• Breaking News

    শীর্ষে মুম্বই, শাহরুখের সামনে হেরেও প্লে অফে কলকাতা

     

    মুম্বই ইন্ডিয়ান্স – ১৭৩/৫ (রায়াডু ৬৩, সৌরভ ৫২, বোল্ট ২/৩০)


    কলকাতা নাইট রাইডার্স - ১৬৪/৮ (মণীশ ৩৩, হার্দিক ২/২২, বিনয় ২/৩১, বোল্ট ২/৩৯)


    মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ৯ রানে জয়ী


    ম্যাচের সেরা – অম্বাতি রায়াডু


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    অধিনায়ক রোহিত শর্মা কি নিজেও জানতেন না কতজনকে বদলাচ্ছেন প্রথম একাদশে? নাকি, ভুল করেছিলেন গুনতে! এতজনকে পাল্টালে যা হয় আর কী!

    তাই টস হেরে জানালেন, পাঁচজনকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বেঞ্চের শক্তি যাচাই করতে। আসলে পাল্টালেন ছ’জনকে। যাঁদের বিশ্রাম দেওয়া হল – লাসিথ মালিঙ্গা, নীতিশ রানা, পার্থিব প্যাটেল, হরভজন সিং, যশপ্রীত বুমরা ও মিচেল ম্যাক্লেনাঘান। যাঁরা এলেন – অম্বাতি রায়াডু, সৌরভ তিওয়ারি, ক্রুনাল পান্ড্য, বিনয় কুমার, টিম সাউদি ও মিচেল জনসন।

    আর যাঁরা এলেন তাঁদের দুজনের ব্যাটে ঘরের মাঠে তৃতীয় হারের দিকে এগিয়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। শুরুতে নেমে সৌরভ তিওয়ারির ৪৩ বলে ৫২ রান, ৯ বাউন্ডারির সৌজন্যে। চারে নেমে রায়াডুর ৩৭ বলে ৬৩। ইনিংসে ৬ বাউন্ডারি, তিন ছক্কা। মাঝে অধিনায়ক রোহিত শর্মার ইডেনে অবশেষে কম রানের ইনিংস। ২১ বলে ২৭ রানের। তাতে অবশ্য ১৭৩ রানে পৌঁছতে সমস্যা হয়নি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। গৌতম গম্ভীরদের সামনে বড় লক্ষ্য, ১৭৪ রানের।

    প্লে অফ নিশ্চিত। না হারলে শীর্ষস্থানও। ফলে, সাহসী হয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আর, বড় রান তাড়া করতে গিয়ে হেরে গেলেও তত সমস্যা হবে না জেনে, গৌতম গম্ভীররাও সাহসী হলেন রানরেট বাড়িয়ে রাখার দিকে নজর দিতে। রবিবার রাইজিং পুনে সুপারজায়েন্ট (১৬) খেলবে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের (১৪) বিরুদ্ধে। কিংস জিতলে চার দলের পয়েন্ট হবে ১৬। তখন রানরেট গুরুত্বপূর্ণ। তাই বোধহয় তিনে নেমে গম্ভীরের ব্যাটে চরিত্রবিরোধী ১৬ বলে ২১, তিনটি বাউন্ডারির সঙ্গে একটি ছক্কাও, সচরাচর যা দেখা যায় না। বিশেষত, শুরুতেই ওপেনার সুনীল নারিন যখন চার বলে শূন্য করে ফিরেছিলেন, প্রথম ওভারটা টিম সাউদিকে উইকেট-মেডেন দিয়ে।

    এমনকি, ইউসুফ পাঠান ব্যাট করতে এসেছিলেন যখন তখনও ছক্কা ছাড়া রান করব না এমন মানসিকতার প্রয়োজন হয়ত তত বেশি ছিল না। ক্রিস লিন আউট হয়েছেন, স্বভাবসিদ্ধ ১৪ বলে ২৬ করে। তিনটি চার, দুটি ছয়। পাওয়ার প্লে শেষ হয়েছে সবে, রান মাত্র ৫৩। পাঠান এসে মারমার-কাটকাট ভঙ্গিতে ৭ বলে ২০ করলেন, তিন ছক্কায়। তার মধ্যে অষ্টম ওভারের শেষ দুটি বলে করন শর্মাকে দুটি ছয়। নিমেষে ৫৩ থেকে ৮৭, কিন্তু, পাঠানও আউট।

    ষষ্ঠ উইকেটে মণীশ পাণ্ডে আর কলিন ডে গ্র্যান্ডহোম যখন কলকাতায় দ্বিতীয়বার মুম্বইকে হারানোর সলতেটা একটু একটু করে উস্কে দিচ্ছিলেন, তখনই আবার ১৬ বলে ২৯ করে আউট কিউই ক্রিকেটার। দলের রান ১২৮। জিততে বাকি ৪৬ রান, ৩৫ বলে।

    মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে আইপিএল-এ আগের ১৯ ম্যাচে ১৪বার হেরেছিল কলকাতা। ইডেনে জয় ছিল মাত্র একবার, মোট জয় ৫। শেষ ওভার পর্যন্তই গড়াল খেলা। দরকার ছিল ১৪ রান, শেষ ওভারে। উইকেটে উমেশ যাদব আর ট্রেন্ট বোল্ট, রান করার ব্যাপারে যাদের তত নাম নেই, বিশেষ করে টি টোয়েন্টিতে। বল হাতে হার্দিক পান্ড্য। চার বলে তিন রান দিলেন। পঞ্চম বল ডট। অর্থাৎ, নিশ্চিত হয়ে গেল, ইডেনে এ-মরসুমে প্রথমবার শাহরুখের উপস্থিতিতে কলকাতা হারছেই। শেষ বলে ১ রান নিয়ে ৯ রানে হারল কলকাতা।

    মুম্বই শেষ করল শীর্ষেই। প্লে অফে একটি ম্যাচ জিতলেই ফাইনাল। কলকাতা হয় তৃতীয় বা চতুর্থ হচ্ছে। রবিবার যারা জিতবে, প্লে অফে। পুনে হারলে রান রেট-এর হিসাবে পিছিয়ে পড়বে, পাঞ্জাবের চেয়ে। কলকাতাকে কিন্তু ‘এলিমিনেটর’ খেলতে হবে ফাইনালে পৌঁছতে। মানে, একটিই ম্যাচ, জিতলে আবারও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ, ফাইনালে যেতে। হেরে গেলে বিদায়!

    No comments