• Breaking News

    মোহনবাগানের ট্রফিশূন্য মরসুম, বিনীতের জোড়াগোলে বেঙ্গালুরু সেরা

    বেঙ্গালুরু এফসি ২‌ মোহনবাগান ০


    (সিকে বিনীত ১০৭, ১১৯)


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    ট্রফি জিতে মরসুম শেষ করতে পাররল না মোহনবাগান। সর্বভারতীয় ট্রফি আবারও বেঙ্গালুরু এফসি-র। ফেডারেশন কাপ ফাইনালে দুর্দান্ত খেলে পরিবর্ত সিকে বিনীতের জোড়া গোলে আবারও মরসুম শেষ করল ট্রফি পেয়েই।

    ২০১৩ সালে ভারতীয় ফুটবলে যাত্রা শুরু করেছিল বেঙ্গালুরু। ২০১৩-১৪ ও ২০১৫-১৬, দুবার জিতেছে আই লিগ। ২০১৪-১৫ ও ২০১৬-১৭ মরসুমে জিতল ফেডারেশন কাপ। অর্থাৎ, টানা চার বছর ভারতের সেরা দুটি ট্রফির অন্তত একটি জিতল বেঙ্গালুরু।

    সুনীল ছেত্রী এবং ক্যামেরন ওয়াটসন না থাকায় বেঙ্গালুরু তুলনায় কমজোরি ছিল ফাইনালে, নিশ্চিত। কিন্তু, চ্যাম্পিয়ন দল সত্যিই কারও অভাব বুঝতে দেয় না। ঠিক যেমন বুঝতে দেননি ইউজেনিসন, লিংদো, উদান্ত, লেন-রা এবং অবশ্যই চোট-পাওয়া উদান্তের পরিবর্ত হিসাবে ৬০ মিনিটে মাঠে-নামা বিনীত।

    অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রথম গোল। মোহনবাগান রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে জোরালো শটে দেবজিৎকে পরাস্ত করে। ১০৭ মিনিটের গোলই যথেষ্ট হতে চলেছে মনে করার সময়ই ১১৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোল। সোনি নর্দে-কাতসুমি ইউসা-ড্যারিল ডাফি, বাগানের বিদেশি ত্রয়ীর কিছু করার ছিল না আর!

    নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে দুটি গোল বাতিল হয়েছিল বেঙ্গালুরুর। যার মধ্যে ৪৯ মিনিটের গোলটি ভুল অফসাইডের সিদ্ধান্তে বাতিল। লিংদোর ফ্রি কিক থেকে হেড করেছিলেন জন জনসন, পেছন থেকে এসে হুয়ানন নিশ্চিন্তে গোল করে যান। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সহকারি রেফারি অফসাইডের কারণে পতাকা তুলে ধরেন। তবু, রেফারির সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেলেও হাল ছাড়েনি বেঙ্গালুরু। যার ফলে ফাইনালে ১২০ মিনিট পর ভারেত প্রথম ট্রফি পেলেন স্পেনীয় আলবের্তো রোকা। তাঁর প্রশিক্ষণে গতবার এএফসি কাপের ফাইনালে হেরেছিল বেঙ্গালুরু। এবার আই লিগে চতুর্থ। আর, প্রথম ট্রফি রবিবার বরাবাটি স্টেডিয়ামে।

    ষষ্ঠ ম্যাচ দুই দলের। নিজেদের মাঠে এএফসি কাপের ম্যাচে ২-১ জিতেছিল বেঙ্গালুরু, আগের পাঁচ ম্যাচে। এবার জিতল গুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল, নিশ্চিত করল এএফসি কাপে জায়গা, যদি অবশ্য এআইএফএফ আবার নতুন কোনও নিয়ম না তৈরি করে ফেডারেশন কাপজয়ীদের এএফসি কাপে খেলার সুযোগ কেড়ে না নেয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবলের পক্ষে দাঁড়িয়ে পড়ে!

    ৬৩ মিনিটে শৌভিককে তুলে জেজে লালপেখলুয়া। সঞ্জয় সেন আক্রমণাত্মক হতে চেয়েছিলেন, তিন ফরোয়ার্ডে চলে গিয়ে। ৬৫ মিনিটে শুভাশিসকে তুলে প্রবীর দাস। আক্রমণাত্মক না হতে চাওয়ার যে অভিযোগ ছিল কোচের বিরুদ্ধে আই লিগ চলাকালীন, বিশেষত অ্যাওয়ে ম্যাচগুলোতে, ফেডারেশন কাপ ফাইনালে সঞ্জয় কিন্তু চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। এদু চোট নিয়েও খেলছিলেন। ৭৬ মিনিট পর্যন্ত তাঁকে মাঠে রেখেছিলেন সঞ্জয়, পরে নামালেন রাজু গায়কোয়াড়কে, বাধ্য হয়েই। ফলে, শেষ হয়ে গিয়েছিল পরিবর্ত নামানোর সম্ভাবনা, মোহনবাগানের।

    কিন্তু, কাজের দিনে কোনও কিছুই কাজে আসেনি বাগানের। সোনি নর্দে বেশ কয়েকবার বাঁদিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে এসেছিলেন, বিপজ্জনকভাবেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে ততটা বিপজ্জনক হতে দেয়নি বেঙ্গালুরু রক্ষণ, যেখানে সন্দেশ ঝিঙ্গন-জন জনসন-হুয়ানন তো বটেই, এমনকি খাবড়াও রক্ষণাত্মক কাজেই মন দিয়েছিলেন, কোচের পরামর্শমতো। তিনকাঠির তলায় তো অপরাজেয় ছিলেনই অমরিন্দর। বলবন্তের জোরালো শট যেভাবে বাঁচিয়েছিলেন, বেঙ্গালুরু আলাদাভাবে ধন্যবাদ জানাবেই তাঁদের শট-স্টপারকে।

    তবু, ৯৪ মিনিটে ট্রফি জিতে যেতেই পারত মোহনবাগান। সোনির কর্নার থেকে বল পেয়ে বলবন্ত তুলে দিয়েছিলেন বক্সে। বল পড়েছিল জেজের মাথায় যাঁর হেড বাইরে যায়। কেউ বাধাই দেননি জেজেকে, তবুও। শেষ মুহূর্তের ওই গোলই ট্রফি তখনই এনে দিতে পারত মোহনবাগানকে, যা হয়নি।

    গত দুবছরে একবার আই লিগ আর শেষবার ফেডারেশন কাপ। এবার, মরসুম শেষে মোহনবাগানের ঘর ট্রফিশূন্য! ফুটবলে এমন হয়, প্রতিবার সব দল ট্রফি পায় না। মোহনবাগানেও প্রথমবার ট্রফিশূন্য মরসুম নয়। তবুও, আই লিগে কাছে এসেও ছিটকে যাওয়ার পর, এমন দল নিয়ে ট্রফি না-পাওয়ার যন্ত্রণা হয়ত ভুলতে কষ্টই হবে সঞ্জয় সেনের।

    No comments