• Breaking News

    ছন্দে ফিরে জিতল গ্রেগরির চেন্নাই

    চেন্নাইয়িন এফসি - ৩  নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি – ০


    (হাক্কু আত্মঘাতী ১১, রাফায়েল ২৪, রফি ৮৪)


     আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    চেন্নাই, ২৩ নভেম্বর – তিন বছরে একবারও হারেনি চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে। কিন্তু, চতুর্থ ইন্ডিয়ান সুপার লিগে নিজেদের দ্বিতীয় খেলায় মারিনা এরিনায় বৃহস্পতিবার হেরেই গেল নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি। ঘরের মাঠে দ্বিতীয় খেলায় তিন পয়েন্ট তুলে নিল ২০১৫-র চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়িন এফসি।

    চার দিনের ব্যবধানে ঘরের মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছিল চেন্নাইয়িন। প্রথম ম্যাচে এফসি গোয়ার কাছে প্রথমার্ধেই তিন গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করলেও ম্যাচ থেকে কোনও পয়েন্ট তুলে নিতে পারেনি সেবার। সেই ম্যাচে চেন্নাইয়িন যেভাবে শুরু করেছিল, এবার অ্যাওয়ে ম্যাচে নর্থইস্টের শুরুটা একই রকম। পর্তুগিজ কোচ হোয়াও দে গেউস নিশ্চিতভাবেই খুশি হবেন না এমন শুরুতে, যেখানে ২৫ মিনিটের মধ্যেই দুগোলে পিছিয়ে পড়তে হয়। আর চেন্নাইয়িন কোচের সন্তুষ্টির কারণ, প্রথম ম্যাচে ওভাবে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ানো।

    প্রথম গোলের ক্ষেত্রে কিছুতেই দায় এড়াতে পারবেন না নর্থইস্টের আবদুল হাক্কু। বাঁদিক থেকে ঢুকে এসে রাফায়েল অগুস্তোর নির্বিষ শট যাচ্ছিল হয়ত গোলের বাইরেই। কিন্তু হাক্কুর মাথায় লেগে এমনভাবে দিক পরিবর্তন করে, গোলরক্ষক রেহনেশের কিছু করারই ছিল না। নর্থইস্টের রক্ষণ কিন্তু আগুয়ান রাফায়েলকে আটকানোর চেষ্টাও করেনি।

    দ্বিতীয় গোল রাফায়েলের নিজের। বিক্রমজিৎ বলটা তুলে দিয়েছিলেন যেখান থেকে হেডে নামিয়ে রাফায়েলের জন্য রেখে দিয়েছিলেন নেলসন। রাফায়েল শট নেন যা আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন হাক্কু ও রেহনেশ, কিন্তু পারেননি। তা ছাড়াও রেহনেশের একেবারে সামনেই ছিলেন হাক্কু, গোলরক্ষক দেখতেও পাননি।

    চেন্নাইয়িনের ইংরেজ কোচ জন গ্রেগরি জানতেন, প্রথম ম্যাচের স্মৃতি ভোলাতে দলে কিছু পরিবর্তন জরুরি। চারজনকে পাল্টে দেন প্রথম একাদশের। নেলসন, ফ্রান্সিস, বিক্রমজিৎ এবং গণেশ সুযোগ পান শুরু থেকেই। ৪-২-৩-১ ছকে বিক্রমজিৎ আর গণেশের ওপর ছিল মাঝমাঠে বিপক্ষের আক্রমণ শুরুতেই আটকানোর। আর আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসাবে রাফায়েলের দুপাশে নেলসন ও ফ্রান্সিস। একা জেজে লালপেখলুয়াকে ওপরে রেখে আসলে রাফায়েলকে পেছন থেকে গোলের জন্য উঠে আসার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন গ্রেগরি। রাফায়েল সেই সুযোগ হারাননি। জেজে সামনে থেকে সরে গিয়েছিলেন যতবার, টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন নর্থইস্টের ডিফেন্ডারদের। আর সেই ফাঁকা জায়গা থেকেই বাজিমাত ব্রাজিলীয় রাফায়েলের, প্রথম ম্যাচেও গোয়ার বিরুদ্ধে যিনি গোল করেছিলেন পেনাল্টি থেকে। দুটি গোল করে আপাতত তিনি গোলদাতাদের লড়াইয়ে সবার আগে। কিন্তু লিগ সবে শুরু হয়েছে, এখনও অনেক দূর এগোন বাকি।

    তৃতীয় গোল খেলার একেবারে শেষ দিকে, যখন হাল প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল নর্থইস্ট। নেলসনকে ফাউল করায় ফ্রি কিক পেয়েছিল চেন্নাইয়িন। গাভিলানের ফ্রি কিক বারে লেগে গোলরক্ষক রেহনেশের পিঠে লেগে উঁচু হয়ে সামনে পড়ছিল যখন, জেজের পরিবর্তে তিন মিনিট আগে মাঠে নামা মহম্মদ রফি এগিয়ে এসেছিলেন, হেডে গোল করতে কোনও অসুবিধাই হয়নি তাঁর।

    নর্থইস্টের পক্ষে হয়ত সমস্যা হয়ে গিয়েছিল তাঁদের ব্রাজিলীয় মার্সিনিও ছন্দে না থাকায়। ম্যাচের পরিসংখ্যানে খুব বেশি পিছিয়ে না থাকলেও কাজের কাজ করতে পারেনি নর্থইস্ট। দে দেউসের দল দ্বিতীয় ম্যাচে এখনও পুরোপুরি ছন্দে ফেরেনি। এক দিক দিয়ে জন আব্রাহামের দলের পক্ষে ভাল খবর, কারণ প্রতিবার শুরুটা দুরন্ত করে লিগ যত শেষ দিকে এগোত, ছন্দ হারাত নর্থইস্ট ইউনাইটেড। এবার শুরুটা জবরদস্ত হয়নি। শেষ দিকে কি নিজেদের প্রত্যাশিত ছন্দে ফিরে আসতে পারবে দে দেউসের দল?

    No comments