• Breaking News

    নতুন ইনিংসেও শুরু থেকে আক্রমণাত্মক সুভাষ!

     ‘আইএসএল আবার কী? ওটা তো সার্কাস!’


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    কলকাতা, ১৩ মার্চ – ‘আইএসএল আবার কী? ওটা তো সার্কাস! তিন হাজার লোকও দেখে না!’

    যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলেন সুভাষ ভৌমিক। এবার তাঁর অন্য লড়াই। সরাসরি আইএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গেই হয়ত। সুপার কাপে তাঁর ইস্টবেঙ্গলকে খেলতে হবে ইন্ডিয়ান অ্যারোজ এবং মুম্বই সিটি এফসি ক্লাবের মধ্যে খেলায় জয়ী দলের বিরুদ্ধে। ইন্ডিয়ান অ্যারোজের বিরুদ্ধে খালিদ জামিলের ইস্টবেঙ্গল খেলেছে সদ্যসমাপ্ত আই লিগে। যদি মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে খেলতে হয়, ইস্টবেঙ্গল প্রথমবার সরাসরি মুখোমুখি হবে আইএসএল-এর কোনও দলের বিরুদ্ধে। এবং সুভাষ ভৌমিক তাঁর নতুন ইনিংসেও শুরু থেকে আক্রমণাত্মক!

    সোমবার তাঁকে নতুন করে ডেকে এনেছে ইস্টবেঙ্গল, মাথায় বসিয়েছে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসাবে, কোচ খালিদ জামিলের। কিন্তু নতুন টিডি মানছেন না। ‘খালিদ প্রধান কোচ, আমি ওর সহকারী। আমার কোনও ইগো সমস্যা নেই। খালিদ ৮০ শতাংশ ভূমিকা নেবে, আমার ভূমিকা ২০ শতাংশ। এএফসি-র লাইসেন্স আছে, বেঞ্চে বসতে সমস্যা হবে না।’

    কিন্তু খালিদ জামিলের কী হবে? যখন মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য ছিলেন সহকারী হিসাবে, ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচকে বসতে হত মাঠের বাইরে। খালিদের নাকি পরিষ্কার নির্দেশ ছিল, যখন ডিফেন্ডারদের নিয়ে কাজ করা হবে, মনোরঞ্জন যেন তখনই মাঠে আসেন। সুভাষ ভৌমিক কিন্তু ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে সাংবাদিক সম্মেলনের জন্য নির্ধারিত ঘরে পাশে খালিদকে বসিয়েই সরাসরি জানিয়ে দিলেন, ‘কাজ করতে হলে মাঠের ভেতর থেকেই করতে হবে। মাঠের বাইরে থেকে ফুটবলে কাজ করা যায় না।’

    কী কাজ করতে হবে? আই লিগে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিটি ম্যাচ বাড়িতে বসে টিভিতে দেখেছেন। তার ভিত্তিতে দল সম্পর্কে কিছু ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তা সম্পর্কে বিন্দুমাত্রও ইঙ্গিত দিতে রাজি নন ইস্টবেঙ্গলকে পরপর দুবার জাতীয় লিগ এবং আশিয়ান কাপ দেওয়া কোচ। ‘সেগুলো মিডিয়ার সঙ্গে আলোচনা করব না বা বলবও না। খালেদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, হবেও। ফুটবলাররা আসুক, কাজে নামি। আর হ্যাঁ, আজকের পর আমিও আর কোনও কথাই বলব না সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। কোচ হিসাবে সেই দায়িত্বও পালন করবে খালিদই।’

    সমর্থকদের উদ্দেশে কী বার্তা তা হলে? টানা ১৪ বছরের খরা এই মুহূর্তে কেটে যাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। কারণ, সামনে আই লিগ নয়, সুপার কাপ। নকআউট প্রতিযোগিতা। প্রথম ম্যাচে হেরে গেলেই বিদায় প্রতিযোগিতা থেকে। বাড়তি চ্যালেঞ্জ নয়? তা-ও এমন একটা দলের হয়ে যারা যখন দরকার ছিল জ্বলে ওঠার, পারেনি বলেই হারিয়েছিল আই লিগ জেতার সুযোগ?

    সুভাষ আগের মতোই যুদ্ধং দেহি মনোভাবে। ‘চ্যালেঞ্জ আগেও নিয়েছি, বড় বড় চ্যালেঞ্জই। হ্যাঁ, এই মুহূর্তে এটাই সবচেয়ে বড়, নিঃসন্দেহে। জীবনে চ্যালেঞ্জ ছাড়া আর থাকেটা কী? কিন্তু আশিয়ান খেলতে যাওয়ার আগেও তো চ্যালেঞ্জ ছিল, বিরাট চ্যালেঞ্জ, তাই না? পাতা ওল্টাই না, অতীতে বাঁচতেও রাজি নই। আমার কাছে আজই সব। আমাদের সবার কাছেই এখন নতুন পরীক্ষা এই নতুন প্রতিযোগিতা। যারা আছে তাদের নিয়েই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে মাঠে। খালিদ থেকে গেল কেন? জানে, প্রমাণ করার আছে ওরও। পাশে থাকছি। সমর্থকদের ক্ষোভের সঙ্গত কারণ আছে। ইস্টবেঙ্গলের মতো ক্লাব ট্রফি ছাড়া বাঁচতে পারে না। তবে সব ম্যাচেই যে খারাপ খেলেছিল, এমনও তো নয়। দেখা যাক,’ বললেন সুভাষ। ইস্টবেঙ্গল গত বছর জীবনকৃতি সম্মান দেওয়ার পর এবার টিডি হিসাবে দায়িত্ব পেয়ে যাঁর মনে হচ্ছে ‘বৃত্ত সম্পূর্ণ’!

    ছবি সৌজন্য - ইস্টবেঙ্গল সমাচার

    No comments