• Breaking News

    ঠাণ্ডাই ইংলিশ চ্যানেলের সবচেয়ে বড় বাধা, মত সায়নির

    শান্তনু ব্যানার্জি


    শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কলকাতায় পা রাখলেন ইংলিশ চ্যানেল জয়ী বঙ্গতনয়া সায়নি দাস। ১৯ বছর বয়সী সায়নি ১৮ জুলাই দুপুর একটায় জলে নেমেছিলেন। ১৪ ঘন্টা সাঁতরে পরের দিন ভোরবেলায় জল থেকে উঠে ফ্রান্সের মাটিতে পা রেখেছিলেন। বর্ধমানের কালনা শহরের মেয়ে ইংলিশ চ্যানেল পেরানোর জন্যে রিষড়ার গঙ্গা নদীতে স্রোতের প্রতিকূলে সাঁতার কেটে যেতেন ঘন্টার পর ঘন্টা, জানিয়েছেন সায়নির মা রূপালি দাস।

    মেয়েকে বাড়িতে আদর করে ডাকেন ননাই। শুক্রবার চোখে জল নিয়েই কলকাতা বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন আদরের ননাই এর জন্যে। তাঁর মতে, ‘সাঁতারে সাফল্য পাওয়ার লক্ষ্যে কিংবা মেয়েকে সাঁতারু করার লক্ষ্য নিয়ে আমি এবং সায়নির বাবা ওকে সাঁতার শেখাইনি। জলে ডুবে যাতে কোনও অঘটন না হয় সেই কারণেই সায়নিকে সাঁতার শেখানো।’

    লন্ডন থেকে দিল্লি হয়ে কলকাতায় ফিরলেন সায়নি। সঙ্গে ছিলেন বাবা রাধেশ্যাম, আদর করে মেয়েকে বাড়িতে যিনি ডাকেন ‘পুচু’ বলে। কালনার সুইমিংপুলে সায়নির হাতেখড়ি। সেই ছুটকি - এই নামেই কালনায় পরিচিতি সায়নির - আজ ইংলিশ চ্যানেলজয়ী। আরতি সাহা, বুলা চৌধুরী, রশ্মি শর্মা, অমৃতা দাস, তহরিনা নাসরিনের পরে আরও এক বঙ্গ তনয়া।

    ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে নেওয়ার পরেও আক্ষেপ ঝরে পড়ছিল বিমানবন্দরের বাইরে সায়নির গলা থেকে। ‘আশা করি এরপর পরিকাঠামোর সুবিধা পাব।’ বাংলার হয়ে ছয়বার জাতীয় স্তরে প্রতিনিধিত্ব করা সায়নি জানালেন, প্র‍য়াত সাঁতারু মাসুদুর রহমান বৈদ্যই তাঁর অণুপ্রেরণা।

    ইংলিশ চ্যানেল পেরানো কতটা কঠিন তা বোঝাতে গিয়ে সায়নি জানিয়েছেন, ‘জলের ওপরের অংশ আর জলের তলায় ডুব দেওয়ার পরে ঠাণ্ডার তারতম্য বিরাট। সঙ্গে রয়েছে জলে জেলি ফিশের হামলা। সাংঘাতিক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে সাঁতরে ফের মাটি ছোঁয়া বিরাট চ্যালেঞ্জিং’। পরবর্তী লক্ষ্য? ‘এখনই কিছু ঠিক করিনি। ১০-১২ দিন বিশ্রাম নেব। তারপরে সিদ্ধান্ত।’

    No comments