• Breaking News

    আই লিগ তুলে দেওয়ার ‘রোডম্যাপ’ এল প্রকাশ্যে! / কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    ডাকা হল টেন্ডার। আইএসএল-এর নতুন দলের জন্য। ‘শহরভিত্তিক লিগ’ জোরদার প্রচারে। কলকাতার দল হলে খেলতে হবে বাইরে। মানতে হবে বিজনেস মডেল। আইজল-মোহন-ইস্ট? দুঃখিত!


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    মুখে বলা হচ্ছে, দেশের সেরা আই লিগই। তলে তলে, আই লিগ তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা পাকা করে ফেলছে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা, পরোক্ষে!

    আইএসএল-এর নতুন দল নেওয়ার টেন্ডার ডাকা হল। ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড বা এফএসডিএল সংস্থা, যারা আইএসএল-এর পরিচালক, বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে ইমেল করে জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২০১৭-১৮ মরসুমে আইএসএল-এ নতুন দলের জন্য নিলামের নিয়ম ও তারিখ। ১২ মে থেকে ২৪ মে-র মধ্যে যে কাজ করে ফেলতে হবে। জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ মে।

    দশটি শহর থেকে আসতে পারে নতুন দল বা দলগুলি। একটি বা তিনটি দল বাড়তে পারে। যে দশ শহর থেকে – আহমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু, কটক, দুর্গাপুর, হায়দরাবাদ, জামশেদপুর, কলকাতা, রাঁচি, শিলিগুড়ি এবং তিরুবনন্তপুরম।

    এবং, যা খুব গুরুত্বপূর্ণ, পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হল, কলকাতা থেকে কোনও দল যদি নির্বাচিত হয়, আগামী ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯, এই দুটি মরসুম তারা কলকাতায় ‘হোম ম্যাচ’ খেলতে পারবে না। অন্য কোনও শহরকে বেছে নিতে হবে।

    এখন, ‘শহরভিত্তিক লিগ’ ব্যাপারটা জোরদার প্রচারে আনার প্রধান কারণ, ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান যাতে আইএসএল-এ খেলতে চাইলে নিজেদের নাম পাল্টাতে বাধ্য হয়। মানে, ‘দুর্গাপুর গ্রিন-মেরুনস এফসি’ বা ‘এফসি শিলিগুড়ি রেড অ্যান্ড গোল্ডস’ গোছের নাম দিতে হবে। কারণ, ‘এফসি’ না-থাকলে আবার ফুটবল ক্লাব কীসের! কলকাতাকে ‘হোম’ হিসাবে দেখানো চলবে না, বলেই দেওয়া আছে। আর ‘বিড’ তো করতেই হবে। টেন্ডার ডাকা হয়েছে যখন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি’ দিতেই হবে। সর্বোচ্চ ‘ফি’ না দিলে তো আর ডাকাই হবে না, মিটে গেল!

    আই লিগজয়ী আইজলকেও আইএসএল-এ অন্তর্ভূক্ত হতে হলে প্রথমে খুঁজতে হবে শহর! মিজোরামের কোনও শহরের নামই নেই। তিরুবনন্তপুরম গেলে ভাল হয়, এমন ভাবনা আইএসএল-এর পরিচালনগোষ্ঠীর! তাঁদের আট চোখের মণি-কে রক্ষা করতেই হবে। তাই নর্থইস্ট ইউনাইটেড-এর স্বার্থে যেন বিন্দুমাত্র আঘাত না আসে, এমন ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করে দেওয়া, শুরুতেই!

    আরও যা বলে দেওয়া হল, যারা যারা ‘বিড’ করবে, যেন সমস্ত নিয়ম মেনেই করে, বিশেষত ‘বিজনেস মডেল’ মেনে। আইএসএল আসার পর ভারতীয় ফুটবলে দুটি শব্দ বেশ জনপ্রিয়। এক ‘গ্রাসরুট’, দুই ‘রোডম্যাপ’। সংবাদমাধ্যমের কাছে পাঠানো ইমেল-এ ওই দ্বিতীয় শব্দটা, অর্থাৎ ‘রোডম্যাপ’ নেই। আছে ‘গ্রাসরুট’। তৃণমূলস্তরে উন্নতির চেষ্টা চালাতেই হবে সব দলকে, বিশেষ জোর দিয়ে বলা হয়েছে, আবারও।

    হ্যাঁ, এ-ও জানানো হয়েছে, তাঁদের নয়নের মণি আট দলের নাম, যাদের গায়ে আঁচড়টুকুও পড়ছে না এই নতুন ব্যবস্থায় – আতলেতিকো দে কলকাতা, চেন্নাইয়িন এফসি, দিল্লি ডায়নামোস এফসি, এফসি গোয়া, এফসি পুনে সিটি, কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি, নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি ও মুম্বই সিটি এফসি।

    খবর, নতুন করে নিলামও হবে, সব ফুটবলারের। কারও সঙ্গে যেন চুক্তি নবীকরণ না হয় আগেই, নির্দেশ গিয়েছে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে। লিগের সময়সীমা বাড়ানো হবে, দল বাড়িয়ে। তাই নতুন করে নিলাম। যাতে, ফুটবলাররা এখন ক্লাবের সম্পত্তি আর না হতে পারে, খেলতেও না পারে আই লিগে। যে-কারণে দুই লিগের সহাবস্থানের প্রবল বিরোধিতা করে এসেছিল কলকাতার দুই ক্লাব, এআইএফএফ সভাপতির সঙ্গে মিটিংয়ে।

    সেই বৈঠকে মিষ্টি করে বলে দিয়েছিলেন সভাপতি প্রফুল প্যাটেল যে, ‘আই লিগই দেশের সেরা।’ আর, জানিয়েছিলেন, ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির ‘রোডম্যাপ’ খুঁজতে তিনি এশীয় পর্যায়ে আলোচনায় যাচ্ছেন।

    নীতা আম্বানির রিলায়েন্স পরিচালিত আইএসএল-এর এই ‘বিডিং’ প্রক্রিয়ার ব্যাপার প্রকাশ্যে আসার পর পরিষ্কার হয়ে গেল আসল ‘রোডম্যাপ’! এই শর্তাবলী মেনে মোহন-ইস্ট আবেদনই জানাবে না, নিশ্চিত। ডেম্পো তো হারিয়েই গিয়েছে ভারতীয় ফুটবল থেকে। আইজল এগোতেই পারবে না সহজবোধ্য কারণে - টাকা নেই। যাদের আইএসএল-এ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন, সমস্যা, বিতর্ক - এক ঢিলে দুই নয়, গোটা সাতেক পাখি মেরে ফেলল রিলায়েন্স!

    সেরা হতেই পারে আই লিগ। কিন্তু সেটাকেই তুলে দিতে পারলে, হাতে থাকবে ‘পেন্সিল’ নয়, আইএসএল! এএফসি-ও তখন বাধ্য হবে আইএসএল চ্যাম্পিয়নকে ডাকতে। সব দিক দিয়েই সহজ গন্তব্য!

    গোটা প্রক্রিয়াটাই আসলে আই লিগ তুলে দেওয়ার ‘রোডম্যাপ’, যা প্রকাশ্যে এল অবশেষে!

    No comments