• Breaking News

    বোর্ড ও তারকা ক্রিকেটারদের সমালোচনায় সরব রামচন্দ্র গুহ

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    বিসিসিআই প্রশাসকের পদ থেকে কেন পদত্যাগ করলেন বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ও লেখক রামচন্দ্র গুহ?

    কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস-এর চেয়ারম্যান বিনোদ রাইকে লেখা তাঁর চিঠিতে সামনে এসেছে পদত্যাগের একাধিক কারণ। চিঠিতে ভারতীয় ক্রিকেটের শীর্ষ তারকাদের কড়া সমালোচনা করেছেন গুহ। একই সঙ্গে সরব হয়েছেন তারকা ক্রিকেটারদের প্রতি বিসিসিআইয়ের পক্ষপাতিত্বমূলক  আচরণের বিরুদ্ধে।

    সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ করা কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর থেকে পদত্যাগের পর চেয়ারম্যান বিনোদ রাইকে লেখা চিঠিতে গুহ পদত্যাগের একাধিক কারণ উল্লেখ করেছেন। চিঠির শুরুতেই বলেছেন, স্বচ্ছতার কারণেই মতপার্থক্যের মূল বিষয়গুলি তিনি উল্লেখ করতে চান। চিঠিতে সাতটি পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন -

    ১. স্বার্থ সংঘাতের বিষয়গুলি সমাধানে ব্যর্থ সিওএ। আইপিএলের জন্য জাতীয় দলকে অবহেলা করছেন জাতীয় দলের কোচ। দিল্লি ডেয়ারডেভিলস-এর কোচ রাহুল দ্রাবিড় একইসঙ্গে ইন্ডিয়া এ ও ইন্ডিয়া জুনিয়র টিমের দায়িত্বে।

    ২. সুনীল গাভাসকার একটি প্লেয়ার ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রধান। অথচ ধারাভাষ্যকার হিসাবে তাঁর সঙ্গেই চুক্তি করেছে বোর্ড।

    ৩. টেস্ট টিমে এমএস ধোনি না থাকা সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে এ গ্রেড চুক্তি করা হয়েছে।

    ৪. ভারতীয় সিনিয়র দলের কোচ ইস্যুতে অপেশাদারের মতো সামলানোর চেষ্টা। অতীতের রেকর্ড দারুণ হওয়া সত্ত্বেও কুম্বলের চুক্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাও আবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ঠিক আগে।

    ৫. সিওএ দেশের মধ্যে খেলা ক্রিকেটারদের স্বার্থ পুরোপুরি অবহেলা করেছে। আন্তর্জাতিক স্তরের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি-র ফারাক বিরাট।

    ৬. যোগ্যতার অভাবে খারিজ হওয়া আধিকারিকরা বিসিসিআই-এর বৈঠকে হাজির থাকলেও সিওএ নীরব।

    ৭. সিওএ-তে পুরুষ ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি ও জাভাগাল শ্রীনাথকে কমিটিতে আনার চেষ্টা।

    বৃহস্পতিবারই শীর্ষ আদালতকে গুহ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন। সুপ্রিম কোর্টের ভেকেশন বেঞ্চকে গুহ-র আইনজীবী জানিয়ে দেন, বিসিসিআইয়ের কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস-এর চেয়ারম্যান বিনোদ রাইয়ের কাছে ২৮ মে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দেন গুহ।

    কুম্বলের সঙ্গে তাঁর সখ্য নিয়ে বোর্ডের একাংশ সরব হলেও, বিরাট কোহলি যেভাবে এক বছরের মধ্যেই পাঁচটি টেস্ট সিরিজজয়ী কোচের বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসাবে মাঠে নেমে পড়েছেন, তার বিরোধিতাও করেছেন গুহ। কুম্বলের সরে যাওয়া অনিবার্য ভবিষ্যৎ জেনেই হয়ত তাঁর এই পদত্যাগপত্র এবং বোর্ডের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অপেশাদারিত্বের কথা সুপ্রিম কোর্টকে সরাসরি জানানোর চেষ্টা।

    সমস্যা হল, যদি সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুসারে বোর্ডের সভায় হাজিরা দেওয়ার যোগ্য না হয়েও দিব্যি হাজির থাকা কর্তেতাদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের মনোনীত প্রতিনিধিরাই প্রতিবাদ না করে চুপ করে মেনে নেন, গুহদের পদত্যাগ করা ছাড়া আর উপায়ই বা কী থাকে তখন!

    No comments