• Breaking News

    পেনাল্টি নষ্ট আইজলের, পেনাল্টিতেই ফাইনালে বেঙ্গালুরু

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    আই লিগজয়ীদের অভিযান অবশেষে থামল ফেডারেশন কাপে। থামিয়ে দিলেন ক্যামেরন ওয়াটসন। তাঁর আট মিনিটের পেনাল্টি-গোলে ফেডারেশন কাপ ফাইনালে পৌঁছল বেঙ্গালুরু এফসি।

    কটকের বারবাটি স্টেডিয়ামে নাটক গড়াল শেষ অঙ্ক পর্যন্তই। আট মিনিট ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে সন্দেশ ঝিঙ্গন পেনাল্টি দিয়েছিলেন আইজল এফসি-কে। কামো বায়ি-কে বক্সে অবৈধভাবে বাধা দিয়ে। আই লিগজয়ীদের সামনে সুযোগ এসেছিল সমতা ফিরিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময় নিয়ে যাওয়ার। লালরাম চুলোভার দুর্বল পেনাল্টি বাঁচিয়ে দেন অমরিন্দর। সেই সঙ্গেই শেষ বাঁশিও। ফলে, গতবারের মতো ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ওঠা আর হল না খালিদ জামিলের আইজলের।

    ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি পেয়েছিল বেঙ্গালুরু। বক্সের মধ্যে অলউইন জর্জকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ক্যামেরন ওয়াটসনের শট বাঁচাতে পারেননি আলবিনো গোমস। শেষ পর্যন্ত ওই গোলটিই পার্থক্য হয়ে থেকে যায়, ফাইনালে নিয়ে যায় আলবের্ত রোকার দলকে।

    প্রচণ্ড গরমে ম্যাচ যেমন হওয়ার কথা ছিল তেমনই। কিছু কিছু আক্রমণ তুলে এনেছিল দুই দলই। গোল খাওয়ার পরের আধঘন্টা ম্যাচে সত্যিই প্রাধান্য ছিল আইজলের। বেশ কিছু আক্রমণ যেগুলো থেকে গোল হতেও পারত। কিন্তু হয়নি কখনও ম্যাচের সেরা জন জনসনের সময়মতো সতর্কতায়, কখনও আবার কামো বা লালদানমাউইয়াদের সুযোগ নষ্টের কারণে।

    সেই সময়ই ৩৯ মনিটে ওয়াটসনের আর একটি শট পোস্টে লেগেও ফিরে এসেছিল। দ্বিতীয়ার্ধেও বিক্ষিপ্ত কিছু আক্রমণ দুদলেরই। গোলমুখ খুলে ফেলে নিশ্চিত গোলের সম্ভাবনা ছিল না যে সম্ভাবনাগুলোতে। শুধু, লালদানমাউইয়া একবার খাবড়াকে পেছনে ফেলে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন গোলে শট নেওয়ার যা বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন সেই অমরিন্দর।

    সুনীল ছেত্রী হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে প্রতিযোগিতা থেকেই ছিটকে গিয়েছেন। কর্ণেল গ্লেনকে সই করানোর পর চোটের জন্যই তাঁকেও খেলানো যাচ্ছিল না। রোকার দলে সেমিফাইনালে সুযোগ পেয়েছিলেন গ্লেন, সিকে বিনীতের পরিবর্ত হিসাবে ৬২ মিনিটে। যদিও তেমন প্রভাব রাখতে পারেননি ম্যাচে। একবারই লং বল ধরে বিপদের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তাঁর শট থাকেনি তিনকাঠিতে।

    দুবছর আগে এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বেঙ্গালুরু। এবার আইএসএল-এও বেঙ্গালুরু থেকে যারা অংশ নিতে আগ্রহী বলে খবর। আইএসএল-কে এএফসি যদি দেশের সেরা লিগের সম্মান দিয়ে চ্যাম্পিয়নদের দেয় এএফসি-তে খেলার সুযোগ, ফেডারেশন কাপ প্রতিযোগিতাটাই তখন গুরুত্ব হারিয়ে ফেলবে। এমনকি বন্ধও হয়ে যেতে পারে। শেষ ফেডারেশন কাপের ফাইনালে খেলার রেকর্ড তখন থেকে যাবে বেঙ্গালুরুর।

    শনিবারই সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার কাছে প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছিল বেঙ্গালুরু। কটকের গরমে চারের মধ্যে তিনটি ম্যাচ বিকেল চারটেয় খেলা নিয়ে। আগামী ১৭ মে কলকাতায় এএফসি কাপের ম্যাচে আবারও মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলতে হবে বেঙ্গালুরুকে। মোহনবাগান যেহেতু কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে, চাপ থাকবে না। কিন্তু, এএফসি কাপে পরের পর্বে পৌঁছতে গেলে সেই ম্যাচ জিততেই হবে বেঙ্গালুরুকে। ফলে, বেঙ্গালুরু আবেদন জানিয়েছিল, ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠলে যদি ম্যাচটা ২৪ মে করা যায়। এআইএফএফ সেই আবেদনে সাড়া দেবে কিনা, জানা নেই। দিলে, কয়েক দিন বাড়তি সময় পাবেন বেঙ্গালুরুর ফুটবলাররা, গত ছয় দিনে চারটি ম্যাচ খেলতে হল যাঁদের।

    No comments