• Breaking News

    স্রোতের মুখ বদলে দিতে পারে কেরালা ব্লাস্টার্স

    রেনে মিউলেনস্টীন কোচ এবার। শেষ দিন পর্যন্ত খেতাবযুদ্ধে থেকে যাওয়ার আশায় ‘ইয়েলো আর্মি’


     আইএসএল মিডিয়া রিলিজ


    তীরে এসে তরী ডোবার কাহিনী কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি-র। ২০১৪ এবং ২০১৬, দু-দুবার রানার্স হয়েছে। দুবারই এটিকে-র কাছে হেরে। প্রথমবার এটিকে জিতেছিল ১-০ ব্যবধানে। মহম্মদ রফিক গোল করেছিলেন অতিরিক্ত সময়ে। দু-বছর পরের ফাইনালে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ১-১ থাকায় টাইব্রেকার এবং কলকাতার দল জিতেছিল ৪-৩। অত্যুজ্জ্বল ট্রফি আর কেরালা ব্লাস্টার্সের দূরত্বটা বিরাট মোটেও নয়। কিন্তু হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের সবচেয়ে সরব সমর্থকদের জন্য হৃদয়বিদারক, নিঃসন্দেহে।

    সেই অধরা স্বপ্নটাকে পূরণ করার লক্ষ্যেই কেরালা ব্লাস্টার্স এবার কিছু বিখ্যাত নতুন নামকে সই করিয়েছে যেমন, গতবারের কয়েকজনকে রেখেও দিয়েছে। রেনে মিউলেনস্টীন এসেছেন কোচ হিসাবে। স্যর অ্যালেক্স ফার্গুসনের প্রাক্তন সহকারি কোচ নিশ্চিতভাবেই কিছু নতুন এবং যুগান্তকারী ভাবনার আমদানি করবেন ক্লাবে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগজয়ী তারকা দিমিতার বের্বাতভ এসেছেন আইএসএল-এ যে কোনও ফুটবলারের সর্বোচ্চ মূল্যে। আর দু-বছর অন্য ক্লাবে থাকার পর ফিরে এসেছেন ইয়াইন হিউম। ২০১৪ সালে কানাডার এই তারকাই ছিলেন ৫ গোলসহ কেরালার সর্বোচ্চ গোলদাতা। এবার বের্বাতভের সঙ্গী হয়েও একই লক্ষ্যে এগোতে চাইবেন।

    উইংয়েও প্রতিভাবান ফুটবলারের সংখ্যা কম নয়। সিকে বিনীত আর জ্যাকিচাঁদ সিং আছেন যাঁরা গতি এবং জায়গা দেবেন আক্রমণকে, মাঠ আরো চওড়া করবেন দু-প্রান্তে। এমনকি দুই সাইড ব্যাকও – রিনো আন্তো আর স্যামুয়েল শাদাপ – ক্রস বাড়াতে দক্ষ। মিলন সিং আর আরাতা ইজুমি থাকছেন মাঝখানে, কড়া ট্যাকলে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি যাঁরা জানেন কোথায় কখন পাসটা বাড়াতে হয়। রক্ষণের মাঝে আছেন সন্দেশ ঝিঙ্গন, এই মুহূর্তে যিনি ভারতের অন্যতম সেরা সেন্টার ব্যাক। আইএসএল শুরুর দিন থেকেই যিনি আছেন কেরালাতেই।

    প্রথম তিন বছরে নানা দর্শনের মধ্যে দিয়েই বেড়ে উঠেছে কেরালা ব্লাস্টার্স। তবে একটা ব্যাপার ছিল প্রতিবারই – ব্রিটিশ ঘরানার ফুটবল খেলা। ডাইরেক্ট, কখনও কখনও লং বল এবং সব সময়ই মাঠের মাঝখান দিয়ে আক্রমণের চেষ্টা। ডাচ মিউলেনস্টীন আসার পর আশা করা হচ্ছে, টেকনিক্যালি যাঁরা ভাল তাঁদের দায়িত্ব বাড়বে। তিনি টেনে বের করে আনবেন সবই, আরও বেশি সৃজনশীল হতে সাহায্য করবেন। দুর্দান্ত টেকনিকসম্পন্ন ফুটবলাররা যদি দ্রুতবেগে প্রতি আক্রমণে উঠতে শুরু করে, হয়ে উঠতেই পারে বিধ্বংসী।

    ব্লাস্টার্সের দল দেখলে মনে হবে নিখুঁত। পল রাচুবকা, সন্দীপ নন্দী এবং শুভাশিস রায়চৌধুরি তাদের তিন গোলরক্ষক। তিনজনই পছন্দ করেন আক্রমণে উঠতে। তাঁদেরই নিশ্চিত করতে হবে এই আক্রমণাত্মক মানসিকতার কারণে যেন গোল না খেয়ে যায় দল।

    ব্লাস্টার্সদের প্রথম ম্যাচ পুরনো শত্রু এটিকে-র বিরুদ্ধে। এবারের চতুর্থ আইএসএল-এ প্রথম ম্যাচ থেকেই উত্তেজনার পারদ থাকবে সর্বোচ্চ উচ্চতায়। এমনকি, পরের দুটি ম্যাচও, যথাক্রমে জামশেদপুর এব মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে, ঘরের মাঠে, কোচিতে। এই কারণেই সুবিধা হতে পারে, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গতিটা শুরু থেকেই এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে যাতে ছুঁতে না পারে কেউ। অনুরাগীরা তো সঙ্গে আছেনই। শুরুতে ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে মিউলেনস্টীনের দলকে তো মনে হচ্ছে, চারবারের মধ্যে তৃতীয়বার প্লে অফে পৌঁছন এবারও নিশ্চিতই!

    No comments