• Breaking News

    দুটি ম্যাচ শেষে এখনও প্রথম গোলের সন্ধানে চতুর্থ আইএসএল

     

    দাপট সত্ত্বেও গোল করতে ব্যর্থ নর্থইস্ট, অভিষেকে জামশেদপুরকে পয়েন্ট দিলেন সুব্রত


    নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি - ০     জামশেদপুর এফসি - ০


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    গুয়াহাটি, ১৮ নভেম্বর – তিনবারে একবারও সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারেনি জন আব্রাহামের নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি। কেন, কারণ আরও একবার বোঝা গেল চতুর্থ হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের প্রথম ম্যাচে। ঘরের মাঠে বহু সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে ব্যর্থ হোয়াও দে দেউস-এর দল। ৫৫ শতাংশের বেশি সময় বলের দখল রেখেও এল না  তিন পয়েন্ট।

    যাঁর কারণে গোল এল না, প্রথম নাম অবশ্যই সুব্রত পালের। দীর্ঘদেহী গোলরক্ষক গতবারই ছিলেন নর্থইস্ট ইউনাইটেডে। নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল বাঁচালেন সুব্রত। জামশেদপুর এফসি-কে আইএসএল অভিষেকে বড় লজ্জার হাত থেকে বাঁচালেন ভারতের প্রাক্তন একনম্বর গোলরক্ষক। গতবারের মতোই এবারও তিনকাঠির তলায় প্রথম ম্যাচেই দুর্ভেদ্য। নির্ভরতা দিলেন কোপেলের নতুন দলকে।

    গোল করার অনেকগুলি সুযোগ পেয়েছিল নর্থইস্ট।  অবশ্যই গোল করা উচিত ছিল দানিলো সেজারিও-র। লালরিনদিকা রালতের পাস ধরতে ৫৯ মিনিটে অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়েছিলেন ব্রাজিলীয়। সুব্রতও বিপদ বুঝে বেরিয়ে এসেছিলেন গোল ছেড়ে। আগুয়ান সুব্রতর ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দিয়েছিলেন দানিলো। একটুর জন্য বল বাইরে যায়। পরে ৬৬ মিনিটে আবারও মার্সিনিওর পাস থেকে গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন দানিলো। এবারও সুব্রত ঝাঁপিয়ে বাঁচিয়ে দেন। এমন পরিস্থিতিতে ২৬ বছরের ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড দানিলোর কাছে গোলই আশা করবেন দে দেউস, নিশ্চিত।

    তার আগে, ৫৫ মিনিটে দুর্দান্ত সেভ করে তাঁর নতুন দলকে পিছিয়ে পড়তে দেননি সুব্রত। বাঁদিক থেকে মার্সিনিওর শট গোলে ঢোকার মুখে, ঠিক সময়ে আন্দাজ করে এগিয়ে গিয়ে বল বের করে দেন। বল এতটাই কাছে ছিল পোস্টের যে হাত তো পোস্টে লেগেই ছিল, প্রায় মুখ থুবড়েই পড়েছিলেন সুব্রত। কিন্তু বল বের করে দিয়েছিলেন ঠিক।

    আরও বেশ কয়েকবার সুযোগ এসেছিল নর্থইস্টের কাছে, সম্ভব হয়নি স্ট্রাইকার বা ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায়। ছিল দুর্ভাগ্যও। ৬৪ মিনিটে মার্সিনিওর হেড পোস্টে লেগে ফিরে এসেছিল। দিদিকার শট গোল লাইন থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল হেড করে, ঠিক তার আগেই। দ্বিতীয়ার্ধে এতটাই দাপট ছিল নর্থইস্টের যে, জামশেদপুর আক্রমণ তুলে নিয়েই যেতে পারছিল না বিপক্ষের অর্ধে।

    তবুও, গোল পেতে পারত নবাগত দলও। স্টিভ কোপেলের দলের প্রথম বলার মতো সুযোগ প্রথমার্ধের একেবারে শেষে। এগিয়ে যেতেই পারত জামশেদপুরই। ইজু আজুকা বল পেয়ে গিয়েছিলেন বড় বক্সের মধ্যে। তেমন চাপেও ছিলেন না। কিন্তু ডান পায়ের দুর্বল মাটিঘেঁষা শট নর্থইস্টের গোলরক্ষক টিপি রেহনেশ বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন ডান পা বাড়িয়ে।

    ম্যাচের সবচেয়ে উত্তেজক মুহূর্ত অবশ্য ৭৮ মিনিটে। লাল কার্ড দেখেন আন্দ্রে বিকে, নিজের পুরনো ক্লাবের বিরুদ্ধে। ৬৯ মিনিটে মাঠে এসেছিলেন। কিন্তু লুইস আলফোনসোকে আটকাতে গিয়ে বিকের পা যতটা ওপরে উঠেছিল, রেফারির পক্ষে অন্য কিছু ভাবা সম্ভব ছিল না, সরাসরি লাল কার্ড দেখানো ছাড়া।  সিদ্ধান্ত বিতর্কিত অবশ্যই। আবার সেই সময়ে রেফারির সঙ্গে তর্ক করতে গিয়ে হলুদ কার্ডও দেখেছিলেন দুতি, যা একেবারেই অনাবশ্যক। শেষ ১২ মিনিট এবং অতিরিক্ত আরও ৪ মিনিট দশজনে খেলতে হল জামশেদপুরকে।

    ৭৪ মিনিটে প্রায় আত্মঘাতী গোল করে ফেলেছিলেন নর্থইস্টের আবদুল হাক্কু। প্রতি আক্রমণে বিপদ থেকে বাঁচতে বল উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন নিজের গোলের ওপর দিয়েই। কিন্তু যতটা ওপরে পাঠাতে চেয়েছিলেন, হয়নি। গোলরক্ষক রেহনেশ চেষ্টা করেও পারেননি, বল ফিরে এসেছিল বারে লেগে।

    জামশেদপুরের কোচ কোপেল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন নিশ্চিত, অভিষেকে এক পয়েন্ট পেয়ে। কিন্তু যে দাপট দেখাল নর্থইস্ট প্রথম ম্যাচে, স্ট্রাইকাররা গোল পেলে অন্যরকম হতেই পারত। হারতে হয়নি, খুশি হবে দুই দলই। তিন পয়েন্ট পেলে অবশ্য বেশি খুশি হতেন পর্তুগিজ দে দেউস।

    দুটি ম্যাচ শেষে এখনও প্রথম গোলের সন্ধানে চতুর্থ আইএসএল।

    No comments