• Breaking News

    ম্যাচ রিপোর্ট: দিল্লিকে উড়িয়ে বেঙ্গালুরু শীর্ষে

    বেঙ্গালুরু - ৪    দিল্লি ডায়নামোস - ১


    (পারটালু ২৩, ৪৫+৪, লেনি ৫৭, মিকু ৮৭)     (উচে, পে. ৮৬)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    বেঙ্গালুরু, ২৬ নভেম্বর – পরপর দুটি ম্যাচে ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকল সুনীল ছেত্রীর বেঙ্গালুরু। দ্বিতীয় ম্যাচে দিল্লি ডায়নামোসকেও হেলায় হারিয়ে দিল নিজেদের দূর্গ শ্রী কান্তিরভা স্টেডিয়ামে আর দু-ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এল সবার ওপরে। শুধু জয়ই নয়, বেঙ্গালুরুর খেলার ছন্দ পরিষ্কার বুঝিয়ে দিচ্ছে, প্রথমবার খেলতে নেমে হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগ জেতার সবচেয়ে বড় দাবিদার তাঁরাই।

    প্রথম ম্যাচে এদু গার্সিয়া আর সুনীল গোল পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁদের কেউই পেলেন না। তিনজন নতুন তারকা উঠে এলেন গোল পেয়ে। আর গত ম্যাচের দুই গোলদাতা চলে গেলেন অ্যাসিস্ট-তালিকায়। গার্সিয়ার পাস দুটি গোলের পেছনে, সুনীলের পাস থেকেও দুটি গোল। কিন্তু দুজনের নামের পাশেই একটি করে অ্যাসিস্ট আসলে, কারণ গোলের ঠিক আগের পাসগুলি বাড়িয়েছিলেন যথাক্রমে হরমনজ্যোৎ ও উদান্ত সিং।

    এদুয়ার্দো গার্সিয়ার ফ্রি কিকে মাথা ছুঁইয়ে হরমনজ্যোৎ সিং খাবরা বল পৌঁছে দিয়েছিলেন এরিক পারটালুর মাথায়। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির অস্ট্রেলীয় মিডফিল্ডার ঠিক সময়ে হাজির ছিলেন ঠিক জায়গায়। তাঁর হেড আলবিনো গোমসকে পরাস্ত করে সহজেই আশ্রয় নেয় জালে। দ্বিতীয় গোলের সময় আবারও সেট পিস। এবারও এদু গার্সিয়া কর্নার নিয়েছিলেন। নিজের উচ্চতা কাজে লাগিয়ে আবারও হেড ম্যাচের নায়ক পারটালুর, যা ধরা সম্ভব ছিল না দিল্লির গোলরক্ষকের পক্ষে। বিরতিতে দু-গোলের ব্যবধান নিয়েই সাজঘরে ফিরেছিল বেঙ্গালুরু।

    বিরতির পর ম্যাচে নিজেদের নিরঙ্কুশ প্রাধান্যের ছাপ রেখে যায় বেঙ্গালুরু তৃতীয় গোলও চটপট তুলে নিয়ে। ৫৭ মিনিটে এবার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন বেঙ্গালুরু ও ভারতের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী। বাঁ দিক দিয়ে উঠে এসে উল্টো প্রান্তে উদান্ত সিংয়ের জন্য সাজিয়ে দিয়েছিলেন বল। দিল্লির রক্ষণ তখন দিশেহারা। উদান্ত বল পেয়ে শট নিলেও গোমস আটকে দিয়েছিলেন। বল অবশ্য বিপদসীমার বাইরে যায়নি। তিন ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকেও লেনি রদরিগেজের পা পৌঁছে যায় বলে, সবার আগে এবং ঠেলে দেন গোলে।

    আগে এবং পরে বেঙ্গালুরু আরও বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিল, যা গোলে পরিবর্তিত হয়নি। সুনীল নিজেও অন্তত দুবার নিশ্চিত গোলের সুযোগ হারান। দিল্লি অবশ্য তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বেঙ্গালুরু রক্ষণ তেমন কোনও সুযোগই দেয়নি গুরপ্রীত সিংকে পরীক্ষায় ফেলার। কিন্তু খেলার শেষ দিকে ৮৫ মিনিটে বেঙ্গালুরু রক্ষণের অন্যতম ভরসা জন জনসনই বলে হাত লাগিয়ে পেনাল্টি দিয়ে দিয়েছিলেন দিল্লি ডায়নামোসকে। সেই পেনাল্টি থেকেই চতুর্থ আইএসএল-এ প্রথমবার গোল খেতে হল গুরপ্রীতকে।

    কিন্তু বেঙ্গালুরু সঙ্গে সঙ্গেই তিন গোলের ব্যবধান ধরে রাখে মিকুর মাধ্যমে, দলের চতুর্থ গোলে। সুনীলের পাস থেকে মিকু বল ধরে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাথা ঠাণ্ডা রেখে দুজনকে কাটিয়েই পরাস্ত করেন গোমসকে। রবিবার দুটি ম্যাচেই পাঁচ গোল করে হল, দশ ম্যাচ পর প্রতিযোগিতায় মোট গোলসংখ্যা এখন ২৮।

    প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছিল দুই দলই। তাই এই ম্যাচে লড়াই ছিল টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে কোন দল উঠে আসতে পারে লিগ তালিকার শীর্ষে। আলবের্ত রোকার বেঙ্গালুরু এফসি সেই লড়াইয়ে জিতে উঠে এল শীর্ষে। কোচ রোকার হয়ত পছন্দ হবে না, পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোল খাওয়া। নিজেরা গোল দিলেও ক্লিনশিট রাখতে আগ্রহী ছিলেন, পরের ম্যাচের আগে সেই দিকেও নজর রাখবেন রোকা নিশ্চিত। দিল্লি ডায়নামোস শ্রী কান্তিরভা স্টেডিয়ামে যেভাবে হারল, স্পেনীয় কোচ মিগেল আনজেল পর্তুগালও মেনে নিতে পারবেন না। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর। কিন্তু, তাঁর চিন্তা বাড়াবে রক্ষণের ভুল, বিশেষ করে সেট পিস আটকানোর ব্যাপারে দুর্বলতা।

    যা পরিষ্কার হয়ে ফুটে উঠছে দুটি ম্যাচের পর, প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই বেঙ্গালুরুকে কেন বলা হচ্ছিল অন্যতম ফেভারিট! সুনীলরা সব দিক দিয়েই তৈরি থেকে এবার বেরচ্ছেন অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে, যেখানে ৩০ নভেম্বর তাদের সামনে এফসি গোয়া।

    No comments