• Breaking News

    জিদানের প্রাক্তন জুভেন্তাসের বিরুদ্ধে জিদানের বর্তমান রেয়ালের ফাইনাল // কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    হেরেও রেয়ালই চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে


    আতলেতিকো মাদ্রিদ ২   রেয়াল মাদ্রিদ ১


    (সাউল ১২, গ্রিজমান ১৬ পে) (ইসকো ৪২)


    দু-পর্ব মিলিয়ে রেয়াল জয়ী ৪-২


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    আশা নেই-ই যখন, কী হবে আর শৃঙ্খলিত ফুটবলে? ছিঁড়ে ফেলো শিকল। বন্ধনহীন, পিছুটানহীন আক্রমণের পথে চলো। হারবই তো বড়জোড়। জীবনে প্রথমবার তো নয়!

    এক-একটা দিন হয় এমন। দিয়েগো সিমিওনের মতো ‘সর্বহারা’-র হয়ত মনে হয়েছিল তেমনই। দু-দু’টো চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে হেরেছেন। প্রথমবার তো ৯২ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও। তা ছাড়া, আরও একবার কোয়ার্টার ফাইনালে। এই একই বিপক্ষের কাছে। এবার সেমিফাইনালে। সুযোগ এসেছে যখন নিজেদের মাঠে শেষ ম্যাচটা খেলার, দেখাই যাক না, আগল খুলে খেলে।

    তাতে ১৬ মিনিটে দু-গোল। রেয়ালের ৩-০ ব্যবধান তখন ৩-২, নিমেষে। ভিসেন্তে কালদেরন ফুটছে যেন! সাউল হেডটা দিলেন, মনে করিয়ে দিলেন সেই ৯২ মিনিটে সের্খিও রামোসের ফাইনালের হেডটা। জোরালো, সব মাথা ছাড়িয়ে ওঠা হেড, দেখতে হল সেই রামোসকেই!

    তিন মিনিট পরই পেনাল্টি, যা পাওয়া গিয়েছিল কারাসকোর পাস ধরে ফেরনান্দো তোরেসকে এগিয়ে যেতে ভারানে বাধা দেওয়ায়, অন্তত তেমনই ভেবেছিলেন রেফারি। গ্রিজমান এগোলেন শট নিতে। যত ভাল নেন সচরাচর ততটা ভাল হয়নি। কিন্তু কেলর নাবাস হাত ছোঁয়াতে পারলেও বাইরে পাঠাতে পারেননি। সিমিওনের উল্লাস দেখার মতোই!

    কিন্তু অভ্যাস না থাকলে যা হয়। এভাবে বল ধরে খেলা, প্রতিনিয়ত আক্রমণে যাওয়ার খেলাটাও অভ্যাস। আর কে না জানেন, অনভ্যাসের ফোঁটা চড়চড় করে! মেজাজ চড়ল আতলেতিকোর। সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেলে মাথা গরম শুরু। রেয়াল মাদ্রিদ কিন্তু চেয়েইছিল তেমন। খেলা থেকে সরে যাক লক্ষ্য। অ্যাওয়ে ম্যাচ, হাতে তিনগোলের ব্যবধান, বিপক্ষ যত উত্তেজিত হোক, টানা ৬০ ম্যাচে গোল-পাওয়া দল জানে, আরও একটা গোল মানেই তো শেষ। রেয়াল মাদ্রিদ শুরু করল পজেশনাল ফুটবল। বলটা একটু বেশি পায়ে রাখা, বিপক্ষ যাতে হতাশ হয়, গতি কমে খেলার।

    শেষ চার বছরে তিনবার ফাইনালে উঠবে যে-দল, এমনি এমনিই কি আর! করিম বেনজেমা মর্যাদা দিলেন তাঁর ফরাসি কিংবদন্তি কোচকে। জিনেদিন জিদান কেন তাঁকে খেলিয়ে চলেছেন, আলভারো মোরাতার মতো তরুণ তুর্কিকে বেঞ্চে রেখে, রোজ প্রশ্ন উঠছে। মরসুম শেষে কী হবে জানা নেই, বেনজেমা সেই আস্থার মর্যাদা দিলেন সোনার দৌড়ে। তিন আতলেতি ডিফেন্ডারকে গায়ে নিয়ে বাইলাইন ধরে পেরিয়ে গেলেন তাঁদের। ভেতরে বক্সে-থাকা ক্রুসের জন্য বের করে আনলেন পাস। ক্রুসের ডান পা ঝলসে উঠল, ওবলাকও উঠলেন দক্ষতার শীর্ষে, মাটিঘেঁষা শটটা বাঁচাতে। কিন্তু, বাঁচিয়ে দেওয়া বলটা থেকে গেল সামনে। ওত পেতে ছিলেন ইসকো। জালে ঠেলে দিতেই ম্যাচের রাশ আবার রেয়ালের হাতে। আরও তিন গোল করতে হবে যে আতলেতিকোকে!

    পিএসজি ম্যাচে বার্সেলোনা যেভাবে ফিরেছিল, অকল্পনীয় বলেই বাস্তবে বারবার হয় না। আতলেতিকোর ফিরে-আসার বেলুনটাও তাই চুপসে গেল, ইসকোর গোলটার পর। দ্বিতীয়ার্ধে কিছু চেষ্টা হল, দূর থেকে। ততক্ষণে জানা হয়ে গিয়েছিল ভবিষ্যৎ। ইউরোপে তাদের শহর-শত্রুদের একটা ম্যাচে হারানো হয়ত সম্ভব, দু-ম্যাচের ১৮০ মিনিট মিলিয়ে নয়।

    সুতরাং, টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে রেয়াল মাদ্রিদ এবার। ইউরোপীয় ক্লাবস্তরের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার নাম ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ’ হওয়ার পর টানা দুবার কোনও ক্লাব জেতেনি।

    রোনালদোর রেয়াল, জিদানের রেয়ালের সামনে এবার সেই অসম্ভবকেও সম্ভব করার লক্ষ্য। জিদানেরই প্রাক্তন ক্লাব জুভেন্তাসের বিরুদ্ধে, কার্ডিফে, আগামী ৩ জুন!

    No comments