• Breaking News

    শেরিংহ্যাম বনাম মেউলেনস্টীন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্য লড়াই!

    কেরালা বনাম এটিকে, দুরন্ত উদ্বোধনী ম্যাচের প্রস্তুতি


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ


    [caption id="attachment_4020" align="alignleft" width="1920"] প্রাক-মরসুম অনুশীলনে এটিকে। ছবি - আইএসএল[/caption]

    আক্রমণাত্মক ওয়ান-টাচ ফুটবলে এটিকে-র রক্ষণ ভাঙতে আগ্রহী রেনে মিউলেনস্টীনের কেরালা ব্লাস্টার্স। শুক্রবার চতুর্থ হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের শুরুর সন্ধেয়, কোচিতে নিজেদের ঘরের মাঠে।


    ডাচ মিউলেনস্টীন বিখ্যাত টেকনিক্যাল কোচিংয়ের কারণে। বলে দিয়েছেন, যে ধরনের ফুটবল খেলায় তাঁর চিরকালের বিশ্বাস সেই একই স্টাইলে খেলাবেন কেরালা ব্লাস্টার্সকেও। অপ্রয়োজনীয় টাচ বন্ধ করে দ্রুতগতির ফুটবল খেলে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে গোল পাওয়াই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।


    ‘বরাবরই ফুটবলারদের বলে এসেছি যে, নিজের জায়গায় কোন সেরা ফুটবলারের খেলা সে পছন্দ করে তার ভিডিও দেখে বোঝার চেষ্টা করতে যে, বলপায়ে সে কী কী করছে। যে কোনও সেরা ফুটবলারের কথাই যদি ধরেন, তার খেলা বিশ্লেষণ করলে সবার আগে যে কারণটা উঠে আসবে তা হল, অপ্রয়োজনীয় মনে হলেই সে বল ছোঁবে না। এর ফলে খেলায় অদ্ভুত একটা ছন্দ আসে, গতি বাড়ে খেলার। সেটাই আমাদের দলের খেলাতেও এনে ফেলতে চাই যাতে ম্যাচের সময়ও মাঠে একই জিনিস দেখতে পাওয়া যায়। অবশ্যই সোজা কাজ নয়। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য সেটাই,’ বলেছেন তিনি।


    দু’বারের চ্যাম্পিয়ন এটিকে-র বিরুদ্ধে ৮ ম্যাচের মধ্যে ইয়েলো আর্মি জিতেছে মাত্র একবার। সেই একমাত্র ২-১ ব্যবধানে জয় এসেছিল তিন বছর আগে। মিউলেনস্টীন অবশ্য সেই ম্যাচের একজন গোলদাতাকে পাচ্ছেন এবারও – ইয়াইন হিউম। আবার, কেরালা ব্লাস্টার্স আইএসএল-এর শুরু র ম্যাচে আগে একবারই হেরেছিল, সেটাও ওই এটিকে-র বিরুদ্ধেই। গত তিন মরসুমে এটিকে অবশ্য কোনও বারই প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচে হারেনি। কেরালার বিরুদ্ধে মোট ১১ গোল করেছে তারা, দুবার ফাইনালে ভেঙেছিল কেরালার হৃদয়। এই সব তথ্যই ‘হোম’ ম্যাচের আগে কেরালার বিপক্ষে। কিন্তু মিউলেনস্টীন পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘যাকে খুশি খেলাতে পারেন’ এবং তাঁর দল পুরোপুরি ফিট। ‘অতীতের ফল শুক্রবারের খেলায় প্রভাব ফেলবে না,’ অ্যালেক্স ফার্গুসনের প্রাক্তন সহকারি জানাতে ভোলেননি।


    এটিকে-র ব্যাপারটা অবশ্যই আলাদা। প্রথম ম্যাচেই তারা পাচ্ছে না তাদের সেরা তারকা রবি কিন-কে। টেডি শেরিংহ্যাম আবার তা নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন। গোল করার লোকের অভাব নেই তাঁর দলে, মনে করছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রাক্তন তারকা। তেমনই একজন ভারতের জাতীয় দলের তারকা রবিন সিং। মাঝমাঠে দুই প্রতিভাবান ইউজেনিসন লিংডো এবং জয়েশ রানেও আছেন, পাস বাড়াতে এবং যে কোনও পাস বুঝে নিতে যাঁরা যথেষ্ট দক্ষ।


    ‘রক্ষণ নিয়ে যছেষ্ট পরিশ্রম করেছি। একই সঙ্গে আমরা আগ্রহী এগিয়ে যেতেও। জেতার জন্যই মাঠে নামতে চাই শুক্রবার,’ বলেছেন শেরিংহ্যাম। সঙ্গত কারণেই জানাতে চাননি ঠিক কোন ধরনের ফুটবল খেলবে এটিকে।


    তবে কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে পরীক্ষার আগে তাঁর দল কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে, জানিয়ে দিয়েছেন। ‘৬০ হাজার দর্শকের সামনে খেলাটাই তো স্বপ্ন। এটাই চায় সবাই, সব ফুটবলার, সব ম্যানেজার। জানি, গোটা মাঠ আমাদের বিরুদ্ধেই থাকবে। কিন্তু ভাল খেলে সেই ষাট হাজারের সরব গ্যালারিকে যদি চুপ করিয়ে দিতে পারি, সেটাও কম বড় কৃতিত্ব হবে না।’


    সবার ওপরে অবশ্য চতুর্থ আইএসএল-এর উদ্বোধনী ম্যাচ হল অন্যতম সেরা ‘হোম’ টিমের বিরুদ্ধে অন্যতম সেরা ‘অ্যাওয়ে’ দলের লড়াই। গত মরসুমেও টানা ছ’টি ম্যাচ জিতেছিল কেরালা ব্লাস্টার্স। আবার টানা চারটি অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতেছিল এটিকে-ও। নিজেদের দূর্গে একমাত্র এটিকে-র বিরুদ্ধেই সমস্যায় পড়েছে কেরালা, কোচিতে এসে গতবার তাদের হারিয়ে গিয়েছিল এটিকে, গত মরসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাঝে যা থেকে গিয়েছে একমাত্র কালো দাগ হিসাবে।


    শুক্রবার মাঠে নামার আগে মিউলেনস্টীনের একমাত্র কাজ অবশ্য তাঁর ফুটবলারদের বোঝানো যে, এটা আরও একটা ফুটবল ম্যাচ এবং ফুটবলে রেকর্ড খুব তাড়াতাড়িই পাল্টে যায়!


    ‘আমি তো ফুটবলারদের একটাই কথা বলেছি, খেলায় মনঃসংযোগ করো। খেলার বাইরের ব্যাপারগুলো অনুরাগীদের জন্য, ম্যাচে খেলবে তোমরা, ফুটবলাররাই।’


    দুই নতুন ম্যানেজার যাঁদের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নামটা, শুক্রবার রাত আটটায় পরস্পরের বিরুদ্ধে মাঠে নিজেদের দল নামাবেন চতুর্থ আইএসএল-এর মহাকাব্যিক উদ্বোধনী ম্যাচে!

    No comments