• Breaking News

    হ্যাটট্রিকের পর ফাইনালের দিকে ‘রোনালদো মাদ্রিদ’! – কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    টানা ৫৯ ম্যাচে গোল রেয়ালের। চ্যাম্পিয়নস লিগে রোনালদোর গোল ১০৩। রেয়ালে আসার পর ৩৮৯ ম্যাচে ৩৯৯ গোল! 


    রেয়াল মাদ্রিদ – ৩ (রোনালদো ১০, ৭৩, ৮৬)                 আতলেতিকো মাদ্রিদ – ০


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    মাটিতে পড়ে বলটা উঠল। সব মাথা ছাড়িয়ে তাঁর মাথা। বলে-মাথায় জোরালো সংযোগ। নিশ্চিন্ত আশ্রয় বলের, জালে।

    বলটা আর একবার এল তাঁর পায়ে। ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে, এবারও উঠে। পড়ছে যখন পায়ের সামনে, আদর্শ উচ্চতায়, জোরালো ভলি। গোলরক্ষক ঝাঁপালেন বটে। জানতেন, আটকানো অসম্ভব। তবুও চেষ্টা। নিষ্ফল, যথারীতি!

    তারপর সহজ গোল। দেখেশুনে, রেখে যাওয়া জালে। ম্যাচ তখন শেষের দিকে। পরের ৯০ মিনিট প্রায় অর্থহীন করে-দেওয়া গোল।

    চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরুর আগে ৮ ম্যাচে ২ গোল। পরের তিন ম্যাচে আপাতত ৮! মোট ১০ গোল, যার মধ্যে শেষ ৬ গোল পরপর দুটি ম্যাচে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবেউ-তে হ্যাটট্রিক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসে মোট ১০৩ গোল, সর্বোচ্চ। আর এই মরসুমে সর্বোচ্চ ১১ গোল থেকে মাত্র একটি দূরে। হাতে নিশ্চিতভাবেই দু-ম্যাচ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোল দেওয়ার সম্মান পঞ্চমবার না-পেলে অঘটনই!

    ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এগোচ্ছেন দুর্বার গতিতে। সব ভেঙেচুরে। সব বাধা সরিয়ে। সিদ্ধান্ত কখনও পক্ষে যাচ্ছে হয়ত, কিন্তু অস্বীকার করার জায়গাই নেই যে, ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় থাকতে জুড়িহীন। তার চেয়েও বড়, ম্যাচ যখন ইউরোপের নকআউট, সেরা ছন্দে তিনি।

    রেয়াল মাদ্রিদকে একাই নিয়ে গেলেন কার্ডিফের দিকে। জিনেদিন জিদানের দল দুর্দান্ত খেলছে, সৌজন্য সিআর সেভেন। টানা ৫৯ ম্যাচে গোল পেল দল। এমন রেকর্ড করেন যাঁরা, নিশ্চিতভাবেই অন্যগ্রহের। জিদানের প্রশিক্ষণে টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পৌঁছতে চলেছে রেয়াল মাদ্রিদ, সাম্প্রতিক অতীতে যা হয়নি। এসি মিলান ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে, পরপর দুবার জিতেছিল ইউরোপে। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই ফরম্যাট তৈরি তারপর। আর কোনও দল পারেনি টানা দুবার জিততে। রেয়াল মাদ্রিদ কিন্তু রোনালদোর কাঁধে ভর দিয়ে তাড়া করছে এখন সেই রেকর্ড!

    আতলেতিকো মাদ্রিদের রক্ষণ শক্তিশালী। মাঝমাঠ ধ্বংসাত্মক। পায়ে বল নিয়ে খেলতে পছন্দ করে না। বিপক্ষের আক্রমণ মাঝমাঠেই থামিয়ে দেওয়ায় মুন্সিয়ানা। দিয়েগো সিমিওনের দল মানেই বিপক্ষ গোলমুখ খুঁজে মরে। কিন্তু, মাদ্রিদ-ডার্বি হলে কোথায় যেন হারিয়ে যায় সব। বারবার গোলমুখে হানা, বারবার গোলমুখ খুলে যায়, একাধিক গোলে জয় রেয়ালের, ইউরোপে তো অবশ্যই নিয়ম।

    টানা চার বছর ধরে একই জিনিস হয়ে চলেছে। কখনও সের্খিও রামোস, কখনও রোনালদো। এবারও প্রথম গোলের সময় সেই রামোসেরই ক্রস যা দিয়েগো গোদিন বের করে দিলেও পৌঁছে গিয়েছিল কাসেমিরোর কাছে। ব্রাজিলীয় ফুটবলার এবার ড্রপ-খাওয়ানো শট নিলেন। বক্সের মধ্যে নির্দিষ্ট উচ্চতায় রোনালদোর মাথাও।

    আতলেতিকো চেষ্টা করেনি বলা ভুল। খেলায় ফেরার ইচ্ছেয় গ্রিজমানের ফ্রিকিক বুদ্ধিদীপ্ত। পৌঁছেও গেলেন গোদিন। কিন্তু হেডে গোল দেওয়ায় যতটা স্বচ্ছন্দ, পায়ে-বলে ততটা নন উরুগুয়ের স্টপার। বলটা উঁচু হয়ে বাইরে। এমন সুযোগ হারালে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে সমস্যা হয়। হলও। দ্বিতীয়ার্ধে রোনালদো আরও দুবার হুলবিদ্ধ করলেন মাদ্রিদের শত্রুদের।

    জিদানের এই দলে হয়ত একটাই সমস্যা - ফরাসি-প্রীতি। করিম বেনজেমা যে কারণে খেলেই চলেছেন, আলভারো মোরাতা মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন না। তবু, বেনজেমার একটা ওভারহেড প্রচেষ্টা, বাঁপায়ে, উল্লেখযোগ্য। তিনকাঠিতে থাকলে ওবলাক তাকিয়ে দেখতেন, যেভাবে দেখলেন। স্বস্তির নিঃশ্বাস, বল বাইরে যাওয়ায়। বেনজেমা আরও গোটা দুই সুযোগ এভাবেই আর্জেন্তিনার গোনজালো ইগাইন হয়ে ওড়ালেন। না হলে, কার্ডিফের বিমানের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যেত মঙ্গল-রাতেই। ভিসেন্তে কালদেরনের ম্যাচ হয়ত এখনও, প্রায়-অর্থহীনই। গ্রিজমান-তোরেসরা চার গোল দিচ্ছেন আগামী বুধবার, ভাবা যাচ্ছে না!

    ৩৮৯ ম্যাচে ৩৯৯ গোল, রেয়াল মাদ্রিদে আসার পর। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, তিনি আসার পর ‘রেয়াল’ এখন ‘রোনালদো মাদ্রিদ’!

    No comments