• Breaking News

    টি টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দেওয়া সবচেয়ে কঠিন : ক্লার্ক



    • গম্ভীর আর জাহিরের অধিনায়কত্ব চোখ টেনেছে




    • চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়া আর ভারতই ফেভারিট




    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে যাঁরা রক্ষণশীল, টি টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বেশ হেলাফেলার চোখেই দেখেন।

    ‘ওই আর কী, খেলা হয়, হাজার হলেও ক্রিকেট, তাই দেখি, কিন্তু, ওটা আসলে ক্রিকেটই নয়’, গোছের মনোভাব। আসল হল টেস্ট ক্রিকেট। একদিনের ক্রিকেট সম্পর্কেও এমন তুচ্ছতাচ্ছিল্য একসময় প্রচলিত ছিল। এখন, কুড়ি-কুড়ি আসার পর জাতে উঠেছে একদিনের একদা ‘পাজামা’ ক্রিকেটও। এখন যাবতীয় রোষের একমাত্র ঠিকানা টি টোয়েন্টি।

    কিন্তু, সাম্প্রতিক অতীতেও টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক, শনিবারের বারবেলায় যা বলে গেলেন গ্র্যান্ড হোটেলের সাংবাদিক সম্মেলনে, হজম করা সেই সব গোঁড়া ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বেশ চাপের ব্যাপার!

    ‘টি টোয়েন্টিতে অধিনাকত্বই সবচেয়ে কঠিন। পুরোটাই তাৎক্ষণিক। সহ অধিনায়ক বা অন্য কোনও ক্রিকেটারের সঙ্গে একটু কথা বলবেন, স্লিপে দাঁড়িয়ে গালে হাত দিয়ে উইকেটকিপারের সঙ্গে একটু আলোচনা করে নেবেন - কোনও উপায় নেই! দেখো, বোঝো, সিদ্ধান্ত নাও। টি টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব ব্যাপারটা কেন যে ব্যাপারটা ততটা আমল পায় না, বোঝা কঠিন।’

    আর, এই প্রসঙ্গেই তুলে আনলেন শেন ওয়ার্নের নাম। ‘টি টোয়েন্টিতে টুর্নামেন্ট জেতাতে পারে ক্যাপ্টেন। শেন ওয়ার্ন দেখিয়ে গিয়েছিল প্রথম আইপিএল-এ, রাজস্থান রয়্যালসকে জিতিয়ে। দলের সবাই ভাল খেলেছিল, ঠিক। কিন্তু, ক্যাপ্টেন হিসাবে ওয়ার্ন সেরাটা বের করে এনেছিল সবার থেকে। ট্যাকটিক্যালি দুর্দান্ত খেলেছিল রাজস্থান।’

    দশম আইপিল-এ তিনি এখন ধারাভাষ্যকার। নিজে একটিই মরসুম খেলতে পেরেছিলেন। চোটের কারণে সেভাবে খেলতে পারেননি। কিন্তু, যত দিন যাচ্ছে, প্রেমে পড়ছেন ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট ফরম্যাটের। আর, অধিনায়ক হিসাবে দশম আইপিএল-এ তাঁর চোখ টেনে নিয়েছেন গৌতম গম্ভীর ও জাহির খান, জানাতে ভুললেন না।

    বিশেষজ্ঞের ভূমিকায় হাজির মাইকেল ক্লার্ক আর সপ্তাহ তিনেক পরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে আলোচনা হবে না, হয় নাকি? শেষ যে ফিফটি-ফিফটি বিশ্বকাপ হয়েছিল, জয়ী দলের তিনিই যে অধিনায়ক! ট্রান্স-তাসমানিয়ান ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে।

    ক্লার্ক জানালেন, ‘ভারত আর অস্ট্রেলিয়াই ফেবারিট। ভারত গতবারের চ্যাম্পিয়ন। অস্ট্রেলিয়া আমার দেশ। এই দুই দলের মধ্যে ফাইনাল হোক, অস্ট্রেলিয়া ১ রানে জিতুক, চাইব!’

    তবে, ক্রিকেটীয় ব্যাখ্যায় ঢুকে আলোচনায় উঠে এল দক্ষিণ আফ্রিকাও। ‘খেলা হবে ইংল্যান্ডে। উইকেটে পেস আর সুইং থাকলে অস্ট্রেলিয়াকে ধরা মুশকিল। স্টার্ক আছে, প্যাটিনসন, কামিন্স, হ্যাজেলউড। প্রত্যেকেই ঘন্টায় ১৪০-১৫০ কিলোমিটার বেগে বল করতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণও খুব ভাল। অনুকূল পরিস্থিতিতে ওদের সামলানোও সমস্যা। আবার, যদি গরম পড়ে, উইকেট সামান্য হলেও স্পিনসহায়ক হয়, ভারতের সেরা দুজন বোলার আছে, ওই পরিস্থিতি কাজে লাগানোর জন্য। রবিচন্দ্রন অশ্বিন আর রবীন্দ্র জাদেজা।’

    কিন্তু, আইপিএল-এ যেমন হচ্ছে এখন, ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা তো রানই পাচ্ছেন না প্রায়। বিশেষত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ক্লার্ক অবশ্য সেটাকে এতটা গুরুত্ব দিতে রাজি নন। প্রথমত ফর্ম্যাট পাল্টে যাচ্ছে বলে। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় ব্যাটসম্যানরাও আইপিএল-এ পারফরম্যান্সকে ততটা গুরুত্ব দেবেন না, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময়।

    ‘খেলাটা তো সবক্ষেত্রেই এক। কিন্তু, ফর্ম্যাট বদলে যাওয়া মানে অনেকটাই পাল্টে যায়। ভারতীয়রা অধুনা ছোট ফর্ম্যাটের সব ধরনের ক্রিকেটেই বেশ ভাল খেলে চলেছে। ইংল।আন্ডেও ভালই খেলেছে। তা ছাড়া, গতবারের চ্যাম্পিয়ন। সে কারণেও বাড়তি আত্মবিশ্বাসী থাকবে ওরা। দলটাও বেশ ভাল। তরুণ এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা মিলেমিশে থাকায় ভারসাম্য আছে। মনে তো হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া আর ভারতই খেলবে ফাইনালে।’

    নেতৃত্ব ব্যাপারটা যে বেশ ভালবাসেন, পরিষ্কার কথাতেই। আদিত্য বিড়লা স্কুল ও আকাদেমির পক্ষ থেকে ৩০ জন তরুণ ক্রিকেটারকে পাঠানো হবে সিডনিতে, ক্লার্কের আকাদামিতে যারা অনুশীলন করার সুযোগ পাবে। তাদের মধ্যে আছে কাশ্মীরের এক কিশোরীও, ইকরা রসুল যার নাম। আনগুল মুনায়েম ও ঝুলন গোস্বামী যাকে তৈরি করছেন। ক্লার্ক খুব খুশি এমন কাজে যুক্ত হতে পেরে।

    ‘সবার মধ্যেই প্রতিভা থাকে। নেতৃত্ব দেওয়ার গুণও থাকে। সেটা ডেভেলপ করাতে হয়। কোনও কিছুই ঈশ্বরদত্ত, বলে বিশ্বাস করি না। হয়ত কোনও গুণ থাকে, সুপ্ত অবস্থায়। নিরলস অনুশীলনের মাধ্যমে তাকে শ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হয়। আমার আকাদেমিটা অনেকটা সেই রকম। সবার মধ্যে থেকে তাদের সেরাটা বের করে আনার সুযোগ দিই আমরা। যারা এবার যাচ্ছে, ক্রিকেট অনুশীলন তো করবেই। সঙ্গে থাকবে পড়াশোনা, ক্রিকেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার জন্য মানসিক দিক দিয়েও কী কী ভাবে তৈরি হয়ে ওঠা যায় – সব। ভাল খেলোয়াড় হয়ে উঠুক বা না, আমি চাই সবাই যেন ভাল মানুষ হয়ে ওঠে, যা সবচেয়ে বড় ব্যাপার,’ বলছিলেন ক্লার্ক।

    আইপিএল-এ তাঁর চোখ টেনে নিয়েছে কিছু তরুণ। ঋষভ পন্ত, পান্ড্য-ভাইয়েরা, এমনকি নাম নিলেন অজিঙ্ক রাহানেরও। আর, আইপিএল বা এমন টুর্নামেন্ট তাঁর কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ, ‘আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রিকেটারদের সঙ্গে এবং বিপক্ষে খেলতে খেলতে সবাই তৈরি হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক আসরে নিজেদের ঠিকঠাক মেলে ধরার জন্য। বিগ ব্যাশেও তেমনই হয়। হাজার হাজার দর্শকের সামনে খেলা। মাঠের বাইরে টিভিতে তো লক্ষ লক্ষ দর্শক। এভাবেই ঠিক তৈরি হয়ে যায় পরবর্তী প্রজন্ম। তাই মনে হয় যে, ভারতীয় ক্রিকেট আছে ঠিক মানুষগুলোর হাতেই।’

    কিন্তু, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড যে, শোনা যাচ্ছে, আইপিএল-এ আর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের খেলতে আসতে দেবে না। ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথরা কি আর আসবেন না তা হলে?

    ক্লার্ক মানছেন না। নিজের উদাহরণ দিলেন। ‘যতদিন ক্রিকেট খেলেছি, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সব সময় সমর্থন করেছে। আর আইপিএল তো প্রতিযোগিতা হিসাবেও খুবই ভাল। কেন আসবে না? ঠিক জানা নেই, কী বলা হয়েছে। না জেনে মন্তব্য করব না তাই। যা জানি, ক্রিকেট খেলাটা যে ওকনও ব্যক্তির চেয়ে বড়। ধরুন না, স্যর ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানকেও একদিন অবসর নিতে হয়েছিল। তাতে কি ক্রিকেট থেমে গিয়েছে বা গিয়েছিল? ওয়ার্নার-স্মিথরাও আসবে, খেলতেই। ওরা ভারতে আসতে ভালবাসে। যথেষ্ট সাফল্য পেয়েছে। কেন আসবে না। আর, আমি তো আসবই। খেলতে নয়, কমেন্ট্রি করতে‌!’

    No comments