• Breaking News

    ‘ফুটবলেও বিরাট কোহলির মতো তারকার জন্ম দেবে আইএসএল’

    মাঠে ছ’জন ভারতীয় ফুটবলার রাখতেই হবে, নতুন এই নিয়মের প্রশংসা করছেন সব বিদেশি কোচই


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ


    হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (আইএসএল) এবার সব দলেই অন্তত ছ’জন ভারতীয় ফুটবলার প্রথম এগারয় রাখা বাধ্যতামূলক। নিয়মের প্রশংসা করেছেন সব বিদেশি কোচই। বলেছেন, নিয়মের এই ছোট পরিবর্তনটা শেষ বিচারে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতিতেই সাহায্য করবে।


    প্রথম তিন মরসুমে হিরো আইএসএল-এ প্রথম একাদশে সবচেয়ে বেশি ছ’জন ফুটবলার রাখা যেত। কিন্তু এবারের নিয়মে, যেমন জামশেদপুর এফসি-র কোচ স্টিভ কোপেল বলেছেন, ‘বাড়তি দায়িত্ব পড়বে এবার ভারতীয় ফুটবলারদের কাঁধে, আরও ভাল খেলতে হবে, উন্নতি করতে হবে।’


    ঠিক একই বক্তব্যের প্রতিফলন ছিল ইংরেজ টেডি শেরিংহ্যাম (এটিকে) এবং জন গ্রেগরির(চেন্নাইয়িন এফসি) কথাতেও যে, এই নিয়মের ফলে উন্নতি হবে ভারতীয় ফুটবলারদেরই।


    ‘ আমার তো মনে হয় এটা খুবই ভাল সিদ্ধান্ত যে, মাঠে সবসময় অন্তত ছ’জন ভারতীয় ফুটবলারকে রাখতেই হবে। ফলে ভারতীয় ফুটবলাররা খেলার জন্য যেমন বেশি সময় পাবে, নিজেদের স্কিলও দেখাতে পারবে বেশি করে,’ বলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রাক্তন ফুটবলার শেরিংহ্যাম, কলকাতায় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে।


    ‘এবার মার্কি ফুটবলার বলে কাউকে সই করানো হয়নি। কিন্তু আমরা সেই টাকাটা বিনিয়োগ করেছি ভারতীয় যুব প্রতিভাদের তুলে আনতে যারা শুধুই মিনিট দশেকের জন্য মাঠে আসবে না। বরঞ্চ, আমার দলের অবশ্যম্ভাবী অংশ হিসাবেই থাকছে তারাও,’ বুঝিয়ে বলেছিলেন গ্রেগরি।


    অন্য অনেকের মতোই নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র কোচ জোয়াও কার্লোস দে দেউসও অবাক হয়ে গিয়েছেন ভারতীয় ফুটবলারদের প্রতিভায়।


    পর্তুগিজ কোচ নিজের পর্যবেক্ষণে নজেই অবাক হয়ে গিয়ে ভারতীয় ফুটবলারদের সম্পর্কে প্রায় গবেষণা করে ফেলেছেন। একেবারেই অজানা সফরে নেমে পড়ার আগে সেই কারণেই দেখেছেন প্রচুর ম্যাচও।


    ‘আমার দলের ব্রাজিলীয়রা ম্যাজিক দেখাবে কিনা, অনেকেই জানতে চাইছেন। আমি তাদের প্রশ্ন করছি, ম্যাজিক বলতে কী বোঝাতে চাইছেন? যা বোঝাতে চাইছেন তা শুধুই ব্রাজিলীয়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমার দলের ভারতীয় ফুটবলাররাও স্কিলফুল, ওরাও ম্যাজিক দেখাতেই পারে। অনূর্ধ্ব১৭ বিশ্বকাপে সেই ব্লন্ড চুলের ছেলেটার (কোমল থাটাল) কথা ভাবুন না, ম্যাজিক তো ও-ও দেখাচ্ছিল। তাই, ফুটবল মাঠে বলপায়ে এই ম্যাজিক দেখানোটা বিশেষ কোনও দেশের কুক্ষিগত নয়,’ বললেন তিনি।


    ‘বড় বড় ফুটবলারদের সঙ্গে খেলাটা বিরাট সাহায্য করেছে ভারতীয় ফুটবলারদেরও, উন্নতি করতে। মার্কি ফুটবলারদের পাশে খেলেছে, বিপক্ষে পেয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফরোয়ার্ড ও মিডফিল্ডারদের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওদের খেলায় আত্মবিশ্বাসের ঝলক দেখা গিয়েছে। বিদেশিদের সব সময় চোখের সামনে দেখছে, দেখছে ওরা নিজেদের কীভাবে ধরে রাখে, শরীর সম্পর্কে কতটা যত্নবান – এগুলো দেখে ভারতীয় ফুটবলাররাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। হিরো আইএসএল এভাবেই বিরাট ভূমিকা পালন করছে ওদের উন্নতিতে,’ বলেছেন কোপেল, এবারের আইএসএল-এ যিনি দ্বিতীয় মরসুম থাকছেন কোচের দায়িত্বে, দুটি ভিন্ন দলে।


    ‘যা যা সুযোগসুবিধা পাচ্ছি আমরা, বিভিন্ন ধরনের কোচিং স্টাইলের সঙ্গে পরিচিতি হচ্ছে, টেকনিক্যাল দিক দিয়েও অনেক কিছু শিখতে পারছি, সব মিলিয়ে উন্নতি হচ্ছে ফুটবলার হিসাবেই। যেমন ধরুন, আমাদের কোচ মনে করেন, গোলরক্ষক হিসাবে আমার উচিত বক্সের বাইরে বেরিয়ে এসে কখনও কখনও সুইপার হিসাবে খেলতে, বল মাটিতে রাখতে সাহায্য করতে,’ বলছিলেন আলবিনো গোমস, নিজের দল দিল্লি ডায়নামোসের প্রধান কোচ মিগেল পর্তুগাল কীভাবে দলের খেলার ধরনে পরিবর্তন আনছেন তা বোঝাতে গিয়ে।


    ‘হিরো আইএসএল-এর ফলে ভারতীয় ফুটবলে শেষ পর্যন্ত হয়ত দেখা যাবে এমন একজন প্লেয়ারের উত্থান, হয়তবা সে বিরাট কোহলির ধরনের, যে জাতীয় দলকেওটেনে নিয়ে যাবে, অনুপ্রাণিত করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও, ফুটবল খেলতে। পরবর্তী প্রজন্মের উঠে আসা, কমবয়সিদের উন্নতিটাও যে কোনও দেশের খেলার আসরে উন্নতির ক্ষেত্রে খুবই জরুরি, যা আবার সাহায্য করবে লিগের উন্নতিতেও,’ বলেছেন পর্তুগাল।


    হিরো আইএসএল-এর চতুর্থ মরসুম শুরু হচ্ছে ১৭ নভেম্বর। কেরালা ব্লাস্টার্স নিজেদের মাঠে খেলবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন এটিকে-র বিরুদ্ধে। জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে, কোচিতে।

    No comments