• Breaking News

    কপিল ও হরভজনের স্মৃতি ইডেনে ফেরালেন কুলদীপ / কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য




    কপিলদেবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন কুলদীপ যাদব। ইডেনে একদিনের ম্যাচে ১৯৯১ সালের ৪ জানুয়ারি এশিয়া কাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ভারতের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলতি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে একই কাজ করলেন কুলদীপ যাদব।

    শুরুতে ব্যাট করে মাত্র ২৫২ রান করে চাপে ছিল ভারত। চাপটা ক্রমশ সরিয়ে দেন বোলাররা, দুর্দান্ত বোলিং করে। আর, শেষ করেন বাঁহাতি কুলদীপ, ৩৩তম ওভারে। দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ বলে যথাক্রমে তুলে নিয়েছিলেন ওয়েড, অ্যাগর আর কামিন্সকে। ওয়েড বোল্ড হয়েছিলেন, অ্যাগর এলবিডব্লু আর কামিন্সের ক্যাচ ধরেন উইকেটের পেছনে ধোনি। দলের ১৪৮ রানে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ নিশ্চিতভাবেই ভারতের দিকে এনে দেন চায়নাম্যান বোলার।

    ভারতের হয়ে একদিনের ম্যাচে প্রথম হ্যাটট্রিক অবশ্য চেতন শর্মার। ১৯৮৭ বিশ্বকাপে, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে যে-ম্যাচে গায়ে ১০৩ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে একদিনের ক্রিকেটে তাঁর একমাত্র শতরান করেছিলেন সুনীল গাভাসকার। কপিলদেবের হ্যাটট্রিক ছিল দ্বিতীয়, যা অবশ্য প্রথমে বোঝাই যায়নি! রোশন মহানামাকে আউট করেছিলেন একটি ওভারের শেষ বলে। পরের ওভারের প্রথম দুটি বলে পরপর সনৎ জয়সূর্য এবং রুমেশ রত্লায়েকে-কে আউট করেছিলেন কপিল। মহানামা আউট হয়েছিলেন উইকেটের পেছনে কিরণ মোরে-কে ক্যাচ দিয়ে। জয়সূর্যর ক্যাচ ধরেছিলেন সঞ্জয় মঞ্জরেকার আর রত্নায়েকে এলবিডব্লু। ওভারের প্রথম দুটি বলে উইকেট নেওয়ায় ইডেনের জনতা তৃতীয় বলে চম্পক রমানায়কে-কে আউট করতে পারলে হ্যাটট্রিক হবে ভেবেছিলেন সবাই। ভুলেই গিয়েছিলেন যে, আগের ওভারের শেষ বলে মহানামার উইকেট নিয়েছিলেন কপিল। পরে, ম্যাচ শেষে তখনকার স্কোরবোর্ডে বড় বড় করে লেখা দেখিয়েছিল, ‘কপিলদেবকে অভিনন্দন হ্যাটট্রিকের জন্য’, যা দেখে মনে পড়েছিল সবার।

    কুলদীপের ক্ষেত্রে অবশ্য এমন হওয়ার কোনও কারণ ছিল না। তিনি একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিলেন হরভজন সিং-কেও। স্পিনার হরভজন এই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইডেনে, কিন্তু টেস্ট ম্যাচে। কোনও ভারতীয়র টেস্ট ম্যাচে সেটাই ছিল প্রথম হ্যাটট্রিক। আর হরভজনের সেই হ্যাটট্রিক ছিল দুর্দান্ত টেস্টে যেখানে সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বে ভারতীয় দল ফিরে এসেছিল ফলো অন করে, ভিভিএস লক্ষ্মণ আর রাহুল দ্রাবিড়ের অভাবনীয় বাটিংয়ে। গোটা একটি দিন তাঁরা কোনও উইকেট দেননি ম্যাকগ্রাথ-ওয়ার্নদের। তারপর, পন্টিং, গিলক্রিস্ট ও ওয়ার্নের উইকেট নিয়েছিলেন ‘টারবানেটর’ ভাজ্জি।

    আরও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ইডেনে ৩০-তম একদিনের ম্যাচে, ভারতীয় ইনিংসের  ৪৮তম ওভারে। কেন রিচার্ডসনের বলে লোপ্পা ক্যাচ তুলেছিলেন হার্দিক পান্ড্য। ক্যাচ ধরতে ভুল করেননি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্মিথ। কিন্তু তাঁর মনে হয়েছিল, বলটা হয়ত উচ্চতার কারণে নো বল হিসাবে ভাবা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গেই বোলারকে ডেকে বল ফেরত পাঠান বোলারের হাতে এবং রান আউট করে দেন রিচার্ডসন। স্মিথের সন্দেহ সত্যি হয়। মাঠের দুই আম্পায়ার অনিল চৌধুরি ও রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ প্রথমে টিভি আম্পায়ারের কাছে নিশ্চিত হয়ে নেন যে, বলটা বৈধ ছিল না। তারপর, হার্দিককেও রান আউট ঘোষণা করেননি। নো বল-এ রান আউট হতেই পারে, ক্রিকেটের নিয়ম বলছে। কিন্তু, ক্রিকেটের ২৭.৭ নং নিয়ম আরও বলেছে যে, আম্পায়াররা যদি মনে করেন যে, ব্যাটসম্যান যদি মনে করে থাকে যে সে আউট হয়েছে ভেবে ক্রিজ ছেড়েছে, বল ‘ডেড’ ঘোষণা করতে পারেন। হার্দিক ক্রিজ ছেড়েছিলেন, সন্দেহ ছিল না। কিন্তু, আম্পায়ারদের মনে হয়েছিল, আউট হয়ে গিয়েছেন ভেবেই ক্রিজ ছেড়েছিলেন ভারতীয় অলরাউন্ডার। তাই বল ‘ডেড’ ঘোষণা করে হার্দিককে আউট দেননি তাঁরা।

    ঝুলন গোস্বামীর হাতে শুরু হয়েছিল ম্যাচ, ইডেনের বিখ্যাত ঘন্টা বাজিয়ে। ভারতের অধিনায়কই ম্যাচের নায়ক, ব্যাট-করা কঠিন এমন উইকেটে ৯২ রান করে। শেষ পর্যন্ত ৫০ রানে জিতে সিরিজে ২-০ এগিয়ে গেলেন বিরাট কোহলিরা।

    No comments