• Breaking News

    গোল খেতে চায় না চেন্নাই, গোল দিতে চায় গোয়া!

     

    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ


    চেন্নাই, ১২ মার্চ – চেন্নাইয়িন এফসি আর এফসি গোয়ার শত্রুতায় সাম্প্রতিকতম অধ্যায় লেখা হবে মঙ্গলবার যথন চতুর্থ হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফিরতি পর্বে দুই দল পরস্পরের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে।

    ২০১৫ সালের হিরো আইএসএল ফাইনালের পর থেকে এই দুই দলের সাক্ষাৎ মানেই যুদ্ধের আবহ! চেন্নাইয়িন সেই ফাইনালে জিতেছিল, শেষ দিকে রূপকথার মতো ফিরে এসে। এবার তাদের সামনে আবারও একবার ফাইনালে পৌঁছনোর লক্ষ্য, সেই একই গোয়ার বিরুদ্ধে।

    প্রথম পর্বে এই ম্যাচ গোয়ায় অমীমাংসিত ছিল ১-১। অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা থাকায় চেন্নাই বাড়তি আত্মবিশ্বাসী থাকতেই পারে।

    [caption id="attachment_4113" align="alignleft" width="1344"] অনুশীলনে এফসি গোয়ার ফুটবলাররা। ছবি - আইএসএল[/caption]

    ‘যোগ্য দল হিসাবেই গোয়া থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছিলাম। কষ্ট করেই পেতে হয়েছিল অ্যাওয়ে গোল। সুবিধা ঠিকই, কিন্তু নামমাত্র। এমন সুবিধা যা নিয়ে বেশি ভাবতে একেবারেই রাজি নই। জানি, মঙ্গলবার গোল না খেলে আমরাই পৌঁছব ফাইনালে। কিন্তু যদি ওরা গোল করে ফেলে, সব সমীকরণই পাল্টে যাবে। অনেক রকম সম্ভাবনা তখন,’ বলেছেন চেন্নাইয়িনের কোচ জন গ্রেগরি, ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে।

    তবে, গোল না খাওয়ার ব্যাপারে জোর দেবেন অবশ্যই, জানাতে ভোলেননি গ্রেগরি। আর যদি গোয়া গোল পেয়ে যায়, তাঁর দল পরিকল্পনা পাল্টে ফেলবে।

    ‘বেশ কয়েকবার ওদের বিরুদ্ধে খেলেছি। জানি গোয়ার কোন ফুটবলার সবচেয়ে বিপজ্জনক। তবে আমাদের জালে বল না গেলেই ফাইনালে পৌঁছব। তাই ওটাই আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে। কিন্তু অন্য সম্ভাবনাগুলোর জন্যও রীতিমতো তৈরি আমরা। হ্যাঁ, টাইব্রেকারেও যেতেই পারে ম্যাচ,’ মনে করছেন তিনি।

    ফাইনালের আগে এই শেষ ম্যাচে গোয়া হয়ত ফেভারিট নয় অনেকের কাছেই, কারণ চেন্নাইয়ের দুর্ভেদ্য রক্ষণ। এবারের আইএসএল-এ চেন্নাই একমাত্র দল যারা চারজনের রক্ষণে তিনজম বিদেশি ফুটবলারকে খেলিয়েছে। আর সেই বিদেশিরা প্রত্যেকেই দুর্দান্ত খেলেছেন গোয়ার বিপজ্জনক জুটি ফেরান কোরোমিনাস ও মানুয়েল লানজারোতেকে আটকাতে।

    কড়া পাহারায় থাকা সত্ত্বেও লানজারোতে কিন্তু গোল করেছিলেন সেমিফাইনালের প্রথম পর্বে। তা ছাড়াও, আগে এই মাঠে গোয়ার যা পারফরম্যান্স তাতে ফুটবলাররা মনে করতেই পারেন যে, যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে তাদেরও, ফাইনালে যাওয়ার। লিগেই প্রথম ৪৫ মিনিটে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে তিন গোল করেছিল গোয়া।

    ‘আমরা খুব ভাল করেই জানি যে বিরাট শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলা। এই মাঠে যখন ওদের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম, দুটি অর্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি দলের বিরুদ্ধে খেলতে হয়েছিল যেন! বিরতিতে  আমরা এগিয়ে ছিলাম ৩-০। দ্বিতীয়ার্ধে ২-০ জিতেছিল ওরা। তবে, আমরা আমাদের মতোই খেলব যা আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি,’ বলেছেন গোয়ার কোচ সের্খিও লোবেরা।

    গোয়ার স্বস্তি, নির্বাসন কাটিয়ে তিনকাঠির তলায় ফিরছেন নবীন কুমার, শেষ তিন ম্যাচে যিনি দুবার কোনও গোল খাননি আর জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে মাঠ ছেড়েছিলেন লাল কার্ড দেখে। সেই কারণেই খেলতে পারেননি সেমিফাইনালের প্রথম পর্বে। মিডফিল্ডার উগো বৌমোসও ওই একই ম্যাচে খোঁড়াতে খোঁড়াতে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তিনিও সুস্থ এখন। লোবেরা জানিয়ে দিয়েছেন, দুজনেই খেলতে পারেন।

    ‘যেভাবে এতদিন খেলে এসেছি সেভাবেই খেলব, জেতার জন্যই খেলব। ঠিক যেমন আমরা খেলেছিলাম জামশেদপুরের বিরুদ্ধে যেখানে ড্র হলেও আমরা সেমিফাইনালে পৌঁছে যেতাম, কিন্তু জিততে চেয়ে মাঠে নেমে জিতেই ফিরেছিলাম,’ বলেছেন লোবেরা।

    No comments