• Breaking News

    ম্যাচ রিপোর্ট: ব্রাজিলীয় দুই সানতোস-এর গোলে জয় মুম্বইয়ের

    মুম্বই সিটি এফসি - ২  এফসি গোয়া - ১


    (এভেরতোন ৫৯, থিয়াগো ৮৮)    ( আরানা ৮৪)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

     

    মুম্বই, ২৫ নভেম্বর – ব্রাজিলীয় থিয়াগো সানতোস ৮২ মিনিটে মাঠে এসেছিলেন, ক্যামেরুনের এমানার পরিবর্তে। আর মাঠে আসার ৬ মিনিটের মধ্যেই মুম্বই সিটি এফসি-কে এনে দিলেন জয়সূচক গোল। দুর্দান্ত দৌড়ে ডানদিক থেকে বক্সে ঢুকে  এফসি গোয়ার গোলরক্ষক কাট্টিমনিকে পরাস্ত করেন যখন, কিছুই করার ছিল না। বল কাট্টিমনিকে পেরিয়ে পোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে গিয়েছিল। ফলে মুম্বই পেল চতুর্থ হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে প্রথম জয়, দ্বিতীয় ম্যাচে। ঘরের মাঠে মালিক রণবীর কাপুরের সামনে ঘুরে দাঁড়াল আগের ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসি-র কাছে ০-২ হারের পর।

    ঠিক উল্টো ব্যাপার হল এফসি গোয়ার ক্ষেত্রে। প্রথম ম্যাচে যারা চেন্নাইয়িনকে হারিয়েছিল ৩-২, দ্বিতীয় অ্যাওয়ে ম্যাচে ফিরতে হল হেরে। সে জন্য খানিকটা দায়ী অবশ্যই করা যেতে পারে তাদের গোলরক্ষক কাট্টিমনিকে। মুম্বইকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ব্রাজিলীয় আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার এভেরতোন সানতোস, ৫৯ মিনিটে, কাট্টিমনির ভুলেই। সানার পাস ধরে ডানদিকে ঘুরে শট নিতে যাওয়ার সময় খেয়ালই করেননি কাট্টিমনি, পেছন থেকে ধেয়ে আসছেন এভেরতোন। গোয়ার গোলরক্ষক শট নিতে যাওয়ার মুখে শরীর ছুড়ে পা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্রাজিলীয়, তাঁর পায়ে লেগে বল চলে যায় জালে। সেই গোলের কারণেই ম্যাচের সেরাও হলেন সানতোস।

    কাট্টিমনির ভুল অবশ্য এবারই প্রথম নয়। গোয়াকে ভুগতে হয়েছিল আগেও। ২০১৫ ফাইনালে তাঁর আত্মঘাতী গোল ছিল। এবারও সের্গিও লোবেরার দলকে পিছিয়ে পড়তে হয়েছিল তাঁরই ভুলে। ৬৬ মিনিটে বিতর্কিত অফসাইডের সিদ্ধান্তে অবশ্য সমতা ফেরাতে পারেনি গোয়া। শেষ পর্যন্ত যদিও অমরিন্দরকে পরাস্ত হতে হয়েছিল আরানার শটে, ৮৪ মিনিটে। দ্রুতগতিতে প্রতি আক্রমণে বিপক্ষ বক্সে পৌঁছে গিয়েছিল গোয়া। ডানদিক থেকে কোরোর পাস বক্সের মধ্যে পৌঁছলে ডানপায়ের শটে গোল করতে কোনও ভুল করেননি স্পেনীয় আরানা।

    কিন্তু ফ্লামেনগো থেকে লোনে নিয়ে-আসা বাইশ বছরের ব্রাজিলীয় থিয়াগো সানতোসের গোলে আবারও পিছিয়ে পড়তে হয়েছিল গোয়াকে, যা আর শোধ দেওয়া যায়নি। প্রথমার্ধের একেবারে শেষে কোরো এগিয়ে দিতে পারতেন এফসি গোয়াকে। অমরিন্দরের দুরন্ত সেভ মুম্বইকে পিছিয়ে পড়তে দেয়নি তখন। আরানা বল দিয়েছিলেন জাহু-কে, যাঁর শট বক্সের মধ্যে মুম্বইয়ের এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে পৌঁছে গিয়েছিল কোরোর কাছে। এবারের আইএসএল-এ প্রথম গোলদাতা স্পেনীয় কোরো ছ’গজের বক্সের মধ্যে থেকেই শট নিয়েছিলেন। অমরিন্দর ততোধিক তৎপরতায় ঝাঁপিয়ে বাঁচিয়ে দেন।

    দ্বিতীয়ার্ধেও ৫২ মিনিটে আরও একবার গোল বাঁচাতে হয় অমরিন্দরকে। তবে, তাঁর চেয়েও কৃতিত্ব বেশি পোস্টের! কোরোর থেকে বল পেয়ে মন্দার সাজিয়ে দিয়েছিলেন মানুয়েল লানজোরাতে-কে। স্পেনীয় মানুয়েলের চিপ অমরিন্দরকে পেরিয়ে গিয়ে সোজা পোস্টে লেগে আবার ফিরে আসছিল যখন, মুম্বইয়ের গোলরক্ষক হতচকিত ভাব কাটিয়ে ঠিক সময়েই বল আয়ত্ত্বে নিয়ে নেন।

    দুই ভারতীয় গোলরক্ষকের তিনকাঠির তলায় পারফরম্যান্সে কী অদ্ভুত বৈপরীত্য! অমরিন্দর যদি বারবার দলের নিশ্চিত পতন বাঁচিয়ে থাকেন, কাট্টিমনি ডেকে এনেছিলেন পতন। মুম্বই সিটি এফসি-র কোচ আলেকজান্দ্রে গিমারায়েস বলেছিলেন ম্যাচের আগে, ঘরের মাঠে অন্য মুম্বই সিটি এফসি-কে দেখা যাবে। এফসি গোয়ার বল পজেশনভিত্তিক পাসিং ফুটবলকে বিশেষ সমস্যায় ফেলতে দেননি, রক্ষণে জোর দিয়ে। তাই ৬৩ শতাংশ পজেশন নিয়েও অমরিন্দরকে পরাস্ত করতে না পেরে এবং সহকারি রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে, মুম্বই থেকে শূন্যহাতেই ফিরতে হল লোবেরার গোয়াকে।

    No comments