেরল ব্যাট করার সময়। ৪৬ বলে ৮৪, চার ছক্কা ও নয় বাউন্ডারি। পুনে-মালিকের শহরের মাঠে দাদাগিরি রায়নার! যেন বার্তা দিয়ে গেলেন, মাঠের বাইরে বলেছিলেন যেমন, মাঠেও কথা বলল তাঁর ব্যাট-বল। ফিঞ্চ (১৫ বলে ৩১) ও ম্যাকালাম (১৭ বলে ৩৩) দুর্দান্ত শুরু করে দিয়ে যাওয়ার পর প্রায় শেষ পর্যন্তই টেনে নিয়ে গেলেন রায়না, অধিনায়কোচিত দাপটে। ১৮৮-র লক্ষ্যে তিনি আউট হলেন দলের ১৮০ রানে, ১৭.৫ ওভারে। তার তিন বল পরই জয় এল ৪ উইকেটে, দশ বল বাকি থাকতেই।

    কলকাতার ইনিংস নারিনের পর টেনে গিয়েছিলেন রবীন উথাপ্পা। ঠিক যেমন ঘরের মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে ৬৮ করেছিলেন, শুক্রবার ৪৮ বলে ৭২। গম্ভীরও এগোচ্ছিলেন তখন সবচেয়ে বেশি রানের কমলা টুপির মালিক নীতিশ রানাকে (২৫৫) টপকে যাওয়ার লক্ষ্যে, কিন্তু থেমে যেতে হয় ব্যক্তিগত ৩৩ রানে। মণীশ পাণ্ডেও (২১ বলে ২৪) সঙ্গ দিয়েছিলেন উথাপ্পাকে। কিন্তু নারিন যে-গতি দিয়ে গিয়েছিলেন ইনিংসকে সেই গতি ধরে রাখতে ব্যর্থ কলকাতার বাকি ব্যাটসম্যানরা। ফলে, ১৮৭ রানেই ২০ ওভার শেষ। কাঙ্ক্ষিত ২০০-য় পৌঁছতে পারেননি পাঠানরা।

    ম্যাকালাম দিনের শেষে মাথায় তুলে নিয়েছেন কমলা টুপি, মোট ২৫৮ রান করে। ইনিংসের শেষ দিকে অধিনায়ক রায়নাকে নির্ভরতা দিয়েছিলেন রবীন্দ্র জাডেজার ১৩ বলে ১৯। দুই স্পিনারকে দিয়ে বোলিং শুরু করিয়েই কি উমেশ যাদবের ছন্দও নষ্ট করে দিয়েছিলেন গম্ভীর? সাকিব আল হাসান প্রথম ম্যাচেই হারলেন, নারিন ব্যাটের পর বলেও দিলেন ৪ ওভারে ৪২। সমীকরণে সমান চিহ্নের দুধার সমান!

    ষষ্ঠ ম্যাচে দ্বিতীয় হার, ঘরের মাঠে প্রথম। পরের ম্যাচে রবিবার সামনে আবার বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। নাইটদের আরও বড় পরীক্ষা, ম্যাকালামের পর আর এক প্রাক্তন-নাইট ক্রিস গেইলের বিরুদ্ধেও!

    No comments