• Breaking News

    সাফল্যের খিদে একটুও কমেনি এটিকে-র

    দুবারের চ্যাম্পিয়নদের কোচ হিসাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি টেডি শেরিংহ্যাম পাচ্ছেন নিজেকে প্রকাশের স্বাধীনতা


     আইএসএল মিডিয়া রিলিজ


    হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেও সবচেয়ে বেশি গোল করতে পারেনি এটিকে। আক্রমণের পরিসংখ্যানে চোখ বোলালেই দেখা যাবে যে, খেলেনি সবচেয়ে বেশি পাসও। বিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে শট নেওয়ার সংখ্যাতেও পিছিয়ে। কিন্তু যা আছে এটিকে-র ঘরে, কারও নেই! হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন খেতাব, যা আসলে চারিত্রিক দৃঢ়তা, মাঠ থেকে জিতে ফেরার প্রতিজ্ঞা আর ম্যাচ বের করে আনার নির্দয় মনোভাবের ফসল।

    আধুনিক ফুটবলে অনুরাগীরা যদি একই সঙ্গে বিনোদন এবং জয় দেখতে আগ্রহী হয়, এটিকে প্রমাণ করে দিয়েছে, ফাইনালে বিপক্ষকে আটকে রেখে ৯৫ মিনিটে জয়ের গোল পেলেই কাজের কাজটা হয়ে যায়।

    কিন্তু এবারের এটিকে একটু আলাদা। প্রথম তিন বছরে স্পেন জড়িয়ে ছিল এটিকে-র সর্বাঙ্গে। আন্তোনিও লোপেজ আবাস এনে দিয়েছিলেন প্রথম খেতাব ২০১৪ সালে। পরের বারও নিয়ে গিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। ২০১৬য় এসেছিলেন হোসে ফ্রান্সিসকো মোলিনা এবং এটিকে জিতেছিল তাদের দ্বিতীয় খেতাব। এবার এটিকে ঢলে পড়েছে ইংল্যান্ডের দিকে। কোচ হয়েছেন টেডি শেরিংহ্যাম এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টর অ্যাশলে ওয়েস্টউড। যে কোনও সমস্যায় পড়লে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসাটাই ছিল এটিকে-র সবচেয়ে বড় গুণ। ৫০ ম্যাচের মধ্যে ২০টি ড্র-ও করেছে তারাই। শেরিংহ্যাম এবং ওয়েস্টউড দলে চাইবেন যে কোনও মূল্যে জিততেই হবে এই মানসিকতা। প্রতি আক্রমণ নির্ভর ফুটবলের দর্শনে ভর করে।

    ‘চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ হওয়াটা বিরাট চ্যালেঞ্জ, সন্দেহ নেই। সবাই জানে যে আমাদের লক্ষ্য আবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়াই। তাই সবাই চাইবে আমাদের আটকাতে। সে কারণেই তৈরি থাকতে হবে আমাদেরও,’ বলেছেন শেরিংহ্যাম। এবারের হিরো আইএসএল-এ ব্রিটিশ কোচদের রমরমা, মেনে নিয়েছেন। তিনি ছাড়াও ইংরেজ কোচ হিসাবে চেন্নাইয়িন এফসি-তে আছেন জন গ্রেগরি, জামশেদপুর এফসি-র দায়িত্বে স্টিভ কোপেল। আবার, কেরালা ব্লাস্টার্সের দায়িত্বে থাকা রেনে মিউলেনস্টীন ডাচ হলেও প্রধানত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেই কোচিং করিয়েছিলেন।

    শেরিংহ্যাম আর ওয়েস্টউড খোলাখুলি বলেননি কিছুই। কিন্তু যে যে ফুটবলারকে সই করিয়েছে এটিকে, মনে করা যেতেই পারে যে, আরও ‘ডাইরেক্ট’ ফুটবল খেলানোর ভাবনাই কাজ করছে। ওয়েস্টউড সেভাবেই খেলিয়েছিলেন বেঙ্গালুরু এফসি-কে। রবিন সিং আর রবি কিন দুর্ধর্ষ জুটি হয়ে উঠতে পারেন যেমন, দু’দিকের উইং ধরে খেলার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে জয়েশ রানে এবং বিপিন সিং-কে। পরিশ্রমী ডিফেন্ডার আশুতোষ মেহতা এবং ফুলব্যাক প্রবীর দাস, যাঁরা দুজনেই বিপক্ষের বক্সে ক্রস পাঠাতে ওস্তাদ। রক্ষণের মাঝখানে নিয়ে আসা হয়েছে ইংরেজ টম থর্পকে। কিন্তু দলের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা মাঝমাঠ যেখানে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকছেন ইউজেনিসন লিংডো আর কোনর টমাস থাকবেন বিধ্বংসী ভূমিকায়। গোলরক্ষক হিসাবে বেশ ভাল দেবজিৎ মজুমদার এবং জুসি জাসকেলাইনেন দুজনেই।

    চতুর্থ আইএসএল-এ দলের সংখ্যা এবং ম্যাচের সংখ্যাও বেড়েছে। এটিকে-কে সামান্য চিন্তায় ফেলতে পারে এটুকুই। দলের লড়াকু মানসিকতা ভেঙে এটিকে-কে হারানো সবসময়ই কঠিন। তবে শে্রিংহ্যামকে ভাবতে হবে পরপর ম্যাচ খেলার চাপ কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন তা নিয়েই। কোচ হিসাবে তিনি কাজ করেছিলেন লিগ টু-তে স্টেভেনেজ ক্লাবে। এবার এটিকে-তে এসে প্রমাণ করতে চাইছেন, দুর্দান্ত ফুটবলারের পাশাপাশি কোচ হিসাবেও তাঁর দক্ষতার কথাও।

    সেই দিক দিয়ে ভারত আদর্শ মঞ্চ হয়ে উঠতেই পারে শেরিংহ্যামের কাছে। নিজের ভাবনা অনুযায়ী দলকে গড়ে তোলার স্বাধীনতা পাবেন এখানে। আর যে দলের দায়িত্ব নিয়েছেন তার চেয়ে ভাল দলও হয়ত পেতেন না, কারণ এটিকে-ও বদল চাইছে এবার। যদিও অনুরাগীরা চাইছেন সেই একই সফল এটিকে-কে দেখতে, মাঠে!

    No comments