• Breaking News

    বিশ্বকাপে ভাল ফলের আশায় দক্ষিণেশ্বরে পুজো তমালের

    শান্তনু ব্যানার্জি


    দক্ষিণেশ্বরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন তমাল নস্কর। বাঙালি এই তরুণ আছেন ভারতের অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ দলে, আগামী ৬ অক্টোবর থেকে যিনি দাঁড়াতেই পারেন তিনকাঠির তলায়, ফিফা অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে।

    ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনজন। অভিজিৎ সরকার, জিতেন্দ্র সিং ও তমাল নস্কর। অভিজিৎ ও জিতেন্দ্র এখন যোগ দিয়েছেন দিল্লিতে ভারতীয় শিবিরে। তমাল যাবেন কয়েক দিন পর। তার আগে, দক্ষিণেশ্বরে মাকালীর কাছে প্রার্থনা সেরে এলেন তমাল, বাবা-মা’কে সঙ্গে নিয়ে।

    ‘ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করে এলাম, বিশ্বকাপে যেন আমার সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে দেশকে জেতাতে পারি। বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পারি নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে, উজ্জ্বল করতে পারি তাঁদের নামও’, বলছিলেন তমাল।

    ভক্ত ইকের কাসিয়াসের। স্পেনের অধিনায়ক হিসেবে যিনি জিতেছিলেন বিশ্বকাপ ও ইউরো এবং রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে যাঁর সাফল্য আকাশছোঁয়া। বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক কাসিয়াসের ভক্ত তমালের মনপ্রাণ জুড়ে এখন শুধুই যুব বিশ্বকাপ। নিজেকেও ছাপিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ। অদম্য জেদ আর লড়াকু মানসিকতা দিয়ে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলতে চান তমাল।

    তাঁর ছোটবেলার কোচ কৃষ্ণেন্দু কুমার মিত্র (গোপু) বলছিলেন, ‘আমার কাছে ফুটবল শিখতে আসত ওর দাদা। সঙ্গে গুটিগুটি পায়ে খুব ছোট্ট তমালও। দেখতে ভাল লাগত যে, ওই ছোট বয়সেই তমাল বড়দের গ্লাভস পরে মাঠে নেমে পড়ত! প্রতিভা তো নিশ্চয়ই ছিল। নিরলস অনুশীলনে আজ এখানে পৌঁছেছে। বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেয়েছে।’

    ২০১৩ সালে কল্যাণীতে হয়েছিল ট্রায়াল। সেখান থেকেই তমালের সুযোগ পাওয়া, জাতীয় দলে। পাশে সবসময় আছেন বাবা-মা। বাবা প্রদীপ নস্কর বলছিলেন, ‘বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিক, আর কী-ই বা চাইতে পারি।’ মা সমিতা-ও খুশি, যিনি শুরুর দিনগুলোয় ছেলে যখন শিবিরে যেত বাইরে, খুব চিন্তায় থাকতেন। ‘ছোট থেকেই কিন্তু গোলকিপার হতে চাইত, গোল আটকাতেই চাইত, গোল করতে নয়’, বললেন।

    তমাল অবশ্য এখন আর পেছনে তাকাতে রাজি নন। একটাই লক্ষ্য, বিশ্বকাপে নিজেকে চেনানো আর দেশের মুখ উজ্জ্বল করা।

    No comments