• Breaking News

    আরও ম্যাচ, আরও গোল, আরও বিনোদন

    হিরো আইএসএল-এর কোচরা এবার তাঁদের ফুটবলারদের দিয়ে আরও বেশি আক্রমণাত্মক এবং গতিশীল ফুটবল খেলাতে আগ্রহী



    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ





    [caption id="attachment_4005" align="alignleft" width="1200"] ছবি - আইএসএল[/caption]

    হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে গত তিন মরসুমে ১৮৩ ম্যাচে আটটি দল মোট গোল করেছিল ৪৬০। ম্যাচ-প্রতি ২.৫১ গোল। কিন্তু, শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রথম বার কোচ এবং ফুটবলারদের কথাবর্তা থেকে যা বেরিয়ে এল,সংখ্যাটা এবার নিশ্চিতভাবেই বাড়তে চলেছে। কোচরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন যে, তাঁরা আরও বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাতে আগ্রহী তাঁদের ফুটবলারদের দিয়ে। ফুটবল অনুরাগীরা যাতে খেলা দেখে আরও বেশি আনন্দিত হয়, নিশ্চিত করতে চান তাঁরা।
    কেরালা ব্লাস্টার্সের সহকারি কোচ থিংবোই সিংতো যেমন মেনেই নিলেন যে তাঁর প্রধান কোচ রেনে মিউলেনস্টীন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এ অ্যালেক্স ফার্গুসনের সহকারি থাকার সময় যা যা শিখেছিলেন তার অনেক কিছুই এখানে করে দেখানোর চেষ্টা করবেন। একইভাবে এবারের লিগে নবাগত কোচ যাঁরা, এফসি গোয়ার সের্গিও লোবেরা, এফসি পুনে সিটির রানকো পোপোভিচ এবং চেন্নাইয়িন এফসি-র জন গ্রেগরিও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা জেতার লক্ষ্যেই খেলবেন, বাস্তবধর্মিতার দিকে বেশি মন না দিয়ে। মুম্বই সিটি এফসি-র আলেকজান্দ্রে গিমারায়েস বলেছেন যে এবার তাঁর দলকে ‘অন্যরকম স্টাইলে’ খেলতে দেখা যাবে লিগ তালিকায় শীর্ষে ওঠার চেষ্টায়, গতবারের তুলনায়। আর হিরো আই লিগে আলবের্ত রোকা তো দেখিয়েই দিয়েছেন, ঠিক কীভাবে তিনি খেলাতে পছন্দ করেন বেঙ্গালুরু এফসি-কে।


    ‘আমি চাই বল যেন বেশি সময় আমার ফুটবলারদের পায়েই থাকে। যখন থাকবে না, যেন দ্রুত সেই বল আবার ফিরিয়ে আনতে পারে নিজেদের দখলে। আমার সবসময় পছন্দ দ্রুতগতিতে পাসিং ফুটবল যেখানে সৃজনশীল ফুটবলাররা নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুয়গ পায়। তা ছাড়াও, বিশ্বাস করি যে নিজেদের পায়ে বল থাকলে কম দৌড়তে হয়। বার্সেলোনার ফুটবল স্টাইলে আমার বিশ্বাস রয়েছে। তাই বুঝতেই পারছেন,কেমনভাবে খেলার চেষ্টা করবে আমার দল,’ বলেছেন লোবেরা, যিনি বার্সেলোনার যুব দলগুলির দায়িত্বে ছিলেন ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত।


    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর প্রথম আলাপচারিতায় পুনে সিটি এফসি-র সার্বীয় কোচ পোপোভিচ ছিলেন হাসিমুখেই। নিজের দলকে একই রকম খেলানোয় আগ্রহী তিনি, মনে হতে বাধ্য।


    ‘ফুটবল খেলা উচিত বিনোদনের কথা মাথায় রেখেই। আনন্দ করতে করতে খেলতে দেওয়া উচিত ফুটবলারদের। খেলাটা যেন আকর্ষণীয় হয়। হ্যাঁ, ফলাফল অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে এবং সে কারণে যা যা করা দরকার করতেও হবে। যেমন দরকারে আমার ফুটবলাররা জোরালো ট্যাকল করতেও তৈরি থাকবে, পরিস্থিতি মাথায় রেখে লড়বে শেষ মিনিট পর্যন্তও। কিন্তু, আমার দলকে একটি বিশেষ ঘরনায় খেলতে বলা এবং ফুটবলারদের তা মাঠে করে দেখানো, সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। আমি আবার বিশ্বাসী ম্যাচ ধরে ধরে খেলতে,’ বলেছেন প্রাক্তন সেন্টার-ব্যাক।


    তাঁর ভাবনার সমর্থন পাওয়া গেল গতবারের সোনার বুটজয়ী মার্সেলিনিও-র  (মার্সেলো লেইতে পেরিরা) কথায়, যিনি এবার পুনে সিটিতে এসেছেন, গতবার দিল্লি ডায়নামোসের হয়ে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে (১০ গোল, পাঁচ অ্যাসিস্ট)।


    ব্রাজিলীয় মার্সেলিনিও মনে করছেন, ‘ফুটবল মানেই এক অপার্থিব সুখ। আমরা ইতিবাচক ফুটবলই খেলতে চাই।’


    পুনের ফুটবলাররা যদি কোচের কথানুযায়ী খেলতে পারেন মাঠে, পুনের সমর্থকরা দারুণ আনন্দ পাবেন খেলা দেখে, সন্দেহ নেই।


    দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতেই পারে চেন্নাইয়িন এফসি-র খেলাতেও। তিন বছর তাদের সঙ্গে ছিলেন বিশ্বজয়ী প্রাক্তন ফুটবলার ইতালির মারওক মাতেরাজ্জি। এবার দায়িত্বে জন গ্রেগরি, যিনি বলেছেন, মাতেরাজ্জির দেখানো পথেই হাঁটতে আগ্রহী তিনি। আর একই সঙ্গে এটাও প্রমাণ করে দিতে চাইছেন যে, ইংরেজ ম্যানেজাররা ইংরেজ ফুটবলের বাঁধাগতে পরে থাকতে চাইছেন না আর।


    ‘ইংরেজ ম্যানেজার মানেই যেন তাঁরা লং বল খেলাতে আগ্রহী হবে, ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু আমি চাই আমার দল ঠিকঠাক ফুটবল খেলুক। শুধুই যেখানে ফরোয়ার্ডদের উদ্দেশে লম্বা লম্বা পাসে বলবাড়ানো হবে না পেছন থেকে। আমাদের দলে তেমন বহু ফুটবলার যারা জানে বল ধরে খেলতে, বিশেষ ঘরানা মেনে খেলতে। চেন্নাইয়িনে এমন ফুটবলারের সংখ্যা প্রচুর, তা ছাড়া, চেন্নাইয়িনের ঐতিহ্যই হল অখ্যাত প্রতিভাদের বিখ্যাত করে তোলা। তাই এই মরসুমেও চমক থাকছে, অপেক্ষা করুন,’ বললেন। নিজে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছিলেন গ্রেগরি। আছে দশটি ক্লাবকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাও।


    এবার যেহেতু হিরো আইএসএল আগের দুমাসের তুলনায় দ্বিগুণ চার মাসের প্রতিযোগিতা, সব ম্যানেজারই নিজেদের দর্শন বোঝানোর জন্য সময় পাবেন অনেক বেশি দিন। ফলে তা প্রতিফলিত হবে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সেও। সত্যিই যদি তাঁরা তা করে দেখাতে পারেন, অনেক অনেক বেশি গোল এবার অপেক্ষায় হিরো আইএসএল-এর দর্শকদের জন্য।

    No comments