• Breaking News

    স্বপনদা



    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    'বি-পজিটিভ নয়, স্বপনদার ব্লাড গ্রুপ ইবি-পজিটিভ', মানস চক্রবর্তী, মানসদা, বলতেন, এখনও বলেন।

    সে বহু বছর আগের কথা। সম্ভবত ১৯৯৪। কোঝিকোড়ে সিজার্স কাপ। সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের সামনে মালয়েশিয়ার পার্লিস ক্লাব। এক গোলে হারছে ইস্টবেঙ্গল। বোধহয় ৮৭/৮৮ মিনিটে বাইচুং ভুটিয়া, তখন নেহাত বাচ্চা ছেলে, সিজার্স কিকে গোল করলেন। রেফারি গোল নাকচ করে দিলেন 'ডেঞ্জারাস প্লে' বলে... ব্যাকভলির সময় বাইচুং-এর পা যেভাবে উঠেছিল, সামনে পার্লিসের এক ডিফেন্ডার ছিলেন, তিনি চোট পেতে পারতেন, এই কারণ দেখিয়ে। লক্ষ্মণণের রাজত্ব তখন এআইএফএফ ও কেরলে। ওদিক থেকে জেসিটি ফাইনালে। ইস্টবেঙ্গল সমতা ফেরাতে পারল না। বিদায় সেমিফাইনালেই।
    সেই প্রথম খুব কাছ থেকে দেখা রুদ্রমূর্তি। আমরা কলকাতার সাংবাদিকরা তখন কপি ভুলে স্বপনদাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছি, পারছি না। সেই শরীরী ভাষা যা গ্যালারি থেকে দেখে এসেছিলাম আটের দশকে, চোখের সামনে। আগুন বেরচ্ছে যেন চোখ থেকে। রেফারিকে তুলোধোনা না করে ফেলেন। সিনিয়র ফুটবল-লিখিয়েরা বলছিলেন, চোখে চোখে রাখতে। অঘটন ঘটিয়ে ফেললে, মানে রেফারির সঙ্গে অযাচিত কিছু, একেবারেই অনুচিত হবে। কিন্তু, আমাদের পক্ষে কি আর বোঝানো সম্ভব!
    অনেক কষ্টে অরুণ সেনগুপ্ত, মানস চক্রবর্তী, রাতুল ঘোষের মতো কলকাতা ময়দানের পোড়খাওয়া ফুটবল-লিখিয়েরা শান্ত করে হোটেলে পাঠালেন। তখন রাত সাড়ে দশটা-পৌনে এগারোটা হবে। আমরা কপি লিখতে বসলাম তারপর। টেনশন তবু যায় না!
    শ্যামল মিত্রের পাগল-ভক্ত, ইস্টবেঙ্গলের মতোই। মানুষ এমনই, নিজের ভেবে-নেওয়া মাপকাঠিতে মেলানো যায়নি, যায় না। ঘরে সারাদিন শ্যামল মিত্র বেজে যেতেন মনকেমনিয়া গলায় 'ও শিমূল বন', 'আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা', 'কী নামে ডেকে', 'যা যা রে যা যা পাখি' 'আহা ওই আঁকাবাঁকা যে পথ', 'জীবনখাতার প্রতি পাতায়', 'যদি কিছু আমারে শুধাও'...
    তীরবেঁধা ‘স্বপন’ আর গাইবে না গান...
    ঝিরিঝিরি বাতাস কাঁদলে, আর মাঠে ইস্টবেঙ্গলের অনুত্তেজক পারফরম্যান্স দেখলে, তোমায় মনে পড়বেই, স্বপনদা...

    No comments