• Breaking News

    পিছিয়েও জিতল পুনে, আলফারোর জোড়া গোলে

    এফসি পুনে সিটি - ২   মুম্বই সিটি এফসি – ১


    (আলফারো পে. ৭৪, ৯৩)   (বলবন্ত ১৫)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    পুনে, ২৯ নভেম্বর – প্রথম ম্যাচে হেরেছিল দুই দলই। দ্বিতীয় ম্যাচে আবার দুই দলই জিতেছিল। তৃতীয় ম্যাচে কারা এগিয়ে যাবে, লড়াই ছিল। মহারাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে বেশিরভাগ সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের গোলে বাজিমাত এফসি পুনে সিটি-র।

    ম্যাচে প্রাধান্য অবশ্যই বেশি ছিল পুনের। কলকাতা থেকে ৪-১ জিতে ফেরার পর যা স্বাভাবিকও। কিন্তু পুনের সমস্যা ছিল, ঘরের মাঠে তাদের পারফরম্যান্স। গত তিন বছরে আটটি ম্যাচ হেরেছে পুনে, ঘরের মাঠে, যা অন্য সব দলের তুলনায় বেশি এবং যা আসল কারণ পুনের প্লে অফে না-পৌঁছনোর, গত তিন বছরে। এমনকি, আন্তোনিও আবাস এসেও আগের মরসুমে সেই ধারা পাল্টাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

    এবারও একই রকম হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, ৭২ মিনিট পর্যন্ত পুনে ০-১ পিছিয়ে থাকায়। সার্বিয়ার রানকো পোপোভিচের আমলে পুনে ম্যাচে প্রাধান্য ধরে রেখেছিল বল পজেশনে, পাসের সংখ্যাতেও। কিন্তু গোল কিছুতেই পাচ্ছিলেন না মার্সেলিনিও-আলফারোরা। শেষ পর্যন্ত গোল এল, পেনাল্টিতে।

    ৭২ মিনিটে পেনাল্টি পায় পুনে। বক্সের মধ্যে রোজারিও-র সঙ্গে লড়াইয়ে পড়ে গিয়েছিলেন কার্লোস, নিজে থেকেই। কিন্তু সেই ফাউলের জন্য পেনাল্টি নয়। যখন কার্লোস উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন, রাজু গায়কোয়াড় পেছন থেকে এসে পা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন যা বলে লাগেনি কিন্তু কার্লোসের পায়ে অবশ্যই লেগেছিল। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিতে কোনও অসুবিধাই হয়নি রেফারির। আর সেই পেনাল্টি থেকেই সমতা ফিরিয়েছিলেন উরুগুয়ের আলফারো। তৃতীয় ম্যাচে তৃতীয় গোল পেলেন এমিলিয়ানো আলফারো, দিল্লি ডায়নামোস এবং এটিকে-র বিরুদ্ধেও পেয়েছিলেন গোল।

    আর অর্জুন কাপুরের দল পরপর দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে লিগ তালিকায় বেঙ্গালুরু এফসি-কে ধরে ফেলল ম্যাচের একেবারে শেষে। চার মিনিটের ইনজুরি টাইম দেওয়া হয়েছিল। তার তৃতীয় মিনিটে জয়সূচক গোল আলফারোরই। তবে এই গোলের জন্য নিজেদের ডিফেন্স থেকে জোনাথন লুক্কার লং বল কৃতিত্ব দাবি করতেই পারে। মুম্বই রক্ষণ তখন গোলের সন্ধানে এগিয়ে ছিল। লুক্কার বল ঠিক খুঁজে পেয়েছিল দিয়েগো কার্লোসকে। তিনি গোলের জায়গাতে থাকলেও আরও নিশ্চিত আলফারোর পায়ে পাস দিয়েছিলেন। উরুগুয়ের স্ট্রাইকার গত মরসুমে গোল করেছিলেন পাঁচটি, এবার, তৃতীয় ম্যাচেই তুলে নিলেন নিজের চতুর্থ গোল।

    মুম্বই সিটির গোল ভারতীয়দের পায়েই। শেহনাজ সিংয়ের পাস থেকে বাঁদিকে বল পেয়ে ভেতরে ঢুকে এসেছিলেন বলবন্ত, ডানপায়ের সোয়ার্ভিং শট পুনের গোলরক্ষক কমলজিৎ সিংকে সহজেই পরাস্ত করে জালে জড়ায়। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই। ফলে, অ্যাওয়ে ম্যাচেও এগিয়ে গিয়েছিল মুম্বই। আগের ম্যাচে গোয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে জিতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছিল রণবীর কাপুরের দলের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই গোল ধরে রাখতে পারেনি। ফলে মরসুমে দ্বিতীয়বার হারল মুম্বই, প্রথম ম্যাচে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে হারের পর। তারা অবশ্য রেফারির দিকে আঙুল তুলতেই পারে, নিশ্চিত পেনাল্টি রেফারি দেননি বলে। সেই সময় পেনাল্টি পেলে বাইরের মাঠেই ২-০ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারত মুম্বই।

    ব্রাজিলীয় জেরসন ভিয়েইরা ৮৯ মিনিটে অবশ্য দ্বিতীয়বার এগিয়েও দিতে পারতেন মুম্বই-কে, যাঁর ডানপায়ের শট পুনের গোলরক্ষক কমলজিৎকে পরাস্ত করেও পোস্টে লেগে ফিরে এসেছিল। ম্যাচজুড়ে তাঁর পারফরম্যান্স এতটাই নজরকাড়া যে, ম্যাচের নায়ক হিসাবেও বেছে নেওয়া হল তাঁকেই। আলেকজান্দ্রে গিমারায়েসের মুম্বই সিটি এফসি নিশ্চিত করতে আগ্রহী, দল যেন কম গোল খায়। গতবার রক্ষণ সুদৃঢ় করেই মুম্বইকে তিনি তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। বালেওয়াড়ি স্টেডিয়ামে শেষ মুহূর্তে আলফারোর গোল অবশ্য মন ভেঙে দিয়ে গেল গিমারায়েসের।

    No comments