• Breaking News

    ‘নো মোহনবাগান, নো ইস্টবেঙ্গল, নো আইএসএল’

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    এআইএফএফ-এর বিরুদ্ধে পরোক্ষে বিদ্রোহের রাস্তায় এবার মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল।

    শনিবার বিকেলে আইএফএ-র সভায় মোহন-ইস্টের কর্তারা আলোচনায় বসেছিলেন আইএফএ সচিব উৎপল গাঙ্গুলির সঙ্গে। সেই সভাতেই পরিষ্কার ডাক দেওয়া হয়, সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে। আইএফএ সচিবকে পাশে নিয়ে জানিয়েও দেওয়া হয়, কুয়ালালামপুরে এএফসি-র সঙ্গে বৈঠকে যাচ্ছে না দুই প্রধান।

    সচিবের কথায়, ‘এএফসি-তে কেন যাবে দুই ক্লাব? এটা তো সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার ব্যাপার। ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা হবে, সেখানেই ঠিক হবে। এখানে এএফসি কী করবে? আরও বড় ব্যাপার, এআইএফএফ বলেছে, সেই সভায় হাজির থাকবে স্টেকহোল্ডাররাও। এই স্টেকহোল্ডার কারা? কেনই বা তাঁরা থাকবে সেই সভায়? এই সব নিয়েই আগামী ২৯ মে চিঠি পাঠাব এআইএফএফ-এর কাছে। সেই চিঠির সন্তোষজনক উত্তর পাওয়ার আগে পর্যন্ত কুয়ালালামপুরে যাওয়া নিয়ে কোনও বক্তব্যই নেই।’

    আইএফএ-র সভায় দুই প্রধানের তরফেই হাজির ছিলেন তিনজন করে প্রতিনিধি। মোহনবাগানের পক্ষে অঞ্জন মিত্র, সত্যজিৎ চ্যাটার্জি এবং দেবাশিস দত্ত। ইস্টবেঙ্গলের কল্যাণ মজুমদার, শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত এবং দেবব্রত সরকার। দুই প্রধান মোটামুটি বিদ্রোহ ঘোষণার পথে, বুঝিয়ে দেওয়া হয যখন অঞ্জন মিত্র জানিয়ে দেন, ‘নো মোহনবাগান, নো ইস্টবেঙ্গল, নো আইএসএল। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান না খেললে এখানে (কলকাতায়) আইএসএল-এর কোনো্ খেলাই হতে দেওয়া হবে না, পরিষ্কার। এআইএফএফ-এর অত্যাচার আর সহ্য করবে না দুই ক্লাব।’

    দুই প্রধান তাদের তিন দাবির ব্যাপারে অনড়।

    দাবি এক – আইএসএল-এ খেললে, কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দেবে না।

    দাবি দুই – আইএসএল-এ খেললে, খেলতে দিতে হবে কলকাতায়।

    দাবি তিন – দুটো লিগই চললে, আই লিগে খেলতে কোনও অসুবিধে নেই। কিন্তু, চার মাস করে খেলাতে হবে দুটি লিগ, দুটি ভিন্ন সময়ে। সাত মাস ধরে দুটি লিগই চলবে একই সঙ্গে, এ দাবি মানার কোনও সম্ভাবনাই নেই।

    ফুটবলের নামে ব্যবসাকে কোনওভাবেই সমর্থন নয়, জানিয়ে দেওয়া হল। তবে, সরকারিভাবে প্রতিবাদ বা বিদ্রোহের রাস্তায় এক্ষুনি নয়। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা যেতেই পারে, বিশ্বাস করছেন দেবব্রত সরকার। ‘প্রফুলবাবু যদি চান যে ইস্ট-মোহন আইএসএল-এ খেলুক, তা হলেই সমস্যা থাকে না। কিন্তু উনি তেমন চাইছেন না বলেই ব্যাপারটা মিটছে না। আমার মতে উনিই একমাত্র প্রতিবন্ধক, এই ব্যাপারে।’

    মোহনবাগানের দেবাশিস দত্তের মতে, এআইএফএফ এখন যা করছে, আই লিগকে দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রতিযোগিতায় পরিণত করার দিকে তাকিয়ে। ‘আই লিগের অবমূল্যায়ন হচ্ছে। যেভাবে আইএসএল-কে প্রোমোট করা হচ্ছে বিরাট করে, বিরাটভাবে পয়সা ছড়িয়ে, ইচ্ছে করেই আই লিগটাকে নিচু করে দেখানো হচ্ছে তাতে, যা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়।’

    কলকাতার দুই প্রধানের প্রাথমিক আপত্তি ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং কলকাতায় খেলতে না-দেওয়ার ‘এক শহর, এক ফ্র্যাঞ্চাইজি’ নিয়মের বিরুদ্ধে। দেবাশিস দত্ত শনিবারও বলেছেন, প্রাথমিক সমস্যা ওই ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দেওয়া নিয়েই। ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের মাথা উঁচু করে চলতে। ভেনু নিয়ে সমস্যাটা আদৌ কিছু নয়। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও আতলেতিকো দে কলকাতার সঙ্গে কথা বলে মিটিয়ে দিতে পারবেন, বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু, ভারতীয় ফুটবলে যে দুটি ক্লাবের অবদান সবচেয়ে বেশি সেই ঐতিহ্যশালী দুটি ক্লাব ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দিয়ে কোনও প্রতিযোগিতায় খেলবে না।’

    প্রসঙ্গত, আইএসএল-এ খেলার জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ পেরিয়ে গিয়েছে। দুই ক্লাবই কিন্তু দরপত্র তুলেও জমা দেয়নি।

    আর এআইএফএফ যদি পৃষ্ঠপোষক সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে কুয়ালালামপুরে সভা করতে চায়, দুই ক্লাব আপাতত যাচ্ছে না, নিশ্চিত।

    সত্যিই তো, ঘরের সমস্যা ঘরে না মিটিয়ে কী করেই বা এএফসি-তে নিয়ে যাওয়া সম্ভব? কেনই বা? কার বা কোন সংস্থার বিশেষ স্বার্থে?

    No comments