• Breaking News

    দুরন্ত আলভেস! জুভেন্তাস আবার ফাইনালে // কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    জুভেন্তাস ২  মোনাকো ১


    (মান্দজুকিচ ৩৩, আলভেস ৪৪)    (এমবাপে ৬৯)


    দু-পর্ব মিলিয়ে জুভেন্তাস জয়ী ৪-১


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    জুভেন্তাস আবারও পৌঁছল চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। কিন্তু, খবর তা নয়। আসল খবর, ঘরের মাঠ তুরিনে গোল খেল জুভেন্তাস! এবারের নকআউটে প্রথম!

    চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে পৌঁছতে খেলতে হয় ১২ ম্যাচ ন্যূনতম। সেই ১২ ম্যাচে তৃতীয়বার বল ঢুকল জিয়ানলুইগি বুফোঁর জালে। এমন কিছু, যা ১৮০ মিনিটে পারেনি মেসি-সুয়ারেজ-নেইমারের বার্সেলোনাও!

    ফাইনালে পৌঁছন নিয়ে সমস্যা ছিল না। অ্যাওয়ে সেমিফাইনালে ২-০ জিতে আসার পর ঘরের মাঠে জুভেন্তাস তিন গোল খেয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, ভাবনাটায় আর যা-ই থাক, ফুটবল-সমর্থন নেই। মারিও মান্দজুকিচ আর দানি আলভেসের গোলে সেই কাজ অসম্ভবের অপর নাম হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিরতিতেই। আঠের বছর বয়সী ফরাসি তরুণ স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপে সান্ত্বনাসূচক একটি গোল পেলেন বুফোঁ ও জুভেন্তাস রক্ষণের বিরুদ্ধে – ইউরোপ মনে রাখবে।

    মেসির গোলের প্রসঙ্গ এলেই গত বেশ কয়েক বছর ধরে কিছু ইংরেজ ও ইংরেজি-প্রভাবিত বাজারি-বিশেষজ্ঞর মুখে শোনা যায়, ‘জাভি-ইনিয়েস্তা পাস দেয়, মেসি গোল করে’। ৫০০ গোল করে ফেলেছেন বার্সেলোনা জার্সিতে। যাঁর পাস থেকে সবচেয়ে বেশি গোল করেছিলেন, নামটা দানি আলভেস! ৪২ গোল এসেছিল আলভেসের পাস থেকে, জাভির পাস থেকে ৩৩, ইনিয়েস্তার পা থেকে ৩৫ গোলের পাস! ৫০০-র মধ্যে ৭০ গোলের ফাইনাল পাসও যে জুটির পা থেকে বেরয়নি, কী করে তাঁরাই ‘আসল’ হয়ে ওঠেন, বিশেষজ্ঞদের এই বাজারি-বিশ্লেষণ বোঝা দায় যেমন, ব্রাজিলীয় রাইট ব্যাককে কেন ছেড়ে দিল বার্সেলোনা, একই রকম অবোধ্য!

    আলভেস আসার পর জুভেন্তাস এবার ত্রিমুকুটের পথে। সিরি আ খেতাব পকেটে প্রায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলতে কার্ডিফে যাচ্ছে ‘ওল্ড লেডি’। ইতালির ঘরোয়া কাপের ফাইনালেও খেলবে। আর সেই ত্রিমুকুটের পথে জুভেন্তাসকে এগিয়ে দিলেন আলভেসই। তাঁর মাপা ক্রস থেকেই মান্দজুকিচের গোল। আর, দ্বিতীয় গোলটা তো গর্বিত করত যে কোনও স্ট্রাইকারকেই। কর্নার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মোনাকোর গোলরক্ষক সুবাসিচ, ম্যাচে যাঁর হাত লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছে মোনাকো-কে। সেই বল যখন উঁচু হয়ে বড় বক্সের বাইরে পড়ছে, মাটি থেকে ফুটখানেক ওপরে থাকা অবস্থায় আলভেসের ভলি এবং গোল!

    সেমিফাইনালের প্রথম পর্বে জোড়া গোলের পর আবার ‘আর্জেন্তিনীয়’ বুটটা বোধহয় খুঁজে পেয়েছিলেন গোনজালো ইগাইন। গোটা তিনেক মিস, নিশ্চিত গোল করা যায় এমন অবস্থা থেকে। শেষে তাঁর পায়ে লাফিয়ে স্টাড দিয়ে ফুটো করেও বেঁচে গেলেন গ্লিক, ডাচ রেফারির সৌজন্যে। তবে জুভেন্তাস নিশ্চিন্ত থাকল, চোট তেমন মাথাব্যথার কারণ নয় বলে। নাকি, চিন্তা বাড়ল? ফাইনালে রেয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে আবার এই ‘আর্জেন্তিনীয়’’ বুট ইগাইন খুঁজে পেলে? বেশি নয়, গোটা তিনেক মাত্র (!) ফাইনালে ইগাইনের যা পারফরম্যান্স, তিনি না থাকলেই বোধহ্য় বেশি নিশ্চিন্ত হতেন মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি।

    রেয়াল মাদ্রিদই কেন? কেউ কি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে ভিসেন্তে কালদেরনে খেলা বলেই রেয়ালের প্রথম ম্যাচের ৩-০ ব্যবধান পেরিয়ে যাবে দিয়েগো সিমিওনের আতলেতিকো, বুধ-রাতে?

    দু-বছরের ব্যবধানে আবারও একটি স্পেনীয় দলের বিরুদ্ধে ফাইনাল জুভেন্তাসের, এ নিয়ে অবশ্য কোনও সন্দেহ নেই। আর নিঃসন্দেহ যা নিয়ে, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোরাও মাথায় রেখেই কার্ডিফে নামবেন যে, এই একটা ট্রফিই নেই বুফোঁর বাড়িতে!

    No comments