• Breaking News

    চেন্নাইকে হারিয়ে ‘অ্যাওয়ে’ ম্যাচ জিতে শুরু গোয়ার

     চেন্নাইয়িন এফসি - ২   এফসি গোয়া – ৩


    (কালদেরন ৭০, রাফায়েল পে. ৮৪) (কোরো ২৫, মানুয়েল ২৯, মন্দার ৩৯)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ


    চেন্নাই, ১৯ নভেম্বর – চতুর্থ হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে প্রথম গোল এল ২০৫ মিনিট পর। পরের ১৪ মিনিটেই আরও দু’গোল। এবং, প্রতিযোগিতার প্রথম তিনটি গোলই ‘অ্যাওয়ে’, মানে বিপক্ষের ঘরের মাঠে! প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে এফসি গোয়া বুঝিয়ে দিল, গতবার আট দলের মধ্যে অষ্টম হওয়ার দুঃখ ভোলাতে এবার নতুন করে তৈরি হয়েছে দল।


    দুদলের শেষ ম্যাচে ৯ গোল হয়েছিল, এবার হল পাঁচ! জিতল যদিও সেই গোয়াই। দ্বিতীয় মরসুমের দুই ফাইনালিস্ট তৃতীয় মরসুমে ছিল সবার শেষে! সপ্তম হয়েছিল চেন্নাইয়িন এফসি, অষ্টম অর্থাৎ সবার নিচে শেষ করেছিল এফসি গোয়া। দুই কোচই – মার্কো মাতেরাজ্জি ও জিকো – তিন মরসুম কোচিং করিয়ে এবার দায়িত্ব ছেড়েছেন। এসেছিলেন চেন্নাইয়িন এফসি-তে ইংরেজ কোচ জন গ্রেগরি আর এফসি গোয়ায় সের্গিও লোবেরা।


    নতুন দুই কোচের লড়াইতে খানিকটা এগিয়ে গেলেন স্পেনীয় লোবেরা। তাঁর দল খেলল ছোট ছোট পাসে। বল ধরে নিয়ন্ত্রণ করল গতি। বার্সেলোনায় একসময় ছিলেন লোবেরা, তাঁর দলের খেলার ধরনে পরিষ্কার। বিপক্ষ একটু উঠে এসে খেলছিল দেখে দ্রুত দু-তিনটি ছোঁয়ায় বিপক্ষ রক্ষণকে দিশেহারা করে দিয়ে গোলের মুখ খুলে ফেলা। সেখানে ইংরেজ কোচের দল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকের কয়েক মিনিট ছাড়া তেমন দাপট দেখাতে পারেনি, অন্তত তাদের খেলার ধরনে।


    কিন্তু, চেন্নাইয়িনকে খেলায় ফিরিয়ে এনেছিলেন এফসি গোয়ার অধিনায়ক এবং অভিজ্ঞ গোলরক্ষক লক্ষ্মীকান্ত কাট্টিমনি। ইনিগো কালদেরনের নির্বিষ ফ্রি কিক ধরতে গিয়ে ফস্কালেন গোললাইনে দাঁড়িয়ে। বল তাঁর হাতে লেগে গোললাইন পেরিয়ে গেল সহজেই। তারপর ৮৩ মিনিটে জেজে লালপেখলুয়ার গায়ে পড়ে গেলেন বক্সের মধ্যে। সিদ্ধান্ত বিতর্কিত মনে হলেও বক্সের মধ্যে বিপক্ষ স্ট্রাইকারের গায়ে ওভাবে গোলরক্ষক পড়ে গেলে রেফারির পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানানোই স্বাভাবিক। ব্রাজিলীয় রাফায়েল ভুল করেননি ব্যবধান কমাতে।


    আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছিলেন চেন্নাইয়িনের গোলরক্ষক করণজিৎ সিং-ও। ২৫ মিনিটে গোয়ার প্রথম গোল, স্পেনের ফেরান কোরোমিনাস তেলেচেয়া-র। প্রতি আক্রমণে উঠেছিল গোয়া। নিজেরা কর্নার আটকে ফিরতি বল থেকে আক্রমণের শুরু। ব্রেন্দন এবং কোরোর ওয়ান-টু থেকে ৩৪ বছর বয়সি স্পেনীয় ফরোয়ার্ডের গোল। করণজিৎ এগোলেও ধনচন্দ্রের পায়ের ছোট্ট ছোঁয়ায় সামান্য দিক পরিবর্তন করেছিল বল। ফলে আটকাতে পারেননি।


    দ্বিতীয় গোলের সময় অবশ্য করণজিতের করার কিছুই ছিল না। বরঞ্চ তিনি দুবার আটকেছিলেন বিপক্ষের শট। ২৯ মিনিটে গোয়ার দ্বিতীয় গোল মানুয়েল লানজারোতে ব্রুনো-র, দুর্দান্ত চিপে। কোরো আবারও গোল করার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রথম প্রচেষ্টা আটকে দিয়েছিলেন করণজিৎ। বল পেয়েছিলেন ব্রেন্দন যাঁর শট করণজিৎ আবারও বাঁচালে বল গিয়েছিল স্পেনীয় মানুয়েলের কাছে। গোলরক্ষককে এগিয়ে থাকতে দেখে সবার মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দিয়েছিলেন বাঁপায়ে। বারের তলার দিকে লেগে আশ্রয় নেয় জালে।


    ৩৯ মিনিটে ৩-০, এবার মন্দার রাও দেশাইয়ের গোলে। চতুর্থ আইএসএল-এ প্রথম ভারতীয় গোলদাতা। তবে সাজিয়ে দিয়েছিলেন সেই স্পেনীয় মানুয়েলের। মন্দারের কাজ ছিল দেখেশুনে গোলা পাঠানো। তাঁর শট করণজিতের হাতে লেগেছিল। কিন্তু বল বাইরে বের করে দিতে পারেননি করণজিৎ।


    আর তৃতীয় গোল খাওয়ার দু মিনিট পর যা করেছিলেন, অন্য কোনও দিন, অন্য কোনও রেফারি লাল কার্ডও দেখাতে পারতেন করণজিৎকে। বল নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন ব্রেন্দন। বক্সের বাইরে এসে করণজিৎ শুয়ে পড়ে বলের দখল নিতে চেয়ে ফাউল করেন। রেফারি হলুদ কার্ড দেখান কারণ গোল থেকে অনেকটা দূরে ছিলেন ব্রেন্দন এবং বলও গোলমুখী ছিল না।


    ঘরের মাঠে ০-৩ পিছিয়ে ইংরেজ কোচ কী বলেছিলেন বিরতিতে, জানা কঠিন। তবে, ফল পাওয়া গিয়েছিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। চেন্নাইয়িনের খেলায় দেখা গিয়েছিল কিছু করে দেখানোর তাগিদ। গতি বেড়ে গিয়েছিল হঠাৎই। তিন মিনিটে তিনটি আক্রমণ। প্রথমে জেজের শট পোস্টে লেগে ফিরে এসেছিল। তারপরই একেবারে ফাঁকায় বল পেয়ে কাট্টিমণিকে পরাস্ত করলেও পোস্টে আবারও বল লাগিয়ে ফেলেন পরিবর্ত হিসাবে মাঠে-আসা নেলসন। তৃতীয় শট দুর্বল, সোজা কাট্টিমণির হাতে।


    দুই দলের অষ্টম সাক্ষাতে পঞ্চমবার জিতল গোয়া। এবং এই দুই দলের খেলায় এখনও পর্যন্ত একবারও ড্র হয়নি, যে-রীতি ভাঙল না চতুর্থ আইএসএল-এও।

    No comments