• Breaking News

    ইতিহাস-ভূগোল জানেন না, ট্রফি চাই সঞ্জয়ের!

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    মরসুমের শেষ দিন কি মরসুমের প্রথম ট্রফি পাবে মোহনবাগান?

    ফেডারেশন কাপের ফাইনালে পরপর দুবার। ঠিক এক বছর আগে সঞ্জয় সেনরা জিতেছিলেন এই ট্রফি। আই লিগ খেতাবের কাছাকাছি এসেও শেষ পর্যন্ত পিছলে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের সান্ত্বনা দিয়েছিল ফেডারেশন কাপ। এবারও কি একইভাবে মরসুম শেষ করবে মোহনবাগান?

    কোচ অবশ্য সরাসরি বলেছেন, ‘ইতিহাস-ভূগোল জানি না, ট্রফি চাই’!

    ইতিহাস-ভূগোলের প্রসঙ্গ আসলে মরসুমে এতবার বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে খেলতে হয়েছে, সেই জন্য।

    রবিবার কটকের বরাবাটি স্টেডিয়ামে ষষ্ঠবারের জন্য মুখোমুখি হতে চলেছে এই দুটি দল। আই লিগে দুবার, এএফসি কাপে দুবার এবং ফেডারেশন কাপে দুবার। গ্রুপ লিগে এই দুই দলের ম্যাচ শেষ হয়েছিল ১-১। পিছিয়ে পড়েও সোনি নর্দের গোলে সমতা ফিরিয়েছিল বাগান।

    ফাইনালে বেঙ্গালুরু খানিকটা হলেও কমজোরি। নেই সুনীল ছেত্রী ও ওয়াটসন। তাঁদের দুজনের অনুপস্থিতি কি বাড়তি আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে মোহনবাগানকে? কোচ মানতে রাজি নন। দুজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের অনুপস্থিতি যে কোনও দলকেই খানিকটা সমস্যায় ফেলে দেয় যেমন, প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচে আবার সব দলই তৈরি থাকে সবরকমের পরিস্থিতির মোকাবিলায়, মানতে দ্বিধা নেই তাঁর।

    বাগান কোচের দাবি, ‘প্রস্তুতি সম্পূর্ণ, ট্রফি ছাড়া আর কিছুই ভাবতে রাজি নই। দল হিসাবে বেঙ্গালুরু ভারতের অন্যতম সেরা, যেমন আমরাও। ওদের বিরুদ্ধে যে কোনও ম্যাচ সবসময়ই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, এবারও হবে। আমাদের দলে চোটের কারণে পাচ্ছি না, এমন কেউ নেই।’

    রোকা একসময় বার্সেলোনায় কাজ করেছিলেন। যে-সন্ধেয় তাঁর বেঙ্গালুরু খেলবে ফেডারেশন কাপ জিততে, সেই রাতেই লা লিগায় বিজয়ী ঠিক হবে শেষ রাতের খেলায়। রেয়াল মাদ্রিদ হারলে এবং বার্সেলোনা জিতলে তবেই খেতাব আসতে পারে বার্সেলোনায়, যার আশা নেই বললেই চলে। রোকাও তা-ই মোহনবাগানকে ফেভারিট ধরে এগিয়ে রেখে বললেন, ‘রাতে বার্সেলোনা ট্রফি না পেলেও দুঃখ থাকবে না, যদি সন্ধেবেলা আমরা ট্রফিটা জিতে যাই।’

    আই লিগে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এবার চতুর্থ হয়েছিল। এএফসি কাপে খেলার সুযোগ তারা পেতে পারে একমাত্র ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হলেই। বেঙ্গালুরু এফসি-র কাছেও তাই একমাত্র লক্ষ্য, ট্রফিজয়। আর সেই লক্ষ্যচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় যখন বিপক্ষ দলে সোনি নর্দে-কাতসুমি ইউসা-ড্যারিল ডাফিরা ছন্দে থাকেন। চতুর্থ বিদেশি এদুও খেলবেন। রোকা অবশ্য বেশি চিন্তিত মোহনবাগানের আক্রমণভাগ নিয়ে যেখানে তিন বিদেশির সঙ্গে বলবন্তও আছেন নিয়মিত গোলের মধ্যে। সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে যে দল নেমে ২-০ জিতেছিল, একই দল ফাইনালেও শুরু করবে, ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন কোচ।

    বাগান-অধিনায়ক কাতসুমি ট্রফিটা জিততে চাইছেন সমর্থকদের জন্য। গোটা মরসুমজুড়ে যাঁরা সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন, তাঁদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, মরসুম শেষে।

    জিতলে পরপর তিন বছরে তিনটি সর্বভারতীয় ট্রফি জিতবে সঞ্জয় সেনের মোহনবাগান।

    No comments