• Breaking News

    মাঠে পুলিশ, ক্রিকেটের বড় ম্যাচে দ্বিতীয় দিনও বিতর্ক, ঋদ্ধিকে নিয়েই

    ইস্টবেঙ্গল কর্তারা ক্ষুব্ধ, এক ব্যাটসম্যানকে দুবার আউট করতে হচ্ছে বলে। ক্ষোভ রয়েছে সিএবি-র অবজার্ভারের ভূমিকা নিয়েও। মাঠে এল পুলিশও!


    শান্তনু ব্যানার্জি


    বিতর্ক আর কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের!

    সিএবি পরিচালিত প্রথম ডিভিশন লিগের তিনদিনের সেমিফাইনাল ম্যাচে ফুটবলের মতোই ক্রিকেটেও বড় ম্যাচের টানটান উত্তেজনার রেশ আছড়ে পড়েছে ২২ গজে।

    দ্বিতীয় দিনও আম্পায়ার এবং সিএবি নিযুক্ত অবজার্ভারের প্রতি একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন লালহলুদ কর্তারা। এবং এবারও কেন্দ্রে সেই ঋদ্ধিমান সাহাই।

    ব্যাট করতে নেমে ঋদ্ধির পায়ে বল লাগে, এলবিডব্লু-র জোরালো আবেদন করেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের ক্রিকেটাররা। বেনিফিট অফ ডাউট যায় জাতীয় দলের উইকেটকিপারের পক্ষে। শেষ পর্যন্ত ৪৫ বল খেলে ৩৬ রান করে কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসেন পাপালি। ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের অভিযোগ, একজন ব্যাটসম্যানকে দু’বার করে আউট করতে হচ্ছে! আর সেটা হচ্ছে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের জন্যেই। ঋদ্ধিমান সাহা নিশ্চিত এলবিডব্লিউ ছিলেন। এবং এবারও অভিযোগের কাঠগড়ায় আম্পায়ার ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী।

    ঋদ্ধি যখন আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে আসছিলেন তখন তাঁকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে সবুজ মেরুন শিবির। যদিও ম্যাচ শেষে ঋদ্ধিমান জানিয়েছেন, তিনি আউট হয়ে ফিরে আসার সময়ে কোন খারাপ মন্তব্য শোনেননি।

    প্রথম দিনে মোহনবাগানের ক্রিকেটার ঋদ্ধিমান সাহার ছোড়া বলে রান আউট হয়ে যান লালহলুদের অধিনায়ক অর্ণব নন্দী। কিন্তু লাল হলুদ শিবির আম্পায়ার ইন্দ্রনীল চক্রবর্তীর দেওয়া অর্ণবের রান আউটের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত হতে পারেনি। আম্পায়ারেরে ভুল সিদ্ধান্তের শিকার  ইস্টবেঙ্গল, অভিযোগ চরমে।

    দ্বিতীয় দিন ৯ উইকেটে ৩৯০ রানে ইস্টবেঙ্গল ইনিংস শেষ করে। জবাবে দিনের শেষে ৪২ ওভার ব্যাট করে তিন উইকেটে ১৬৬ রান তুলে ফেলেছে মোহনবাগান। সোমবার খেলার শেষ দিন।

    কিন্তু, বিতর্ক শেষ নয়। ইস্টবেঙ্গলের সোহম ঘোষ নিজের দলের বোলারদের বাড়তি অনুপ্রাণিত করতে কিছু অশালীন শব্দের প্রয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ সিএবি-র অবজার্ভার পার্থ সেনের। সমস্যা হল, মাঠে-থাকা দুই আম্পায়ার কিন্তু সোহমের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ জানাননি।

    খেলাশেষে তাই যখন পার্থ সেন ডেকে পাঠিয়ে সোহমকে সতর্ক করেন এবং সোহন সেই কথা শিবিরে গিয়ে কর্তাদের জানান, ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের ক্ষোভ চাপা থাকেনি। লালহলুদ কর্তারা সিএবি নিযুক্ত অবজার্ভারের অফিসে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সল্টলেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড ক্যাম্পাসে বিধাননগর দক্ষিণ থানা থেকে পুলিশ বাহিনীও চলে আসে।

    আইসি বিধাননগর দক্ষিণ পার্থ শিকদার নিজে ওই সময়ে হাজির ছিলেন। সব শেষে লালহলুদ অধিনায়ক অর্ণব নন্দী এবং কর্তারা ‘আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তকেই’ বিতর্কের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁদের কথানুসারে, মাঠের আম্পায়াররা রিপোর্ট দেননি যখন, সিএবি অবজার্ভারের উচিত ছিল রিপোর্ট দেওয়া সিএবি-র কাছে। এভাবে ডেকে কোনও ক্রিকেটারকে বকাঝকা করা তাঁর অধিকারের আওতায় পড়ে না। যদিও সিএবি নিযুক্ত অবজার্ভার পার্থ সেন নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ‘কোনও ঘটনাই ঘটেনি’।

    বিতর্কের মাঝে দূরে চলে যাচ্ছে ক্রিকেটই। ইস্টবেঙ্গলের শুভজিৎ ব্যানার্জি ২৫৬ বল খেলে ৯৬ রান করেছিলেন৷ আর মোহনবাগানের জয়জিৎ বসু ১১৮ বলে ১০১ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন শুভময় দাস, ২০ রানে। সুদীপ চ্যাটার্জি অভিষেক ডার্বি ম্যাচে ‍১১ বল খেলে কোনও রান না করে আউট হয়ে যান৷

    কিন্তু, ক্রিকেট দূরে চলে গিয়ে এই ম্যাচে নায়ক এখন বিতর্কই!

    No comments