• Breaking News

    গোল খাওয়ার রোগ মনা-রঞ্জন জমানাতেও!

    ড্র দিয়েই শুরু ইস্টবেঙ্গলের ফেডারেশন কাপ অভিযান, নেওয়া হল না আই লিগে হারের প্রতিশোধ


    ইস্টবেঙ্গল ১     চার্চিল ব্রাদার্স ১


    (ওয়েডসন ৬৬) (ক্রোমা ৮১)


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    ওয়েডসন আনসেলমে গোল পেয়েছেন সবে। টিভি ক্যামেরা ধরল সহকারি কোচ রঞ্জন চৌধুরিকে। দলের ডিফেন্ডারদের দিকে তাকিয়ে, এক হাতের ওপর অন্য হাত রেখে বোঝাতে চেয়েছিলেন, জমাট থাকো, একত্রিত থাকো, গোলটা ধরে রাখো। কিন্তু, ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ গোল খাবে না, এ-ও কি হয়! ফলে, ফেডারেশন কাপও শুরু করল ইস্টবেঙ্গল, এক পয়েন্ট নিয়েই।

    ট্রেভর জেমস মর্গ্যান জমানা থেকে কী কী বদল হয়েছে? সাহেব কোচ একেবারেই পছন্দ করতেন না উইং দিয়ে খেলতে। তাই তাঁর দলে বিকাশ জাইরু, রোমিও ফেরনানদেজ-দের জায়গা ছিল না। মেহতাব হোসেন একাই সামলাতেন আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার আর ডিফেন্ডারদের মাঝের অঞ্চল। মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য দায়িত্বে এসে সেখানে আরও শক্তি জুড়তে চেয়েছিলেন বোর্জেসকে মেহতাবের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে। আর দু’প্রান্ত দিয়ে নিখিল আর বিকাশকে দৌড়নোর স্বাধীনতা। অঙ্কের খাতায় হিসাব খানিক মিলল বটে, ফুটবলের খাতায় বিরাট পার্থক্য হল না!

    এমনকি, শুভাশিস চৌধুরি কুঁচকিতে চোট পাওয়ার পর সেই রেহনেশের শরণাপন্নই হতে হল ৫৮ মিনিটে। গোলের সময় রেহনেশের শুয়ে পড়ে বল বের করে দেওয়ার চেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়াল বুকেনিয়ার পাহাড়-প্রমাণ শরীর। বল থেকেই গেল বক্সে। ব্রেনদন ফেরনানদেজ পেছনে পাস দিলেন ফাঁকায় দাঁড়ানো আনসুমানা ক্রোমা-কে। ডান পায়ের শট জালে। নতুন প্রতিযোগিতাতেও জিতে শুরু করতে পারল না ইস্টবেঙ্গল, নতুন জমানায়। আই লিগে এই চার্চিলের কাছে ঘরের মাঠে হেরে বেলাইন হওয়া শুরু হয়েছিল মর্গ্যান এক্সপ্রেস-এর। ফেডারেশন কাপে নেওয়া গেল না তার প্রতিশোধ।

    দলগত খেলায় একা কাউকে দায়ী করা দস্তুর নয়, যদিও সেই দস্তুর মেনে চলতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতাও নেই। উইলিস প্লাজার কথা তাই উল্লেখ করতেই হবে। ১২ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে এনে দিতে পারতেন কাঙ্ক্ষিত গোল। খেলার শুরুতে গোল পেলে সব দলেরই মনোবল বাড়ে, ফুটবলের গোড়ার কথা। ত্রিনিদাদের স্ট্রাইকার দৌড়ে বলটা পেয়ে গিয়েছিলেন পায়ে। এমন জায়গায় যেখানে সামনে শুধু গোলরক্ষক নবীন কুমার। কিন্তু, প্লাজার শট ঠিক সেখানে যেখানে থাকলে গোলরক্ষক বাঁচাতে পারেন!

    বলের দখল বেশি ছিল ইস্টবেঙ্গলের। কিন্তু, বল পায়ে থাকলেও যদি কাজের কাজ না হয়, সেই ‘পজেশন’ দাপট বোঝায় না। প্রথমার্ধ শেষে তাই গোলশূন্য। কিন্তু, তিনকাঠির মধ্যে শট ইস্টবেঙ্গলের যতগুলো দেরিক পেরিরার চার্চিলেরও ততগুলোই।

    ওয়েডসনের পায়ে অবশেষে গোল, ৬৬ মিনিটে। হাইতির ফুটবলার দেখালেন বটে শারীরিক শক্তি। কীনান, আদিল, রোলিনসন – তিনজনের মধ্যে দিয়ে বল নিয়ে গেলেন স্রেফ শরীরটাকে কাজে লাগিয়ে। তারপর ডান পায়ের শট যা ধরা সম্ভব ছিল না নবীন কুমারের পক্ষে। পেলেন ম্যাচের সেরার পুরস্কারও, সেই গোলের কারণেই।

    কিন্তু, এগিয়ে গিয়েও গোল ধরে রাখতে না-পারার পুরনো রোগ ছাড়ল না মনোরঞ্জন-রঞ্জন জমানাকেও, নতুন প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে!

    ইস্টবেঙ্গল – শুভাশিস (রেহনেশ ৫৮), ভেকে, গুরবিন্দর, বুকেনিয়া, নারায়ণ, মেহতাব, বোর্জেস, পুজারি (রোমিও ৬৮), ওয়েডসন, জাইরু, প্লাজা (রবিন ৮৪)

    No comments