• Breaking News

    উদ্বোধনী ম্যাচ গোলশূন্য, পোস্ট বাঁচাল কেরালাকে

    কেরালা ব্লাস্টার্স -০    এটিকে – ০


     আইএসএল মিডিয়া রিলিজ


    ফাইনালে গতবার ফয়সালা হয়েছিল টাইব্রেকারে। লিগের খেলায় টাইব্রেকারের জায়গা নেই। কিন্তু দুই নতুন কোচের প্রশিক্ষণেও খেলা অমীমাংসিতই থাকল হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের প্রথম ম্যাচ। কোচিতে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে বিখ্যাত ‘ইয়েলো আর্মি’-র সামনে গোল করতে ব্যর্থ কেরালা ব্লাস্টার্স যেমন, গতবারের চ্যাম্পিয়ন এটিকে-ও পারেনি বল জালে রাখতে।


    মরসুমের প্রথম ম্যাচে খানিক জড়তা থাকেই। ৪-৪-১-১ সিস্টেমে শুরু করেছিল এটিকে, অ্যাওয়ে ম্যাচে। ঘরের মাঠে ৪-২-৩-১ বেছে নিয়েছিলেন কেরালা ব্লাস্টার্সের কোচ। চ্যাম্পিয়নরা যদিও বেশি স্বচ্ছন্দ্য ছিল। বল পায়ে রেখে খেলতে চেয়েছিল এটিকে। টেডি শেরিংহ্যাম দায়িত্বে এসেছেন সবে। কিন্তু বল নিজেদের দখলে রেখে খেলার যে ধরন দেখা গিয়েছে গত তিন মরসুমে এটিকে-র খেলায়, খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি তাতে, ইংরেজ কোচের প্রশিক্ষণেও।


    কেরালা ব্লাস্টার্স অবশ্য চাইলেও বল পায়ে রাখতে পারেনি বেশি। ডাচ-কোচ রেনে মেউলেনস্টীন যদিও ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ওয়ান-টাচ পাসে খেলার চেষ্টা করবে তাঁর দল, বারবার অনাবশ্যক বলের দখল হারানোয় পরিকল্পিত আক্রমণের ছাপ পাওয়া গেল কম। ডাচ কোচ নিশ্চিতভাবেই চাইবেন যাতে পরের ম্যাচে এভাবে বলের দখল না হারায় তাঁর ফুটবলাররা। একই দোষে দুষ্ট ছিল এটিকেও, মাঝেমাঝে। কিন্তু, সম্পূর্ণ চাপহীন অবস্থাতেও এত বেশিবার বলের দখল হারিয়েছিল কেরালা ব্লাস্টার্স যে, ম্যাচ শেষে বল পজেশনের হিসাবে তাই ৫৭-৪৩ এগিয়েই থাকল এটিকে।


    গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল এটিকে-ই বেশি। ১৩ মিনিটেই হিতেশ শর্মার শট বাঁচাতে হয়েছিল কেরালার গোলরক্ষক পল রাচুবকা-কে, ঝাঁপিয়ে। ডানদিক থেকে আক্রমণ, বল পেয়েছিলেন হিতেশ। শট গোলেই রেখেছিলেন কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আকাদেমি থেকে উঠে-আসা রাচুবকা ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বল বাঁচিয়ে দেন। পরে, ৭৪ মিনিটে আরও একবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তরুণ তারকা হিতেশ। পরিবর্ত হিসাবে মাঠে এসে রবিন সিং বল নিয়ে বাইলাইনে গিয়ে ভেতরে বল পাঠিয়েছিলেন যা হিতেশ ঠিকঠাক পায়ে লাগাতে পারেননি।


    প্রথমার্ধের শেষ দিকে কেরালা ব্লাস্টার্স বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল এটিকে-কে, দু-প্রান্ত থেকে আক্রমণ করে। কিন্তু তিনকাঠিতে শটই রাখতে পারেননি কেউ। ভারতের মাটিতে প্রথম ম্যাচে বেশ নিরাশই করেছেন চতুর্থ আইএসএল-এর অন্যতম সেরা তারকা দিমিতার বের্বাতভ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রাক্তন তারকা তত বেশি বল পাননি সত্যি, কিন্তু বল পেলেও তেমন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখাতে পারেননি বের্বাতভ। একেবারে শেষ মুহূর্তে বের্বাতভের হেড যদিও বাঁচাতে হয়েছিল দেবজিৎকে, কিন্তু ততটা জোর ছিল না সেই হেডে। যেমন বিনীতের বাঁপায়ের শট বাঁচিয়েছিলেন দেবজিৎ ৫০ মিনিটে।


    বের্বাতভ এবং ইয়াইন হিউমের জুটি কাগজেকলমে যতটা বিপজ্জনক মনে হচ্ছিল, মাঠে ততটা হয়নি। হিউমকে তো প্রান্তরেখা বরাবরই খেলা শুরু করতে হয়েছিল, কাছাকাছি খেলতে পারেননি দুই স্ট্রাইকার। আইএসএল-এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং গতবার এটিকে-র হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে-থাকা হিউমকে এ-মরসুমের প্রথম ম্যাচে শেষ পর্যন্ত তুলেই নেন ডাচ কোচ, ৬০ মিনিটে।


    তিন পয়েন্ট নিয়ে যাওয়ার সুযোগ হঠাৎই এসেছিল এটিকে-র কাছে, ম্যাচের শেষ দিকে। ৭০ মিনিটে জেকুইনিয়ার ডান পায়ের দুরন্ত শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। পর্তুগিজ স্ট্রাইকারকে আটকানোর চেষ্টাই হয়নি কেরালা ব্লাস্টার্সের ডিফেন্সিভ থার্ডে। বল পায়ে বাঁদিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে এসে দূর থেকেই জোরালো শট নিয়েছিলেন যা রাচুবকাকে পরাস্ত করলেও গোলে যায়নি। দুর্ভাগ্য অবশ্যই, অন্য কোনও দিন হয়ত ভেতরের দিকে ঢুকে-আসা শট পোস্টে লেগেও গোলে চলে যেত।


    প্রথম ম্যাচ গোলশূন্য। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে দুই দলের কোচেরই সম্পর্ক থাকায় দুই অর্ধেই খেলা শেষের দিকে বাড়তি আক্রমণের ঝলক দেখা গিয়েছিল। তবে, যার সন্ধানে ফুটবল অনুরাগীরা ভিড় করেন মাঠে, সেই গোলের দেখা পাওয়া যায়নি উদ্বোধনী ম্যাচে।

    No comments