• Breaking News

    ১৫ শতাংশ টাকাও উঠছে না বলে ডেভিস কাপ হচ্ছে না কলকাতায়, জানালেন হিরণ্ময় চ্যাটার্জি

    শিউলি দত্ত


    সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থা ৮৫ শতাংশ টাকা দিয়ে দেবে। কিন্তু, ১৫ শতাংশ টাকাও জোগাড় করা কঠিন সাউথ ক্লাবের পক্ষে। সেই কারণেই এখন আর কলকাতায় ডেভিস কাপ টাই দেখা যাচ্ছে না, জানালেন হিরণ্ময় চ্যাটার্জি।

    ময়দানের ‘সোনাদা’ এখন সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থার সচিব। কলকাতা থেকেই যাঁর উত্থান। আর কলকাতার সাউথ ক্লাব বহু ডেভিস কাপ টাই দেখেছে। অথচ, এখন আর ডেভিস কাপ হয়ই না কলকাতায়। কেন, জানাচ্ছিলেন হিরণ্ময়।

    ‘টাকা তো একটা বড় সমস্যা, ঠিক। সঙ্গে, সাউথ ক্লাবের ঘাসের কোর্ট। এখন আর কেউই ঘাসের কোর্টে খেলতে চায় না। আগে যখন ঘাসের কোর্টই আমাদের ভারতীয় খেলোয়াড়দের শক্তি ছিল, এখন নেই। সেটাও একটা বড় কারণ।’

    সাউথ ক্লাবের সভাপতি এখন এনরিকো পিপার্নো, রাহুল টোডি সচিব। তাঁরাও প্রয়োজনীয় টাকা তুলে আনতে পারছেন না, ডেভিস কাপ আয়োজনের।

    সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থার সচিব হতে হলে দেশের অন্তত চারটি ‘অ্যাফিলিয়েটেড’ সংস্থা থেকে ‘নমিনেশন’ পেতে হয়। আর ভারতীয় টেনিসে বরাবরই দক্ষিণী লবি বেশি সক্রিয়। সে সাফল্যে হোক বা প্রশাসনিক দিক দিয়ে। কিন্তু, কলকাতার সোনাদা সেই সব বাধা ডিঙিয়েই আজ অল ইন্ডিয়া টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে।

    কলকাতায় দশটি ডেভিস কাপ আয়োজনের কারিগর হিরণ্ময় বলছিলেন দক্ষিণ কলকাতা সংসদের অফিসে বসে, ‘এত বড় দেশ। আর খেলা নিয়ে কাজ করতে গেলে বহু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তবুও চেষ্টা করছি সবাইকে নিয়ে চলার। যে কোনও সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে মেটানো যায়, বিশ্বাস করি। এখনও পর্যন্ত সেটা করে যাচ্ছি।’

    প্রধান সমস্যা তো কোর্টের বাইরের নয়, কোর্টেই! ডেভিস কাপের দলে লিয়েন্ডার পেজ কি আর সুযোগ পাবেন? মহেশ ভূপতি এখন নন-প্লেয়িং ক্যাপ্টেন। প্রথম ম্যাচেই দায়িত্বে এসে বাদ দিয়েছিলেন লিয়েন্ডারকে। যার ফলে দেশের সবচেয়ে সফল ডেভিস কাপার লিয়েন্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন এখন।

    হিরণ্ময় মনে করছেন, ‘দেশের স্বার্থে জুনিয়রদের তুলে ধরাটাও এখন গুরুত্বপূর্ণ। লিয়েন্ডারের বোঝা উচিত ছিল, ওর এখন র‍্যাঙ্কও তেমন নয়, বয়সও নেই ওর পক্ষে। ওকে সেটা বলেওছি। বুঝেছে, বিতর্ক মিটে গিয়েছে। যথেষ্ট অভিজ্ঞ। এতদিন ধরে সাফল্যের সঙ্গে খেলেছে, দেশের অন্যতম সেরা ডেভিস কাপার। মনে হয় না বিতর্ক থাকবে বলে।’

    তার মানে কি আর সুযোগ পাবেন না লিয়েন্ডার? শেষ হয়ে গিয়েছে তাঁর বর্ণময় ডেভিস কাপ জীবন? মানছেন না সর্বভারতীয় সংস্থার সচিব। পরের ম্যাচের আগে র‍্যাঙ্কিং এবং ফর্মের দিক থেকে কী অবস্থায় থাকেন লিয়েন্ডার, হয়ত তার ওপরেই নির্ভর করবে লিয়েন্ডারের ডেভিস কাপ ভবিষ্যৎ।

    গোটা দেশ থেকেও কি লিয়েন্ডার-মহেশদের যোগ্য উত্তরসূরি উঠে আসছে? বাংলা থেকেও তো তেমন কোনও নাম নেই। ভবিষ্যতের তারকাদের তুল আনার ক্ষেত্রে বা টেনিসের প্রসারের ক্ষেত্রে এখন কী ভূমিকা সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থার?

    হিরণ্ময় জানালেন, ‘আইপিএল-এর ধাঁচে দেশে দুটি বড় প্রতিযোগিতা হচ্ছে। একটির উদ্যোক্তা মহেশ ভূপতি, অন্যটির বিজয় অমৃতরাজ। দুটি প্রতিযোগিতার সাফল্য দেখে বিভিন্ন রাজ্য সংস্থাও এগিয়ে আসছে এই ধরনের প্রতিযোগিতার আযোজন করতে চেয়ে। বেঙ্গল টেনিস অ্যাসোসিয়েশন এবারই শুরু করেছে বেঙ্গল প্রিমিয়ার টেনিস লিগ। ছয় দলের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দুর্গাপুর ওয়ারিয়র্স।’

    বাংলাতেও টেনিসের প্রসারের কাজ চলছে, মনে করছেন হিরণ্ময়। দ্বিতীয় বছর থেকেই বেঙ্গল প্রিমিয়ার টেনিস লিগ চমকে দেবে, আরও জনপ্রিয় হবে, ধারণা তাঁর। ‘অঙ্কিতা, যুবরানি বন্দ্যোপাধ্যায়দের দিকে নজর রাখুন। জাতীয় স্তরে আদিল কল্যাণপুরও দুর্দান্ত প্রতিভা। এখন রাফায়েল নাদালের আকাদেমিতে ট্রেনিং নিচ্ছে। টেনিস আছে ঠিক পথেই। দরকার আর একটু প্রচার ও সচেতনতা। আর এ-ব্যাপারে বিরাট ভূমিকা নিতে পারে সংবাদমাধ্যম,’ মনে করছেন হিরণ্ময়।

    No comments