• Breaking News

    বার্সেলোনাকে গোল দিতে না দিয়ে সেমিফাইনালে জুভেন্তাস, হেলায়! - কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    বার্সেলোনা ০ জুভেন্তাস - ০


    প্রথম পর্বে জুভেন্তাস জয়ী ৩-০


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    গোল করতে হবে ন্যূনতম চারটি। জিয়ানলুইগি বুফোঁকে তো চারটে শটই ধরতে হল না। এলই যে মাত্র একটি শট, লক্ষ্যে!

    লিওনেল মেসি প্রথমার্ধে বার চারেক শট নিলেন জুভেন্তাস গোল লক্ষ্য করে। ইস-আস-হুস-হাস হল অনেক, বুফোঁকে বাঁচাতে হল একবার, তিনবার তিনকাঠির বাইরে। এমন ম্যাচে মেসি যদি শট তিনকাঠিতেই রাখতে না পারেন, বার্সেলোনাই বা করবে কী!

    ৫৬ মিনিটে ফ্রি কিক কাঙ্ক্ষিত জায়গায়। এমন ম্যাচে, এমন সময়ে, মেসির ফ্রিকিক আগেও কখনও থাকেনি গোলে। এবারও বুফোঁকে হাত ছোঁয়াতে হয়নি। বাইরে। ৬৬ মিনিটে তো তিনকাঠির তলায় বুফোঁও নেই। গোলাইনে দাঁড়িয়ে মান্ডজুকিচ। সামনে আর এক ডিফেন্ডার। মেসির শট আবারও বারের ওপর দিয়ে!

    তিন গোলে এগিয়ে থেকে জুভেন্তাস কি কাম্প নু-তে খেলতে গিয়ে ‘আয় মেসি আয়’ গেয়ে গেয়ে গোল করতে ডাকবে? কিংবা, ‘আয় সুয়ারেজ আয়’?

    মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির অভিজ্ঞতা ছিল। তখন তিনি এসি মিলানে। সান সিরোতে মিলান ২-০ জিতেছিল। কাম্প নু-তে ছিড়ে খেয়েছিলেন মেসি। বার্সেলোনা ৪-০ জিতে পৌঁছে গিয়েছিল পরের পর্বে, হাসতে হাসতেই।

    সেই মিলান বা ইউরোপের শেষ ম্যাচে এই মাঠে পিএসজি-র তুলনায় জুভেন্তাস রক্ষণ অনেক বেশি সংঘবদ্ধ। ‘আর্ট অফ ডিফেন্ডিং’ শিখতে ইতালিতেই যেতে হয় ফুটবলারদের। ‘প্যানিক’ শব্দটা জানেনই না তাঁরা। গত শতকের ছয়ের দশকে এক আর্জেন্তিনীয়, এলেনিও এরেরা, শিখিয়ে গিয়েছিলেন। কাতেনাচ্চিও ছিল। তখন থেকেই ডেকে ডেকে এনেছেন বিপক্ষের ফরোয়ার্ডদের, বারে বারে, যুগে যুগে। নিজেদের কাজে থেকেছেন অবিচল। শুষে নিয়েছেন যাবতীয় আক্রমণ। এবারও নিলেন। তবে, অন্যভাবে যা কাতেনাচ্চিও নয়। দ্বিস্তরী রক্ষণে নিজেদের বক্সের বাইরের জায়গাটায় ‘মেসি’ গলতে না দিয়ে।

    দ্বিস্তরী রক্ষণে বক্সের মধ্যেই চারজন। কাছাকাছি। বার্সেলোনার ত্রিমুখী ফলা যেন বেরনোর জায়গা না পায়। এমনকি, তাঁদের নেওয়া শটও যেন ফাঁক খুঁজে না পায়। সেই চারজনের ওপরে আরও চারজন। কিন্তু, সমান্তরালে নয় সর্বদা। কখনও ত্রিভুজাকৃতি, কখনও আড়াআড়ি। বোনুচ্চি-কিয়েলিনির ওপরেই খেদিরা-পিয়ানিক। ১৮ গজের বক্সের ওপরে আরও ১০-১২ গজের একটা জায়গা জুড়ে রাজত্ব। আয়তক্ষেত্রটা বক্সের আকারে ছোট করে নিয়ে। দুপাশে ছাড় দেওয়া রইল। বল নিয়ে এসো ভাই মাঝখানে - পরিষ্কার চ্যালেঞ্জ! এসে আমাদের পেরিয়ে গোল করে দেখাও দেখি, ক্ষমতা!

    কোনাকুনি বলগুলো কিছুতেই বেরতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে সেই আটজনই নেমে ঢুকে পড়লেন বক্সে। বলই ফাঁক পেল না গলে যাওয়ার, ফুটবলাররা পাবেন কী করে! উল্টে দুপাশের ওই ছেড়ে রাখা জায়গাগুলো দিয়ে প্রয়োজনে আলভেস আর কুয়াদ্রাদোর দৌড়ে বার্সেলোনা রক্ষণে নাভিশ্বাস। প্রতি আক্রমণ পরিত্যজ্য নয়। গোনজালো ইগাইন আবারও গোটা দুয়েক সুযোগ হেলায় হারালেন, কুয়াদ্রাদোও একবার। প্রথম ম্যাচের পর দাইবালাকে আটকে রাখতে পারল বার্সেলোনা, কিন্তু, প্রথম ম্যাচে না-পারার মূল্য দিতে হল ছিটকে দিয়ে।

    বিপক্ষ রক্ষণ এমন দুর্ভেদ্য হলে, ম্যাচ ঘোরাতে সুযোগের সদ্ব্যবহার যত বেশি সম্ভব, জরুরি। মেসি যেমন শুরুর দিকে বল বের করে দিয়েছিলেন জোরদি আলবা-র জন্য। আলবার পায়ে-বলে হয়নি সেই পাস। পরে, মেসির সুযোগ নষ্ট, বাকিদেরও। প্রথমার্ধ শেষে পরিষ্কারই হয়ে যায়, ১৩৫ মিনিটে যাদের বিরুদ্ধে এক গোলও করতে পারেনি এমএসএন, বাকি ৪৫ মিনিটে চার গোল দেবে, ভাবনাটাই বাতুলতা!

    আসলে রোজ রোজ পিএসজি হয় না। হলে তো রোজই ইতিহাস লেখা হত। হয় কি? জুভেন্তাস কাম্প নু-তেও এসে নিশ্ছিদ্র থেকে প্রমাণ দিয়ে গেল, ইউরোপে ইতালীয় পতাকা উঁচুতে ধরে রাখার দায়িত্বটা তারাই পালন করবে, সানন্দ। স্পেনের রেয়াল মাদ্রিদ, আতলেতিকো মাদ্রিদ এবং ফ্রান্সের এএস মোনাকোর বিরুদ্ধে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে এখন এই চার দলই।

    মেসিদের ইউরোপীয় মরসুম শেষ হল বুধ-রাতে, নিজেদের মাঠে।

    মেসিদের স্পেনীয় মরসুমও সম্ভবত শেষ হবে দিন চারেক পর, রবি-রাতে। সান্তিয়াগো বের্নাবেউ-তে এল ক্লাসিকো-র পর!

    No comments