• Breaking News

    অধিনায়ক সুনীলের হ্যাটট্রিকে ফাইনালে বেঙ্গালুরু

     

    বেঙ্গালুরু এফসি – ৩   এফসি পুনে সিটি – ১


    (সুনীল ১৫, ৬৫ পে., ৮৯)  (লুকা ৮২)


    প্রথম পর্ব : ০-০


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ


     

    বেঙ্গালুরু, ১১ মার্চ : অভিষেক মরসুমেই ফাইনালে বেঙ্গালুরু এফসি। ঘরের মাঠ শ্রী কান্তিরভা স্টেডিয়ামেই চতুর্থ হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করলেন অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী, সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক করে। নিজেদের দূর্গে, প্রথম সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বে পুনে সিটি এফসি-কে উড়িয়ে। প্রথমবার হিরো আই লিগে খেলতে নেমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বেঙ্গালুরু। এবার তাদের সামনে সুযোগ প্রথমবার হিরো আইএসএল-এ খেলতে এসেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার!

    ঘরের মাঠে বেঙ্গালুরুকে এগিয়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক সুনীল, ১৫ মিনিটেই। তাঁর পাস থেকেই বল পেয়েছিলেন ডানপ্রান্ত থেকে উঠে আসা উদান্ত সিং। সেন্টার রেখেছিলেন উঁচু করে বক্সে। পেছন থেকে ততক্ষণে পৌঁছে গিয়েছিলেন সুনীল। কিন্তু জোরালো হেড গোলে রাখার জায়গায় নয়। উঁচু হয়ে আসা বলে কোনও রকমে হেড রেখেছিলেন তিনকাঠিতে। পুনের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ এগিয়ে এসেছিলেন আর তাঁর সামনেই ছিলেন মিকু। গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করতে মিকু লাফিয়েও বলে মাথা ছোঁয়াননি। ফলে ভুল করতে বাধ্য হন আগুয়ান কাইথ। বল তাঁর হাত এড়িয়ে গোলে। চতুর্থ হিরো আইএসএল-এ সুনীলের ১১তম গোল এবং ফাইনালে পৌঁছনোর লক্ষ্যে সেরা সময়েই। আর সেই গোলের সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে যায় যে, এই সেমিফাইনাল অন্তত টাইব্রেকারে গড়াচ্ছে না!

    ফুটবলে হয়ত এমনই হয়, যে হেডে গোল হওয়ার আশা কম, গোল পাওয়া যায় আবার যে হেড থেকে গোল পাওয়া উচিত, বাইরে যায়। ৪২ মিনিটে সুনীলের অনবদ্য হেড প্রায় পোস্ট ছুঁয়ে বাইরে। বাঁদিক থেকে কর্নার নিয়েছিলেন দীর্ঘদেহী অস্ট্রেলীয় এরিক পার্টালু। ভারতের অধিনায়ক জোরালো হেড নিয়েছিলেন দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে। অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট। তার খানিক আগে আবারও সুনীলের হেড থেকেই পেনাল্টি পেতেও পারত বেঙ্গালুরু। উদান্ত আবারও বল পাঠিয়েছিলেন বক্সে, ঝাঁপিয়ে হেড দিয়েছিলেন সুনীল যা আদিল খানের হাতে লেগেছিল। কিন্তু রেফারি মনে করেননি আদিল হাত দিয়ে বল থামিয়েছিলেন। তাই পেনাল্টি দেননি।

    কিন্তু ৬৪ মিনিটে আর কোনও উপায় ছিল না রেফারির কাছেও, পেনাল্টি দেওয়া ছাড়া। সাহিল পানওয়ারের জায়গায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে এসেছিলেন সার্থক গোলুই, ঘটনাচক্রে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে যিনি শেষ গোল করেছিলেন, কান্তিরভাতেই। সেই সার্থকই বক্সের মধ্যে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছিলেন সুনীলকে। নিশ্চিত পেনাল্টি। এবং সুনীলের পানেনকা! ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত করতে হবে এমন সময়ে এধিনায়ক নিজেই এগিয়ে গিয়েছিলেন। আর বিশাল কাইথকে বাঁদিকে পড়ে যেতে দিয়ে একেবারে মাঝখান দিয়ে আলতো চিপ করে জালে রেখেছিলেন বল। এবারের আইএসএল-এ তাঁর ১২তম গোল।

    বেঙ্গালুরুর হয়ে তৃতীয় গোলের সুযোগ এসেছিল রাহুল ভেকের সামনে, আইএসএ-এর ইতিহাসে যিনি এখনও গোলের খাতা খোলেননি। পেনাল্টির ঠিক পরপরই ৬৮ মিনিটে পুনে বক্সের বাইরে ডানদিকে বল বুকে রিসিভ করে জোরালো ভলি নিয়েছিলেন ডানপায়ে। বল বার কাঁপিয়ে ফিরে এসেছিল।

    ম্যাচের প্রথম সুযোগ অবশ্য পেয়েছিল পুনেই। ৪ মিনিটে এমিলিয়ানো আলফারো বল বাড়িয়েছিলেন দিয়েগো কার্লোসকে, বেঙ্গালুরু বক্সে। শটও নিয়েছিলেন দিয়েগো যা এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তনও করেছিল। কিন্তু তৎপর ছিলেন গুরপ্রীত সিং। আগের ৩৩৮ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ড ধরে রাখেন, শুরুতেই পিছিয়ে পড়তে দেননি বেঙ্গালুরুকে। কিন্তু সেই রেকর্ড অবশেষে ভেঙে যায় ম্যাচের ৮২ মিনিটে, জোনাথন লুকার দুরন্ত ফ্রি কিকে। ৭১ মিনিটে মাঠে এসেছিলেন লুকা। বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি কিক পেয়েছিল পুনে। লুকার শট আটকানোর কোনও সুযোগই ছিল না গুরপ্রীতের কাছে। ম্যাচে তখন বিরাট উত্তেজনা, কারণ, ড্র করতে পারলে অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে পুনেই চলে যাবে ফাইনালে।

    কিন্তু অধিনায়ক সুনীল বেছে নিয়েছিলেন সেই সময়কেই, নিজেকে অন্য উচ্চতায় তুলে নিয়ে যেতে। দিমাস দেলগাদোর উঁচু করে পাঠানো বল পুনে রক্ষণের অফসাইড ফাঁদ এড়িয়ে নিজের দখলে নিয়েছিলেন সুনীল। কাছের পোস্টেই বিশালকে পরাস্ত করে নিজের হ্যাটট্রিক, আইএসএল-এ ১৩তম গোল করে কালু উচে ও মানুয়েল লানজারোতেকে ছুঁয়ে ফেলে দলের ফাইনালে পৌঁছনো নিশ্চিত করেন ম্যাচের নায়ক। বেঙ্গালুরুর পক্ষে এখন ঘরের মাঠে ফাইনাল খেলার বাড়তি সুবিধাও!

    No comments