• Breaking News

    তিন স্ট্রাইকারেরই গোল, বলবন্তের ২

    দাপটে ফেডারেশন কাপ অভিযান শুরু করল গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান


    মোহনবাগান ৪    ডিএসকে শিবাজিয়ান্স ০


    (বলবন্ত ২৪, ৭১, ডাফি ৬৫, জেজে ৯২)


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    ২৪ মিনিট – প্রান্ত বদলে ডান দিকে চলে এসেছিলেন সোনি নর্দে। নার্জারি আর রিনজুয়ালাকে সুযোগ না দিয়ে বক্সে মাপা সেন্টার পাঠান। বলবন্ত সিং তৈরি ছিলেন। জোরালো হেডে বল জালে। আক্ষরিক অর্থেই স্ট্রাইকারসুলভ গোল। এত জোরালো হেডে গোল এখন ভারতীয় ফুটবলে কমই দেখা যায়।

    ৬৫ মিনিট – আবারও সোনি। এবার কর্নার থেকে। এদুর মাথায় লেগে বল বক্সে, ডাফির হেডে ২-০। রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামের বাইরে ড্যারিল ডাফির এবার প্রথম ‘অ্যাওয়ে’ গোল। আইজলের বিরুদ্ধে গোলটা যদি মিস না করতেন, আই লিগ খেতাব হয়ত সাজিয়ে রাখা হত মোহনবাগান তাঁবুতেই। ফেডারেশন কাপের প্রথম ম্যাচে গোল পেয়ে শোক খানিকটা ভুললেন হয়ত ডাফি।

    ৭১ মিনিট – ডাফি বল দিয়েছিলেন শৌভিককে। শৌভিকের শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বলবন্তের কাছে। শটটা দুর্বল ছিল, রোহিত কুমার আটকে দেন। কিন্তু ফিরতি বলে ঠিকঠাক শট বলবন্তের। এবার আর কোনও সুযোগ ছিল না। জোড়া গোল, মোহনবাগানের তিন পয়েন্টও নিশ্চিত। ম্যাচের সেরার পুরস্কারও!

    ৯২ মিনিট – জেজে লালপেখলুয়াই বাকি থাকেন কেন! স্কোরলাইনে তাঁর নামও জুড়ল। বলটা পেয়েছিলেন পেছন থেকে। ম্যাকফল সঙ্গে ছিলেন বটে, কিন্তু পেরিয়ে যেতে কোনও অসুবিধেই হয়নি। আগুয়ান সোরম পোইরেই-কে সহজেই পরাস্ত করেন দূরের পোস্টে বল রেখে।

    এক গণ্ডা গোল দিয়ে ফেডারেশন কাপ অভিযান শুরু করল গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান। ডিএসকে শিবাজিয়ান্সের সাধ্য ছিল না সোনি-দের গতিরোধ করে। প্রতিযোগিতার  প্রথম ম্যাচটা জেতা যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়, মোহনবাগান সেই কাজে ঢিলেমি দেখায়নি।

    দেবজিৎ মজুমদারকে পায়নি মোহনবাগান, আই লিগে শেষ ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় এবং এআইএফএফ-এর নিয়মানুসারে সর্বভারতীয় সংস্থা পরিচালিত পরের প্রতিযোগিতাতেও আগের লাল কার্ড বহাল থাকায়। শিলটনকে অবশ্য তেমন পরীক্ষার মুখে পড়তেই হয়নি প্রায়। ডিএসকে শিবাজিয়ান্সও সুব্রত পালকে খেলানো নিয়ে সংশয়ে ছিল। প্রাথমিক ডোপ পরীক্ষায় ধরা পড়ার পর সুব্রতকে নিয়ে নানা প্রশ্ন এখন। যদিও সর্বভারতীয় সংস্থা তাঁকে নির্বাসিত করেনি, পাশেই দাঁড়িয়েছে। কিন্তু, সুব্রতকে না খেলিয়েই ঠিক করেছে ডিএসকে, নিঃসন্দেহে বলা যায়। তাঁর জায়গায় সোরম পোইরেই-কে অবশ্য খেতে হল চার গোল!

    ধারেভারে কোনও দিক দিয়েই মোহনবাগানের সঙ্গে তুলনীয় নয় শিবাজিয়ান্স। যতই তারা বারাসতে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে থাকুক না কেন! চার বিদেশিকেই মাঠে নামিয়ে পাঁচ ম্যাচের প্রতিযোগিতায় প্রথম ম্যাচটা হাসতে হাসতেই জিতে গেল মোহনবাগান, সোনি নিজে গোল না পাওয়া সত্ত্বেও।

    তবে, সোনির পা থেকে দুটি গোলের বল, তিন স্ট্রাইকারই গোল পেলেন – কোচ সঞ্জয় সেন নিশ্চয়ই খুশি হবেন সোমবারের পারফরম্যান্সে। আই লিগ জয়ের কাছাকাছি এসেও পরপর দুবার ব্যর্থ হওয়ায় কোনও কোনও মহল থেকে সমালোচিত হয়েছেন বলে এমনিতে বেজায় চটে আছেন মোহনবাগানের কোচ। তাঁর দলের এই পারফরম্যান্স অবশ্য স্বস্তি দেবে তাঁকে, ঠিক যেমন দিল সন্ধে সাতটায় খেলা!

    মোহনবাগান – শিলটন, প্রীতম, আনাস (বিক্রমজিৎ জুনিয়র ৮৯), এদু, শুভাশিস, কাতসুমি, শৌভিক, শেহনাজ, সোনি, ডাফি (জেজে ৭৩), বলবন্ত (লুইস ৮০)

    No comments