• Breaking News

    ট্রফিজয়ের টক্কর বেঙ্গালুরু আর চেন্নাইয়িনের

    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ


    বেঙ্গালুরু, ১৬ মার্চ – চতুর্থ হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ফাইনালে জিততে হলে বেঙ্গালুরু এফসিকে ইতিহাসকে ভুল প্রমাণ করে নতুন ইতিহাস লিখতে হবে।

    শ্রী কান্তিরভা স্টেডিয়ামে শনিবার হিরো আইএসএল-এর ফাইনালে চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরু শুরু করবে ফেভারিট হিসাবেই। কিন্তু বেঙ্গালুরুর সমর্থকরা মনে রাখলে ভাল করবেন যে, আইএসএল-এর ইতিহাসে ফাইনালে কখনও কোনও আয়োজক দল জেতেনি। ২০১৫ সালে এফসি গোয়া এবং ২০১৬ সালে কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল হৃদয়বিদারক যন্ত্রণা নিয়ে। তার সঙ্গেই জুড়তে হবে আরও একটি তথ্য। ২০১৪ সালে হিরো আইএসএল শুরু হওয়ার পর থেকে লিগপর্বের শেষে তালিকায় শীর্ষে থাকা দল কখনও খেতাব জেতেনি।

    তবে, দাক্ষিণাত্যের এই তথাকথিত ডার্বির আগে এগুলো অবশ্যই ভাবাচ্ছে না বেঙ্গালুরুর সমর্থকদের। শ্রী কান্তিরভা স্টেডিয়ামে একটি আসনও ফাঁকা রাখছেন না নীল-জার্সির সমর্থকরা। শেষ বাঁশি বাজার আগে পর্যন্ত সরব সমর্থন দিতে হাজির থাকছেন তাঁরা, এই আশায় যে, প্রতিযোগিতা যেভাবে ঘরের মাঠে শুরু করেছিলেন, শেষও করবেন একইভাবে, দাপটে।

    ‘এএফসি কাপের কারণে আমাদের মরসুম শুরু হয়েছিল অন্য দলগুলির তুলনায় আগেই। আমরা চেষ্টা করেছি সাফল্য পেতে। এখন বাকি একটাই ধাপ। কিন্তু এই পর্বে পৌঁছেও যথেষ্ট খুশি, সবার জন্যই। সমর্থকরা সবসময়ই আমাদের সঙ্গে থেকেছেন। শনিবার সত্যিই বড় ম্যাচ, বেশ শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে। চেন্নাইয়িন বারবারই দেখিয়েছে ওদের উৎকর্ষ। মোটেও সহজ ম্যাচ আশা করছি না। মরসুমের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে শনিবার,’ বলেছেন বেঙ্গালুরুর কোচ আলবের্ত রোকা।

    বহু দিক দিয়েই বেঙ্গালুরু এবারের আইএসএলে সেরা দল। ৩৮ গোল করেছে, যা এফসি গোয়ার পর, দ্বিতীয়। তার চেয়েও ভাল তাদের রক্ষণের রেকর্ড। ২০ ম্যাচে মাত্র ১৭ গোল হজম করেছে তারা, যা শেষ যুদ্ধেও এগিয়ে রাখছে তাদের। বেঙ্গালুরুর গোলরক্ষক গুরপ্রূত সিং সান্ধুকে পেরিয়ে গোল পাওয়া সব দলের কাছেই প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। বেঙ্গালুরুর ফুটবলাররা তাই আত্মবিশ্বাসী থাকতেই পারেন ভেবে যে, আরও একটি ম্যাচেও তাঁরা ধরে রাখতে পারবেন তাঁদের ছন্দ। মনে রাখতেই হবে, শেষ দশটি খেলায় তারা অপরাজিত, যার মধ্যে জিতেছেন আটটি ম্যাচে।

    তবে তার মানে এই নয় যে, সবই বেঙ্গালুরুর পক্ষে। চেন্নাইয়িন এফসিও আত্মবিশ্বাস পেতে পারে এই তথ্যে যে, নিজেদের মাঠে লিগপর্বে তারা বেঙ্গালুরুকে হারিয়েছিল ২-১ ব্যবধানে, ধনপাল গণেশের শেষ মিনিটের গোলে।

    জন গ্রেগরির দল কিন্তু বারবারই নিজেদের প্রমাণ করেছে এবং দেখিয়ে দিয়েছে, যে-ম্যাচে জয় পাওয়া জরুরি সে-ম্যাচ কী করে জিততে হয়। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বই ধরুন। গোয়ার অত্যন্ত বিপজ্জনক জুটি ফেরান কোরোমিনাস এবং মানুয়েল লানজারোতেকে আটকে দিয়েছিলেন তাঁরা। ফাইনালেও সুনীল ছেত্রী এবং মিকু জুটির জন্য একই রকম কিছুর আশায় থাকবেন চেন্নাইয়ের সমর্থকরা। প্রসঙ্গত, বেঙ্গালুরুর ৩৮ গোলের মধ্যে সুনীল-মিকুর মিলিত গোলসংখ্যা ২৭!

    ‘আত্মবিশ্বাসী হয়েই ফাইনালে মাঠে নামবে চেন্নাইয়িন। আমরা জানি যে এই মাঠে আমরা আগেও জিতেছি, আর বেঙ্গালুরুকে বেঙ্গালুরুর মাঠে আমরা ছাড়াও হারিয়েছে অন্য দলও। নিজেরা যা অর্জন করেছি তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা চেন্নাইয়িন, আমরা কোনও দলকেই ভয় পাই না,’ বলেছেন গ্রেগরি, ফাইনালের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে।

    গ্রেগরির হাতে এমন কয়েকজন ফুটবলার যারা আগে খেলেছেন আইএসএল ফাইনালে এবং জিতেওছেন, সব প্রতিকূলতা পেরিয়েই। মেলসন আলভেস, রাফায়েল অগুস্তো, জেজে লালপেখলুয়া, করণজিৎ সিং ছিলেন ২০১৫ সালের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন দলে। ২০১৫য় সেই গোয়ার মতোই এবারও বিপক্ষের মাঠে আরও একবার সেই ফাইনালের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে আগ্রহী চেন্নাইয়িন।

    No comments