• Breaking News

    মোহন-ইস্টকে বাদ দিয়ে আইএসএল সমৃদ্ধ হবে না‌ : সুব্রত দত্ত

    শান্তনু ব্যানার্জি


    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবসে কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক তাঁবুতে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘অতীত ও বর্তমান উজ্জ্বল, কিন্তু ভারতের ঐতিহ্যশালী ফুটবল ক্লাবগুলির ভবিষ্যৎ কি প্রশ্নচিহ্নের সামনে?’

    সোমবার সেই আলোচনাসভায় সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার সহসভাপতি সুব্রত দত্ত বললেন, ‘সারা ভারতে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গল। এফএসডিএল, এআইএফএফ, মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল পরস্পরের শত্রু নয়। সকলেই ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়ন চাইছে। আমাকে দেখতে হচ্ছে দেশের ফুটবলের স্বার্থ। মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে মাঠে লড়াই, কিন্তু মাঠের বাইরে কোনও বিরোধিতা নেই। শতাব্দীপ্রাচীন দুই ক্লাবকে বাদ দিয়ে আইএসএল সমৃদ্ধ হবে না। আর এই বিষয়টি আইএমজি রিলায়েন্স কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারছে।’ ফেডারেশন সহ সভাপতি এ-ও জানিয়েছেন, আই লিগের গর্ভ থেকেই আইএসএলের জন্ম হয়েছে। আইএসএল খেলতে হলে ১৫ কোটি টাকা ‘এন্ট্রি ফি’ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গলের ওপর। নমনীয় হওয়া উচিত ছিল, মনে করছেন ময়দানের পরিচিত বাপিদা।

    লাল হলুদের সহ সচিব শান্তি রঞ্জন দাশগুপ্ত বলেছেন, ‘ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান এই দুই ক্লাবের জন্যই ভারতীয় ফুটবলের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। একটা সময়ে চিন দেশে সুপার কাপ শুরু হয়েও তা মুখ থুবড়ে পড়েছিল। মার্কিন মুলুকে বাস্কেটবল ক্রমশ জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে পড়ছে। টাকা থাকলেই সব হয় না। কঠিন সময়ে আইএমজি রিলায়েন্স ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। আজ তাদের জন্যেই ভারতীয় ফুটবল খানিকটা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে। আমরা চাই না আইএমজি রিলায়েন্স ভারতীয় ফুটবল থেকে চলে যাক। আমরা চাই সম্মানজনক পরিস্থিতিতে চলতি জট কেটে যাক।’

    সভায় ছিলেন মোহনবাগানের অর্থ সচিব দেবাশিস দত্তও। বলেছেন, ‘চ্যালেঞ্জ আমাদের কাছে আগামী বছর। তাই দুই দলের সমর্থকদের কাছে বলছি, শুধু মোহনবাগানের নয়, ইস্টবেঙ্গলের খেলা থাকলেও মাঠ ভরিয়ে দিন। ভরা মাঠে খেলা চললে বার্তা পৌঁছবে দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে। প্রমাণ হয়ে যাবে জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গলকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া যাবে না।’

    ইস্টবেঙ্গলের সহসচিব এ-ও বলেছেন, ‘‘আমরা ‘ওয়াচ ডগ’। পরিস্থিতি অনুসারে আমাদের এগোতে হবে। এএফসির গাইডলাইন একমাত্র ভারতীয় ফুটবলকে বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে। এই দেশে এখনও কেন্দ্রীয় ক্রীড়ানীতি রূপায়িত হয়নি। ১৯৮৪ সালে দেশ প্রথম ক্রীড়ামন্ত্রী পেয়েছে। বর্তমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। সময় লাগবে।’

    ছিলেন দুই ক্লাবেরই প্রাক্তন ফুটবলার শ্যাম থাপাও। তাঁর মতে, ‘শতাব্দীপ্রাচীন দুই ক্লাব মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল এখনও কলকাতার ময়দানে অনুশীলন করে চলেছে। নিজেদের কোন প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড নেই। দুই ক্লাবকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। আইএমজি রিলায়েন্স আসার ফলে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি একেবারে হয়নি তা বলা যাবে না। তবে আইএসএল-কে যদি দেশের এক নম্বর ফুটবল লিগ করতেই হয়, মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলকে বাদ তা কখনই সম্ভব নয়। আইএমজি রিলায়েন্সকে এই দুই ক্লাবকে সঙ্গে নিয়েই ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে এগিয়ে যেতে হবে।’

    No comments