• Breaking News

    গোয়ার ফুটবলপ্রেম ফিরিয়ে আনল লোবেরার দল

    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ


    গোয়া, ১৪ মার্চ – ফাইনালে হারের যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি, ২০১৫ সালে। তার পরের বছর লিগপর্বে সবার শেষে। হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে এফসি গোয়ার টানা দুবছরের হতাশার ছবিটা যেন বদলে দিল সের্খিও লোবেরার দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল, চতুর্থ মরসুমে।

    না, এফসি গোয়া ফাইনালে পৌঁছতে পারেনি। বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুতে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জিত নয়। হলে, স্বপ্নের লড়াই দেখা যেত নিঃসন্দেহে। এমন দুটি দলের লড়াই হত যারা বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে আক্রমণে যাওয়ায় বিশ্বাসী। কিন্তু, সেমিফাইনালে হেরে গেলেও গোয়ার ফুটবলপ্রেমীদের মন নতুন করে জিতে নিয়েছে তাদের এবারের পারফরম্যান্স।

    ভারতের গোয়ায় ফুটবল যে মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, সন্দেহ ছিল না। তাই ২০১৪ সালে হিরো আইএসএল শুরুর সময় থেকেই এফসি গোয়ার পেছনে ছিল গোয়ার মানু্ষের তুমুল সমর্থন।

    [caption id="attachment_4140" align="alignleft" width="1440"] লোবেরার এফসি গোয়া আবার ফিরিয়ে এনেছে সমর্থকদের গ্যালারিতে। ছবি - আইএসএল[/caption]

    আইএসএল-এ অবশ্য গোয়ার সাফল্যের রথ একই গতিতে ছোটেনি কখনও। প্রথমবার সেমিফাইনালে হারতে হয়েছিল। দ্বিতীয়বার আরও একধাপ উঠেছিল গোয়া, ব্রাজিলের কিংবদন্তি জিকোর প্রশিক্ষণে। ট্রফি প্রায় ছুঁয়েই ফেলেছিল গোয়া, কিন্তু স্তিভেন মেনদোজা আর চেন্নাইয়িন এফসি, একেবারে শেষ মুহূর্তে ছিনিয়ে নিয়েছিল সেই ট্রফি, ২০১৫ সালে। ঘরের মাঠ ফতোরদায় হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল গোয়ার সমর্থকদের।

    সবচেয়ে খারাপ গিয়েছিল অবশ্য তৃতীয় মরসুম, ২০১৬ সালে। আবেগপ্রবণ গোয়ার সমর্থকরা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি লিগ তালিকায় সর্বশেষ স্থান। জিকো, যিনি প্রায় পূজিত হতেন গোয়ায়, বাধ্য হয়েছিলেন চলে যেতে, সেই পারফরম্যান্সের পর।

    ২০১৭-১৮ মরসুম তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল গোয়ার কাছে, নিজেদের হৃত সম্মান পুনরুদ্ধার এবং সমর্থকদের আস্থা ও ভালবাসা ফিরিয়ে আনার জন্য। লোবেরা হয়ত খেতাব এনে দিতে পারেননি, কিন্তু সফল হয়েছেন দ্বিতীয় কাজে। চারবারের আইএসএল ইতিহাসে তিনবার সেমিফাইনালে পৌঁছনো কখনও কম কৃতিত্ব হতে পারে না।

    ‘শুরুতে যখন এসেছিলাম, পরিষ্কার বলে দিয়েছিলাম, আক্রমণাত্মক ঘরানার ফুটবল খেলাতে চাই। তাই, মরসুম শেষে বলতেই পারি, আমার দল যেহেতু গোল পেয়েছে প্রচুর, নিজেদের কাজটা অনেকটাই ঠিকঠাক করতে পেরেছি,’ বলেছেন লোবেরা।

    তাঁর দল এবারের চতুর্থ হিরো আইএসএল-এ সবচেয়ে বেশি গোল করেছে – ৪৩টি, ২০ ম্যাচে। স্পেনীয় ফেরান কোরোমিনাস এবং মানুয়েল লানজারোতের জুটিতেই এসেছিল অবিশ্বাস্য ৩১ গোল। ২০১৪ সালে মোট ২১ গোল নিয়ে গোয়া ছিল সেবারের দ্বিতীয় সেরা আক্রমণাত্মক দল। এমনকি, ২০১৬-র খুব খারাপ পারফরম্যান্সের বছরে, যেবার লিগে সবার শেষে ছিল জিকোর দল, পঞ্চম সেরা আক্রমণ ছিল গোয়ারই।

    জিকো তো একবার বলেও ছিলেন যে, আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঘরানাটাই প্রতিনিধিত্ব করে গোয়ার মানুষের। এই মরসুমে লোবেরার দল আবার সেই আক্রমণাত্মক ফুটবলকে নিয়ে গিয়েছিল অন্য উচ্চতায়, যার সেরা প্রমাণ, অন্য যে কোনও মাঠের তুলনায় সবচেয়ে বেশিবার গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই কোনও আসন ফাঁকা ছিল না বেশিরভাগ ম্যাচেই।

    No comments