• Breaking News

    জিতেও দ্বিতীয়ই হল মোহনবাগান / কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    মোহনবাগান - ২ চেন্নাই সিটি – ১


    (কাতসুমি ৪৫+১, ডাফি ৭৭)  (নন্দকুমার ৩১)


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    পাহাড়ে পা পিছলেই আই লিগ হারাল মোহনবাগান!

    আইজল ম্যাচে অন্তত একটা পয়েন্ট দরকার ছিল। তা হলে সেই দিনই ট্রফি স্থায়ী ঠিকানা পেয়ে যেত কলকাতায়। কিন্তু, হারের পর নিজেদের হাতের বাইরে চলে যায়। তাকিয়ে থাকতে হচ্ছিল শিলং লাজং-এর দিকে। আইজলকে ভারতের লেস্টার সিটি করে দিলেন উইলিয়াম ফেলা, ৬৭ মিনিটে, শিলংয়ে। তাই ৭৭ মিনিটে রবীন্দ্র সরোবরে ডাফির জয়সূচক গোল মূল্যহীনই থেকে গেল।

    মোহনবাগান পরপর দুবার দ্বিতীয় আই লিগে। এবার মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে।  আইজলের পয়েন্ট ৩৭, মোহনবাগান ৩৬। মিজোরামে যখন উৎসব, কলকাতায় হিরণ্ময় নীরবতা!

    প্রাথমিক চাহিদা ছিল, জিততে হবে শেষ ম্যাচে, চেন্নাই সিটির বিরুদ্ধে। মোহনবাগান জিতলও। পিছিয়ে পড়ে, এমনকি দেবজিৎ মজুমদার লাল কার্ড দেখার পর শেষ দশ ও ইনজুরি টাইমের আরও পাঁচ মিলিয়ে মোট ১৫ মিনিট ধসজনে খেলেও। কিন্তু, ওই যে, নিয়ন্ত্রণ আর ছিল না নিজেদের হাতে! জাতীয় লিগ ও আই লিগ মিলিয়ে পঞ্চম খেতাব জিতে ডেম্পোকে ধরে ফেলার আগের ধাপেই থেকে গেল মোহনবাগান।

    সাইডলাইনে তখন প্রবীর দাস দাঁড়িয়ে চতুর্থ রেফারির পাশে। তৃতীয় পরিবর্তন করতে চলেছেন সঞ্জয় সেন। ঠিক তখনই ডানদিক থেকে জেজে বেরিয়ে এলেন। পাস দিলেন বক্সের ভেতর, ডাফির জন্য। ডানপায়ের শটে ডাফি পরাস্ত করলেন করণজিৎকে। এগিয়ে গেল মোহনবাগান। সঞ্জয়ও তখনই প্রবীরকে ডেকে নিলেন বেঞ্চে।

    এই সিদ্ধান্তটা তখন না নিলে, আসলে গোলটা তখন না হলে, প্রবীর নেমে পড়তেন হয়ত। তখন, দেবজিৎ লাল কার্ড দেখার পর শিবিনরাজ নামতে পারতেন কি? আরও সমস্যায় পড়ত তখন মোহনবাগান। দেবজিতের লাল কার্ড দেখা নিয়ে বিন্দুমাত্রও সংশয় নেই। বল হাতে বক্সের বাইরে পা রেখেছিলেন, ৮০ মিনিটে। সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে কোনও ভুল ছিল না। তিনিই দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রেফারি নাগভেকারের।

    শোভিকের জায়গায় সঞ্জয় শুরু করেছিলেন রেনিয়ের ফেরনান্দেজকে নিয়ে। ২৬ মিনিটে উঠে যাওয়ার আগে রেনিয়েরের অবদান বলতে সোনির সেন্টারে ফাঁকায় বল মাথায় পেয়েও করণজিতের হাতে হেড। ম্যাচের প্রথম ইতিবাচক আক্রমণ মোহনবাগানের। তখন লাজং গোল পেয়ে এগিয়ে আছে। সেই ঘোষণাও রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামের পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে শোনা যাওয়ার পরই সোনি নর্দের বেরিয়ে আসা, বাঁদিকের প্রান্ত ধরে, ভেতরে। এবং সেন্টারে ফাঁকায় মাথায় বল রেনিয়েরের। তবুও গোল হয়নি।

    গোলের জন্য অপেক্ষা প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত। শেহনাজ উঁচু বল রেখেছিলেন মাঝখানে। বলবন্ত বুকে করে নামিয়ে দেন কাতসুমির জন্য। ডানপায়ের আউটস্টেপ দিয়ে জালে পাঠান মোহনবাগানের অধিনায়ক।

    তার আগেও গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। সোনি থেকে ডাফি হয়ে কাতসুমি। ডানদিক থেকে কাতসুমি রেখে গিয়েছিলেন ভেতরে। দুপায়ের ফাঁক দিয়ে সোনি বল বেরিয়ে যেতে দেন পেছনে অপেক্ষমান বলবন্তের জন্য। বলবন্ত বুঝতেই পারেননি, হঠাৎ বলটা আবিষ্কার করলেন যেন! ডানপায়ের শট বাইরে।

    মোহনবাগান গোল খেয়েছিল সবাই মিলে আক্রমণে উঠে যাওয়ায়। এডউইন সিডনির বাড়ানো বল একেবারে ফাঁকায় পেয়ে যান নন্দকুমার। অনূর্ধ্ব ২২ ফুটবলার নন্দকুমার ঠাণ্ডামাথায় ডানপায়ে বল রেখে যান দেবজিতের বাঁদিকে, দূরের পোস্টে।

    রেনিয়েরকে নামিয়ে কাতসুমি আর সোনিকে পাশাপাশি খেলানোর চেষ্টায় আইজল ম্যাচে হারতে হয়েছিল মোহনবাগানকে। শেষ ম্যাচেও একই শুরু সঞ্জয়ের। কিন্তু, এবার ভুল তাড়াতাড়ি বুঝে রেনিয়েরকে তুলে কাতসুমিকে ডানদিকে নিয়ে আসায় মোহনবাগান আক্রমণে বাড়তি গতি সঞ্চারিত হল ঠিকই। গোলও এল। কিন্তু, উইলিয়াম ফেলা শিলংয়ে সমতা ফেরানোয় কলকাতার আকাশ ভেঙে পড়ল ম্যাচ শেষে!

    তীরে এসে তরী ডোবেনি, আসলে যে পাহাড়ে উঠতেই পারেনি পালতোলা নৌকো! সোনি দ্বিতীয় পর্ব শুরুর সময়ই বলেছিলেন, ৩৯ পয়েন্ট পেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যাবে। তার থেকে তিন পয়েন্ট দূরে শেষ করল মোহনবাগান। ময়নাতদন্তে হয়ত উঠে আসবে আরও একটি কারণ। নেমে-যাওয়া মুম্বই এফসি-র বিরুদ্ধে ঘরে-বাইরে কোনওবারই জিততে না-পারা।

    তবে, এক পয়েন্টের ব্যবধানে দ্বিতীয় হওয়া আজীবন মনে রাখবেন সঞ্জয় সেন, নিশ্চিত!

    মোহনবাগান  -  দেবজিৎ ; প্রীতম, আনাস, এদু, রাজু; কাতসুমি, শেহনাজ (জেজে ৬৫), রেনিয়ের (শৌভিক ২৬), সোনি; বলবন্ত (শিবিনরাজ ৮২), ডাফি

    No comments