• Breaking News

    শিলিগুড়ির পর কটকেও ডার্বিজয়! ফাইনালে মোহনবাগান

    প্লাজার সুযোগ নষ্টের খেসারত দিয়ে শূন্য-মরসুম ইস্টবেঙ্গলের, বলবন্ত-ডাফির সুযোগসন্ধানী মনোভাবের পুরস্কার মোহনবাগানে


    মোহনবাগান ২    ইস্টবেঙ্গল ০


    (ডাফি ৩৫, বলবন্ত ৮৪)


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    আবার ডার্বি। আবার ২-০! আবারও খেতাব জয়ের দিকে মোহনবাগান!

    গতবারের চ্যাম্পিয়নরা খেতাব ধরে রাখার আশা জিইয়ে রাখল ফাইনালে পৌঁছে। আগামী ২১ মে যে-ফাইনালে তাদের সামনে বেঙ্গালুরু এফসি। সাম্প্রতিক অতীতে যে-ম্যাচ হতে চলেছে দুই দলের ষষ্ঠ!

    অবস্থা বদলাল না ইস্টবেঙ্গলের। সেই একই রোগ থেকে গেল মনোরঞ্জন-রঞ্জন জমানাতেও। গোল নষ্টের রোগ। আই লিগের ফিরতি ম্যাচে শিলিগুড়ি ম্যাচে যেমন গোলের মুখই খুলতে না পেরে হেরে যেতে হয়েছিল, কটকে অবশ্য হল না তেমন। উইলিস প্লাজা আট মিনিটে যে সুযোগ নষ্ট করেছিলেন মহম্মদ রফিকের পাস থেকে, বড় ম্যাচে অমন সুযোগ থেকে গোল না করতে পারলে সেই দলের পক্ষে জেতা মুশকিল, বোঝা সহজ। খেসারত দিতে হল সুযোগ নষ্টের।

    ইস্টবেঙ্গল শিবিরের বক্তব্য ছিল, কাতসুমি আর সোনি নর্দের দুপ্রান্ত দিয়ে দৌড় আটকে দিতে পারলেই জেতা সম্ভব। দুটো গোল যথাক্রমে সোনি আর কাতসুমির পাস থেকেই! প্রথম গোলের সময় অবশ্য সোনিকে দৌড়তে হয়নি। নিখুঁত সেন্টার পড়েছিল ড্যারিল ডাফির মাথায়, ইস্টবেঙ্গল বক্সের মাঝখানে। কোনও ডিফেন্ডার বাধাই দেননি। ডাফি নিশ্চিন্তে হেডে বল রেখে যান শুভাশিসকে পরাস্ত করে, জালে।

    দ্বিতীয় গোলের সময় কাতসুমির ছোট্ট দৌড়, শেহনাজের পাস ধরতে, ডানদিক দিয়ে। বাইলাইনে পৌঁছে ভেতরে উঁচু করে রেখে যান। বুকেনিয়াহীন ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের তিন ডিফেন্ডারের পেছনে দাঁড়িয়ে বলবন্তের চমৎকার ‘অ্যাক্রোবেটিক’ গোল, ডান পায়ে। ম্যাচের তখন বাকি আর মাত্র মিনিট ছয়েক। নিশ্চিত হয়ে যায়, মনা-রঞ্জন জমানাতেও ট্রফি আসছে না লালহলুদ তাঁবুতে!

    সঞ্জয় সেনের মোহনবাগান বিদেশি বেছে নিতে ভুল করেনি যেমন, নিজেদের কাজ মাঠে ঠিকঠাক করেছেন মোহনবাগান ফুটবলাররা। অন্তত, গোলমুখে। ফুটবলে যা আসল। ইস্টবেঙ্গল অনেক কিছুই শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করলেও, খানিকটা এগোতে পেরেছিল, এই পর্যন্তই। ফুটবলে যদি কোনও দলের রক্ষণ দুর্বল হয় আর আক্রমণে ফুটবলাররা গোল না দিতে পারেন, সেই দলের ঘরে ট্রফি আসে না কখনও।

    মাঝমাঠ ভাল খেলেছে রবিবারও। বিকাশ জাইরু চোখ টেনে নিয়েছিলেন এই প্রতিযোগিতায়। কিন্তু, তাঁর পাঠানো ক্রসগুলো থেকে রফিক বা প্লাজারা হেড দেওয়ার সুযোগ পেয়েও বাইরে বা গোলরক্ষকের হাতে পাঠালে, জাইরুই বা কী করবেন! শূন্য হাতে আরও একটি মরসুম শেষ ইস্টবেঙ্গলের তাই।

    তুলনায় মোহনবাগান অনেক বেশি সংহত। রক্ষণে এবং আক্রমণে ভারসাম্য। বলবন্ত ও ডাফি তিনটি করে গোল পেয়ে গিয়েছেন প্রতিযোগিতায়। সোনিও পেতে পারতেন তৃতীয় গোল, শুভাশিস দক্ষতার শীর্ষে থেকে তাঁর ফ্রি কিক বাইরে না বের করে দিলে। নকআউট প্রতিযোগিতায় চার ম্যাচের হিসাবে যা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিচ্ছে, খেতাব ধরে রাখার ক্ষেত্রে বদ্ধপরিকর মোহনবাগান।

    শেষ দুবারের চ্যাম্পিয়নরাই মুখোমুখি এবারের ফেডারেশন কাপের ফাইনালে, যা হওয়ার কথা আগামী ২১ মে। তার আগে ১৭ মে কলকাতায় এই দুই দলেরই খেলা, এএফসি-তে, যে ম্যাচে মোহনবাগান বোধহয় দ্বিতীয় সারির দলও নামাবে না! সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা বেঙ্গালুরুর অনুরোধ মেনে ফাইনাল পিছিয়ে না দিলে আগামী রবিবার কটকের বারবাটিতে সঞ্জয় বনাম রোকা, আবারও।

    No comments