• Breaking News

    পেলে-মারাদোনার আজতেকার সঙ্গে টক্কর এখন যুবভারতীর!

    না, পেলে বা মারাদোনা কেউই মেহিকোর নন। কিন্তু, দুজনে দুটি স্মরণীয় ফাইনাল খেলেছিলেন বিশ্বকাপে, ওই আজতেকাকেই। আর অনূর্ধ্ব১৭ বিশ্বকাপে মোট দর্শকসংখ্যায় মেহিকো ২০১১ এখনও সবার ওপরে। সেই রেকর্ড ভাঙতে কলকাতাই এগিয়ে দিতে পারে ভারতকে, মনে করছেন সংগঠকরা।


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    পেলে-মারাদোনার আজতেকার সঙ্গে টক্কর এখন যুবভারতীর!

    এস্তাদিও আজতেকা মেহিকো-তে। সেখানে ১৯৭০ বিশ্বকাপ জিতেছিল পেলের ব্রাজিল, ফাইনালে ইতালিকে হারিয়ে। ১৯৮৬ সালে সেখানেই মারাদোনার আর্জেন্তিনাও পেয়েছিল বিশ্বসেরার সম্মান, পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে জিতে। সেই আজতেকার সঙ্গে যুবভারতীর লড়াই কেন, কোথায়?

    [caption id="attachment_3940" align="alignleft" width="4128"] কলকাতায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সাংবাদিক সম্মেলনে জয় ভট্টাচার্য ও অনিকেত মিশ্র। ছবি - সন্দীপ দত্ত[/caption]

    ২০১১ সালে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ হয়েছিল মেহিকো-তে। আয়োজক দেশ হিসাবে প্রথম অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ জিতেছিল মেহিকো, ফাইনালে উরুগুয়েকে হারিয়ে। সেই প্রতিযোগিতায় মোট ১০ লক্ষ ২ হাজার ৩১৪ জন দর্শক মাঠে গিয়ে খেলা দেখেছিলেন। ভারতে অনূর্ধ্ব ১৭ ফিফা বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটির প্রোজেক্ট ডিরেক্টর জয় ভট্টাচার্য জানিয়ে দিলেন, ‘সেই সংখ্যাটা পেরিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। বাকি আর কোনও দেশের সঙ্গে কোনও প্রতিযোগিতাই নেই!’

    আর সেই দর্শক টানার প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেতে আয়োজকরা তাকিয়ে রয়েছেন কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের দিকেই, পরিষ্কার।

    নতুন সাজে সেজে উঠেছে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। বিশ্বের যে কোনও স্টেডিয়ামের সঙ্গেই পাল্লা দিতে পারে এখন কলকাতার এই মাঠ। এখানে গ্রুপ লিগে ইংল্যান্ড, চিলে, মেহিকো ও ইরাক খেলবে গ্রুপ লিগে। শেষ ম্যাচে জাপানও আসবে। রয়েছে দ্বিতীয় পর্বের একটি নকআউট এবং কোয়ার্টার ফাইনালও। আর, ২৮ অক্টোবর, প্রতিযোগিতার শেষ দিন ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। মোট দশটি ম্যাচ খেলা হবে কলকাতায়।



    তার মধ্যে ফাইনালের জন্য যতগুলি টিকিট ছাড়া হয়েছিল, বিক্রি হয়ে গিয়েছে এখনই। সেই টিকিটের সংখ্যা ৩৫ হাজার। এই মুহূর্তে নতুন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ৮৫ হাজার দর্শক ধরতে পারে। যেভাবে প্রথম দিন থেকে টিকিট বিক্রি হয়েছে কলকাতায়, সংগঠক হিসাবে জয় আশাবাদী, কলকাতা বিরাট ভূমিকা নেবে ভারতে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপকে দর্শকসংখ্যায় সবচেয়ে বেশি সাফল্য এনে দিতে।

    ‘যে দিন টিকিট বিক্রি শুরু হল, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, ফিফার সভাপতি ছিলেন ভারতে। ছিলেন কার্লেস পুওলও। কলকাতায় একদিনেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে শুনে একটুও বিস্মিত হননি ইনফান্তিনো। যেন জানতেনই, কলকাতা ভারতের সবচেয়ে বেশি ফুটবল-পাগল শহর!’ কাজেই ফিফা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে কলকাতার ফুটবল প্রেমের কথা, জোরগলায় জানালেন।

    তা তো বটেই। কলকাতার কথা ফিফা পর্যন্ত যদি না পৌঁছত, টিকিট বিক্রির সময়টা ১৯-১১ থেকে শুরু হত নাকি, মোহনবাগানকে মনে রেখে?

    আর, টিকিট বিক্রির সংখ্যায় এখন ২০১১ ‘লক্ষ্য’ হয়ে দাঁড়িয়েছে আয়োজকদের।

    কলকাতার দর্শকদের আরও বেশি করে উৎসাহী করে তুলতে জয় জানালেন, ‘দ্বিতীয় পর্ব এবং কোয়ার্টার ফাইনালের কিছু টিকিট এখনও পড়ে আছে। সূচি অনুযায়ী কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল বা স্পেনের খেলা পড়তেই পারে এখানে। তাই কলকাতার দর্শকরা ঝাঁপিয়ে পড়ে বাকি টিকিটগুলোও তুলে ফেলবেন, আশা করাই যায়।’

    হ্যাঁ, সরাসরি আজতেকা-কে হারানো সম্ভব নয়। দেশের মাটিতে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিল মেহিকো। সেই ফাইনাল দেখতে হাজির ছিলেন ৯৮ হাজার ৯৪৩ জন। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এখন ৮৫ হাজার দর্শক ধরবে। তাই, শুধুই ফাইনালের জনসংখ্যার বিচারে কোনওভাবেই পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় আজতেকা-কে। কিন্তু, কলকাতার বাকি ম্যাচগুলোও যদি অর্ধেকের বেশিও ভর্তি হয় মাঠ, মোট ১০ লক্ষের বেশি মানুষকে টেনে আনা যাবেই, গোটা ভারতজুড়ে।

    কলকাতা, গোয়া ও কোচি নিয়ে সংগঠকদের খুব বেশি মাথাব্যথা ছিল না, যদিও গোয়াতে ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়াতেই ভাবনায় আছে কাউন্টারে টিকিট বিক্রির কথাও। বাকি তিনটির মধ্যে গুয়াহাটিতেও যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক বিক্রি হয়েছে। দিল্লিতে ভারত খেলবে জানার পর রাজধানীতেও টিকিট নিয়ে বাড়ছে উৎসাহ। শুধু মুম্বই নিয়ে ততটা আশাবাদী নন কেউই। ক্রিকেটের শহরে ফুটবল নিয়ে মাথাব্যথা খুব বেশি নেই-ই, এ-ও বড় সত্যি কথা।

    কলকাতায় আসল বিশ্বকাপ আসছে আগামী ৩১ অগাস্ট, থাকবে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রথমে নেতাজি ইনডোর বা ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে রাখা থাকবে আসল বিশ্বকাপ। পরে কোনও একটি স্কুলে এবং ৩ সেপ্টেম্বর ইকো পার্কে জনসাধারণের জন্য থাকবে সুযোগ, আসল বিশ্বকাপের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার।

    কলকাতার সাংগঠনিক প্রস্তুতিতেও খুশি সংগঠকরা। চিলে খেলবে কলকাতাতে। তাদের দেশের প্রতিনিধিরা এখনই কলকাতার মাঠের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। দেখার মতো স্টেডিয়াম গড়ে তুলেছে শহর কলকাতা। রাজ্য সরকারকে এ-কারণে অসংখ্য ধন্যবাদও দিলেন জয়। সরকারের তরফে টাকা খরচে কার্পণ্য করা হয়নি। একেবারে শুরুর সময়ও এতটা ঝকঝকে ছিল না স্টেডিয়াম, যে অংশগুলোতে ঢোকা গেল গ্যালারিতে, সেখান থেকে দেখলেই পরিষ্কার।

    খানিকটা কাজ বাকি আছে। তবে তা শেষও হয়ে যাবে এই মাসেই (অগাস্ট)। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পুরোপুরি তৈরি থাকবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন, বিশ্বকাপের ফাইনালের আয়োজক হতে।

    অনূর্ধ্ব ১৭ হলেই বা, ফুটবলের বিশ্বকাপ তো বটেই, তার আবার ফাইনাল! কলকাতাবাসী বাড়তি উৎসাহী হবেন না-ই বা কেন!

    No comments