• Breaking News

    পয়সাওয়ালাদের ছকে-দেওয়া রূপরেখাই মেনে নিল এআইএফএফ

    সমান্তরাল দুই লিগ, দুটি লিগের প্রথম চার দলের ‘আইসিএল’। গালভরা প্রতিশ্রুতি মোহন-ইস্টকে, আদতে তুলে দেওয়ার আয়োজন সম্পূর্ণ করল এআইএফএফ। ধনে-প্রাণে-ফুটবলারে, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সব দিক দিয়েই!


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    দুটি লিগই সমান্তরাল চলবে। আর, দুটি লিগের প্রথম চারটি করে দল নিয়ে খেলা হবে ইন্ডিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ। সেই ইন্ডিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের সেরা দল পাবে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ। আর রানার্স দল সুযোগ পাবে এএফসি কাপে খেলার।

    এক ঢিলে সব পাখি মেরে দিল এআইএফএফ। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলকে দিয়ে দিল সুযোগ, আইএসএল-এর সেরা দলগুলোর সঙ্গে ‘নিজেদের মাঠে’ ‘বুঝে নেওয়ার’। আর, আইএসএল-কে দিয়ে দিল এএফসি-র স্বীকৃতি!

    বকলমে আসলে আই লিগকে মেরেই ফেলল এআইএফএফ। আর, ফেডারেশন কাপ তো উঠেই গেল, কোনও সরকারি ঘোষণা ছাড়াই!

    কীভাবে?

    সহজ তো! আর ছকটাও পুরনো, বেশ কিছু দিন আগে থেকেই যার প্রস্তুতি শুরু। সমান্তরাল লিগ চলবে মানে আইএসএল ফুটবলারদের তুলে নেবে। যেহেতু এএফসি খেলতে হবে, চার বিদেশির বেশি খেলানো মুশকিল। প্রয়োজন ভারতীয় ফুটবলার। তাই বাইচুং ভুটিয়া-রেনেডি সিংরা এই দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিলেন আগে থেকেই। বারবার সতর্ক করে দিচ্ছিলেন ভারতীয় ফুটবলারদের, ‘চুক্তি কোরে ফেলিস না কিন্তু’ আদেশ দিয়ে। ভারতের জাতীয় দলের দুই প্রাক্তন ফুটবলারের একমাত্র ভয় ছিল, যদি ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, আইজল এফসি বা লাজং ভারতীয় ফুটবলারদের তুলে নেয়, আইএসএল ক্লাবগুলোর কী হবে? তাই তাঁরা আসরে নেমে পড়েছিলেন, সাংবাদিক সম্মেলন-টন করে, একেবারে কোমর বেঁধে!

    পয়সাওয়ালা আট আইএসএল ক্লাবের যা দরকার এখন, ১৮জন করে ভারতীয় ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করতে হলে মোট ১৪৪ জন চাই। ভারতীয় ফুটবলে ১৪৪ জন বলার মতো নাম আছে কিনা, সন্দেহ থাকতেই পারে। কিন্তু যা নিয়ে সন্দেহ নেই, ১৪৫ থেকে ২৮৮ পর্যন্ত যাঁদের নাম, তাঁরা ফুটবলটুকু খেলেন, এই পর্যন্তই। এরপর তাঁদের নিয়ে আর কোনও প্রশ্ন তোলাই অনুচিত। যা নিশ্চিত, তাঁদের নিয়ে লিগ খেলতে হলে, যে-লিগ এমনিতেও দেখেন না কেউ, স্টার স্পোর্টস প্রোমোট করলেই দেখবে নাকি? বরঞ্চ, তখন বলার জায়গাটা পাকাপোক্ত তৈরি হল যে, প্রোমোট করা হল, সেরা টিভি কভারেজও দেওয়া হল, টিআরপি কোথায়?

    কয়েকজন বিদেশিকে আনা সম্ভব হবে আই লিগের ক্লাবগুলোর, ঠিক। হাতে উদ্বৃত্ত টাকা তখন! চুক্তিই যে করতে হচ্ছে না কারও সঙ্গে। কিন্তু চার বিদেশির ভরসায় আই লিগ জেতা যেতেই পারে। পরের গালভরা ইন্ডিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ বা আইসিএল-এ কী হবে? মাঠেই প্রমাণিত হয়ে যাবে, আইএসএল-এর দলগুলো অনেক বেশি ভাল। ইস্ট-মোহন এখন যেমন বুক বাজিয়ে বলে বেড়াচ্ছে, একশো বছরের ক্লাব, তখনও বলবে, তবে সম্মুখসমরে হেরে গিয়ে, গলা খাটো করে। আইএসএল-এর ক্লাবের প্রতিনিধিরা গলা তুলে বিদ্রূপ করবে, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দিতে হল না, নিজেদের মাঠে খেলার সুযোগ পেল, তারপরেও জিতে দেখাতে পারল না? আর কত সুযোগ দেওয়া হবে!’

    সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা ধরে রাখল নিজেদের ধারাবাহিকতা। প্রফুল প্যাটেল মুখে এখনও বলছেন দেশের এক নম্বর লিগ হচ্ছে আই লিগই। কিন্তু, তাকে ধনে-প্রাণে মেরে ফেলার সার্বিক আয়োজন সম্পূর্ণ করে ফেললেন শনিবারের বৈঠকে। সরকারি সিলমোহর দিয়ে দিলেন আইএসএল-কে দেশের এক নম্বর লিগ করে তোলার, আগামী এক-দু’বছরে।

    গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হল আই লিগের ক্লাবগুলিকে। স্টার স্পোর্টস দেখাবে খেলাগুলো। দশ কোটি টাকা প্রোমোশনে খরচ করা হবে ইত্যাদি। যা মেনে নেওয়া ছাড়া মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের সামনে আর কোনও উপায়ও ছিল না। টাকা নেই যখন, এই দশা হতই একদিন!

    ফেডারেশন বুঝে নিয়েছে, একটা বছর কোনও রকমে খরচ-টরচ করে ফেললেই যথেষ্ট। আইএসএল-মালিকরা তাদের সেই টাকা দিয়ে দেবে। সুতরাং, একটা বছর খাতায়-কলমে ‘লস’ হোক। আর, শায়েস্তা হোক মোহন-ইস্ট-আইজল-লাজং।

    এআইএফএফ পরোক্ষে বলেই দিল আসল কথাটা ইস্ট-মোহনকে – টাকা যখন নেই বাপু, ফুটবল খেলার শখ কেন!

    No comments