• Breaking News

    আরও বড়, আরও ভাল এবং প্রতিষ্ঠিত লিগের পথে

    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ


    শৈশবের টলোমলো পদক্ষেপ ছেড়ে চতুর্থ হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) এখন লম্বা, আত্মবিশ্বাসী এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ পদক্ষেপ করার পথে। কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এনে ফেলার পর সুবিধা হয়েছে এশীয় ফুটবল কনফেডারেশনে (এএফসি) নথিভুক্ত হতে। এখন আইএসএল-এ চ্যাম্পিয়নদের এএফসি কাপে জায়গা পাওয়া নিশ্চিত।


    পরীক্ষা নিরীক্ষার পালা শেষ। এবার আরও বড় লক্ষ্যের দিকে এগোনোর পালা। লিগের ফরম্যাট একই থাকছে। সেরা চার দল যাবে নকআউটে। কিন্তু লিগের সময়সীমা প্রায় দ্বিগুণ এবার। প্রথম তিন মরসুমে দু-মাসে দ্রুতগতিতে লিগ শেষ করার বদলে এবার থেকে চার মাস সময়। বেড়েছে দলের সংখ্যাও, আট থেকে দশে। হিরো আই লিগ থেকে প্রথম দল হিসাবে বেঙ্গালুরু এফসি চলে এসেছে আইএসএল-এ। সঙ্গে জামশেদপুর এফসি-ও যারা এবারই প্রথম খেলবে, ভারতের অন্যতম সেরা শিল্পসংস্থা টাটার পৃষ্ঠপোষকতায়।


    বলা বাহুল্য, আরও বেশিদিনের প্রতিযোগিতা হওয়ায় সূচি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো কমেছে যেমন, ফুটবলাররাও অনেক বেশি সময় পাবেন দুটি ম্যাচের মাঝে, নিজেদের শারীরিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে। এফসি পুনে সিটির কিন লুইস যেমন বলছিলেন, ‘দুটি ম্যাচের মাঝে বেশি সময় পাওয়ার অর্থই হল ফুটবলের মান আরও ভাল হবে।, যা শেষ বিচারে ভারতে ফুটবলকে আরও ভালভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে।


    লুইসের সঙ্গে সহমত হয়েছেন আইএসএল-এ অংশগ্রগণকারী বেশ কয়েকজন প্রধান কোচ।


    ‘লিগ বেশিদিন ধরে চলবে মানেই আরও বেশি পরীক্ষানিরীক্ষা করা সম্ভব খেলার স্টাইল নিয়ে। ফুটবলারদের নিয়ে অনুশীলনে আরও বেশি দিন সময় পাওয়া যাবে,’ বলেছেন আলেকজান্দ্রে গিমারায়েস। মুম্বই সিটি এফসি-র কোচ হিসাবে এবছর যিনি দ্বিতীয় মরসুমে টানা থাকছেন দায়িত্বে। কোস্তা রিকার কোচের প্রশিক্ষণে পাল্টে গিয়েছিল মুম্বই সিটি এফসি, গত বছর। মাত্র দুমাস সময় পেয়েই যিনি এই পরিবর্তন আনতে পেরেছিলেন, এবার চার মাসের প্রতিযোগিতায় নিশ্চিতভাবেই আরও ভাল কিছুই করবেন, আশা করছেন অনুরাগীরা।


    এবার ভারতীয় ফুটবলাররাও থাকবেন আকর্ষণের কেন্দ্রে। আইএসএল-এ এবারের নিয়ম অনুসারে সব দলেরই প্রথম একাদশে ছ’জন ভারতীয় ফুটবলারের মাঠে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ‘আমার তো মনে হয় এই সিদ্ধান্তটা খুবই ভাল যে ভারতীয় ফুটবলাররা আরও বেশি সময় পাবে খেলার জন্য। আরও বেশি দায়িত্বও থাকবে ওদের কাঁধে, ফলে উন্নতিও করবে,’ মনে করছেন জামশেদপুর এফসি-র কোচ স্টিভ কোপেল। আগের তিন মরসুমে মাঠে পাঁচজন ভারতীয় ফুটবলারের থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। এবারের নিয়মে মাঠে প্রতিটি দলেই বিদেশিদের তুলনায় বেশি সংখ্যায় থাকবেন ভারতীয় ফুটবলাররা।


    চেন্নাইয়িন এফসি-র প্রধান কোচ জন গ্রেগরির মনে হচ্ছে, নিয়মের এই পরিবর্তনে দলগুলোর কৌশল বদলাবে টাকা খরচ করার ক্ষেত্রেও। ‘যদি খেয়াল করেন, দেখবেন যে, এবার আমরা ভারতীয় ফুটবলারদের তুলে আনার দিকেই বেশি নজর দিয়েছি। দলে নেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকজন উঠতি তারকাকেও যারা শুধুই নিয়মরক্ষার্থে দশ মিনিটের জন্য মাঠে আসবে না, দলের অংশ হিসাবেই থাকবে, প্রতি সপ্তাহে টেলিভিশনে তাদের খেলা সরাসরি দেখবে গোটা দেশ,’ বলেছেন ইংরেজ কোচ।


    স্ট্র্যাটেজি বদলানোর আরও একটি কারণ, এবার থেকে মার্কি ফুটবলার সই করানোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একমাত্র এটিকে-ই মার্কি হিসাবে সই করিয়েছে রবি কিন-কে, যার ফলে পরিষ্কার বোঝা যাচ্চে যে, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নজর এবার ভারতীয়দের জন্যই বেশি পয়সা খরচের দিকে, তাদের উন্নতির দিকেও।


    ‘ক্রিকেটে যেমন বিরাট কোহলি আছে, ভারতীয় ফুটবলে এখন চাই ওর মতো একজন ফুটবলার। আমার বিশ্বাস হিরো আইএসএল সে ব্যাপারেও সাহায্য করবে ভারতীয় ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে,’ বলেছিলেন দিল্লি ডায়নামোসের স্পেনীয় কোচ মিগেল আনজেল পর্তুগাল।


    প্রতিটি দলকেই এবার এএফসি লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন জানাতে হবে, সামনের মরসুম থেকে। কিন্তু কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে এবার থেকেই। আকাদেমি তৈরি হচ্ছে, যুব দল রাখছে সব ফ্র্যাঞ্চাইজিই, পরিকাঠামো উন্নত করার দিকেও নজর দিতেই হচ্ছে।


    পরিবর্তনগুলোর ফলে হিরো আইএসএল এবার চলবে আরও বেশি দিন, প্রতিযোগিতা হিসাবেও ‘বড়’ হয়েছে, গুণগত দিক দিয়েও আরও ভাল হচ্ছে কারণ ভারতীয়রা সর্বোচচ আসরের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছে বেশি করে। পূর্ণাঙ্গ লিগ হিসাবে আইএসএল-কে তুলে ধরার দিকে এবারের চতুর্থ আইএসএল বিরাট পদক্ষেপ, নিঃসন্দেহে।

    No comments